ফরিদপুর সদর

ফরিদপুরে ভারতীয় নিন্মমানের পেঁয়াজ বীজে বাজার সয়লাব

কামরুজ্জামান সোহেল।
ফরিদপুরের বাজার গুলোতে এখন নিন্মমানের পেঁয়াজ বীজে সয়লাব হয়ে গেছে। দেশীয় বীজের তুলনায় দামে কম থাকায় কৃষকেরা এসব বীজ কিনছেন। অন্যদিকে, সরকারের প্রনোদনা হিসাবেও কৃষকদের ভারতীয় বীজ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে এসব পেঁয়াজ বীজ কিনে চরমভাবে প্রতারিত হচ্ছে কৃষকেরা। কৃষকেরা জানান, ভারতীয় পেঁয়াজ বীজে কোন ফলন হয়না। এসব বীজ থেকে যে পাতা বের হয় তা সবজি হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কৃষকদের অভিযোগ, ভারতীয় পেঁয়াজ বীজ কিনে তা খেতে লাগানোর পর অধিকাংশ খেতই নষ্ট হয়ে যাবে। এ থেকে কোন ফলন পাবার সম্ভবনা নেই। অভিযোগ রয়েছে, দেশীয় পেঁয়াজ বীজ না কিনে বিএডিসি’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ভারতীয় বীজ কিনে তা প্রনোদনা হিসাবে কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করছে। তাছাড়া অনেক বীজ ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় চোরাপথে ভারতীয় নিন্মমানের বীজ এনে তা দেশীয় বীজের সাথে মিশিয়ে দেশীয় বীজ হিসাবে বিক্রি করছে। ফলে আগামী মৌসুমে দেশে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে ধ্বস নামার আশংকা করছেন চাষীরা। ভারতীয় পেঁয়াজ বীজের কারনে ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় পেঁয়াজ বীজ চাষীরা। ফরিদপুরের দেড় শতাধিক পেঁয়াজ বীজ চাষী আগামীতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ না করার কথা জানিয়েছেন।
পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনকারী চাষী, স্থানীয় কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সারাদেশের মধ্যে আশি ভাগ পেঁয়াজ বীজ উৎপাদিত হয় ফরিদপুর জেলায়। এ জেলার বীজ উৎকৃষ্টমানের এবং বীজ থেকে ফলন বেশী পাওয়া যায়। ফলে এ জেলার বীজের চাহিদা রয়েছে সারাদেশে। গত বছর ফরিদপুর জেলায় রেকর্ড পরিমান পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছিল। এ বছর পেঁয়াজ বীজ লাগানোর মৌসুমে ভারতীয় নিন্মমানের বীজ দখল করে নেয় বাজার গুলো। দেশীয় বীজের তুলনায় দাম একেবারে কম থাকায় অনেক কৃষক না বুঝেই এসব বীজ কিনছেন। জানা গেছে, দেশীয় বীজের দাম প্রতিকেজি ৩ হাজার টাকা। আর ব্যবসায়ীরা ভারতীয় বীজ কিনে আনছেন প্রতিকেজি ৪শ থেকে ৫শ টাকা। আর এসব বীজ বিক্রি করা হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২২শ টাকায়। ফরিদপুর জেলার একাধিক বীজ ডিলার বিভিন্ন ভাবে ভারতীয় প্যাকেটজাত পেঁয়াজ বীজ এনে তা দেশীয় বীজের সাথে মিশিয়ে বিক্রি করছেন। ফলে বিভিন্ন স্থানের কৃষকেরা এসব বীজ কিনে নিয়ে তা খেতে লাগাচ্ছেন। এছাড়া সরকারের প্রনোদনা হিসাবে কৃষকদের মাঝে দেওয়া হচ্ছে ভারতীয় নিন্মমানের এসব বীজ।
জানাগেছে, সরকার বিএডিসি’র মাধ্যমে ভারত থেকে বীজ এনে তা কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। প্রতিটি ইউনিয়নে ২০ কেজি করে বীজ প্রনোদনা হিসাবে কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। পেঁয়াজ বীজ চাষীদের অভিযোগ, বিএডিসি’র কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ভারতীর বীজ কেনার সাথে যুক্ত রয়েছে। ভারতীয় এসব বীজ কেনার কারনে দেশের পেঁয়াজ বীজ চাষীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সদর উপজেলার অম্বিকাপুরের সোহরাব মন্ডল, ভাষানচরের আলমাস মন্ডল, ভাঙ্গা উপজেলার ইছাহাক মোল্লা, সদরপুরের জুলহাসসহ একাধিক পেঁয়াজ বীজ চাষী অভিযোগ করে বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ বীজে বাজার সয়লাব হয়ে গেলেও কতৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। তাদের দাবী, ভারতীয় বীজ থেকে কোন ফলন হবেনা। এটি শুধু পাতা হবে, যা সবজি হিসাবে ব্যবহার করা যাবে। অনেক কৃষক না বুঝে এবং দাম কম থাকায় বীজ কিনে খেতে লাগাচ্ছেন। যা থেকে তারা কোন ফলনই পাবেন না। তাদের দাবী, ভারতীয় বীজ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে তাতে করে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়বে বীজ চাষীরা। তাছাড়া আগামীতে দেশীয় পেঁয়াজ বীজের সংকট দেখা দেবে। ফলে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাঁধাগ্রস্থ হতে পারে।
এ বিষয়ে ফরিদপুর বিএডিসি (বীজ) কর্মকর্তা সফিকুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জেলা কৃষি কর্মকর্তা ভালো বলতে পারবেন।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জিয়াউল হকের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *