30 Srabon 1429 বঙ্গাব্দ সোমবার ১৫ অগাস্ট ২০২২
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » নগরকান্দা » নানা সমস্যা নিয়ে ধুঁকছে গোয়ালদী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি

নানা সমস্যা নিয়ে ধুঁকছে গোয়ালদী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি


বিশেষ প্রতিবেদক।
চরম অব্যবস্থাপনা আর নানা সমস্যা নিয়েই চলছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার গোয়ালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। যেখানে নেই খাবার পানি ও স্যানিটাইজেশন ব্যবস্থা। এমনকি শ্রেনীকক্ষে নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। তাছাড়া বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ক্ষুদ্র মেরামত বাবদ সরকারি বরাদ্দ থাকলেও এখানের উন্নয়ন শুধু কাগজে কলমে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি ৬২ শতাংশ জমির উপর নির্মিত। এখানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। স্কুলটিতে পাঠদান করছে মাত্র ৪ জন শিক্ষক। সবচে মজার বিষয় হচ্ছে বিদ্যালয়টির ভবনের গায়ে ৩ ধরনের ক্রমিক নং লেখা নিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে লেখা রয়েছে ৪৪, ৪২ ও ৭২ নং গোয়ালদী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির কোন পরামর্শ, স্বাক্ষর ছাড়াই ভুয়া বিল ভাউচার করে লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ সংক্রান্ত নানা অভিযোগে প্রধান শিক্ষক এডিএম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত ২ বছর ধরে বিদ্যালয়ের একমাত্র নলকূপটি নষ্ট রয়েছে। যার কারনে খাবার পানির কোন ব্যবস্থা নেই এখানে। বাথরুম থাকলেও সেখানে নেই পানির ব্যবস্থা। এতে বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের আশপাশের বাড়িতে গিয়ে পানিপান সহ বাথরুমের কাজ সারতে হয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের স্কুলে পানি খাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই, বাথরুম থাকলেও সেখানে পানি নেই। তাই আমাদের বাধ্য হয়ে আশপাশের বাড়িতে যেতে হয়। আমাদের স্কুলে খেলাধুলা করার মতন সামগ্রী নেই। হেডস্যার আমাদের কিছুই দেয় না।
বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সানিয়া আক্তার বলেন, প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন। কোন প্রকার কাজ না করে গত ২০২০-২১ অর্থ বছরের বরাদ্দকৃত ক্ষুদ্র মেরামতের টাকা সহ বিভিন্ন উন্নয়ন খাতের টাকা আত্মসাৎ করছেন। আমার সাথে কোন পরামর্শ ছাড়াই তিনি ইচ্ছা স্বাধীন ভাবে বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। এমনকি আমার স্বাক্ষর না নিয়ে বিভিন্ন বিল ভাউচার করে কোন হিসাব দেন না কমিটির কাছে ।
স্থানীয় অভিভাবক লিমা আক্তার বলেন, গত ২ বছর ধরে আমাদের স্কুলে কোন অভিভাবক সমাবেশ হয় না। এতে আমাদের বাচ্চারা তাদের সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এর সমাধান চাই।
অভিভাবক রেজাউল করিম বলেন, আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে, বেশ কয়েকদিন আগে ক্লাস চলাকালীন সময় একটি ফ্যান ভেঙ্গে পড়ে শিক্ষার্থীদের উপর। ভেঙ্গে যাওয়া ফ্যানটি এখনো মেরামত করা হয়নি, বাচ্চারা গরমে ক্লাস করতে পারে না। তাছাড়া ক্লাস রুমে আলোর জন্য কোনো বাতিও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন বলেন, গত দুই বছর ধরে স্কুলে কোন উন্নয়নমূলক কাজই হয়না। স্কুলের মাঠে বড় বড় গর্ত। এতে বাচ্চারা অনেক ঝুঁকিতে খেলাধুলা করে। এমনকি স্কুলের বাথরুমের পাইপ ফেটে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এতে এলাকাবাসীর খুবই সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এডি এম দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার নামে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা, বাথরুমের মটর বজ্রপাতের কারনে নষ্ট রয়েছে। আমি স্কুলের কোনো টাকা আত্মসাৎ করিনি। সভাপতির বদলে আমি সহ-সভাপতির স্বাক্ষর নিয়ে কাজ করেছি। এবং সকলের পরামর্শ নিয়ে আমি কাজ করি।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন ইসলাম বলেন, আমরা অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করেছি। অভিযোগের বেশ কিছু সত্যতা পেয়েছি। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ক্ষমাচেয়েছেন এবং অসমাপ্ত কাজগুলো আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
নগরকান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কাজী রাশেদ মামুন বলেন, একটি বিদ্যালয়ে তিনটি ক্রমিক নম্বর থাকার কথা না। প্রধান শিক্ষকের অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে। তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন...

নগরকান্দা খাদ্য গুদামে ৬০ টন পচা চাল নিয়ে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুরের নগরকান্দা খাদ্য গুদামে আনা তিন ট্রাক নিন্মমানের পচা চাল আটকে দিয়েছে স্থানীয়রা। …

নগরকান্দায় টিসিবি’র পণ্য দিয়ে চেয়ারম্যান করলেন ভুড়িভোজের আয়োজন

বিশেষ প্রতিবেদক ফরিদপুরের নগরকান্দায় টিসিবি’র তেল, ডাল ও চিনি নিয়ে এক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ …