6 Ashin 1428 বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১
Home » এক্সক্লুসিভ » বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার গুঞ্জনে তোলপাড়

বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুরের আসামীকে ছাত্রলীগের সভাপতি করার গুঞ্জনে তোলপাড়

বিশেষ প্রতিবেদক।
আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর ও ডাকাতি, হামলা, ভাংচুরসহ ৭ মামলার আসামী মেহেদী হাসান নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হচ্ছেন এমন গুঞ্জনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ডাকাতি মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো মেহেদী হাসানের সভাপতি করা হচ্ছে এমন খবরে খোদ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।


স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সর্বোচ্চ পদ বাগিয়ে নিতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার সুপারিশে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন ৭ মামলার আসামী মেহেদী হাসান। ইতোমধ্যে ‘সবুজ সংকেত’ মিলেছে মেহেদীর হাসানের। প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার সুপারিশসহ জেলা ছাত্রলীগের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। যে কোন সময় সেই তালিকা অনুযায়ী কমিটি ঘোষনা হতে পারে। আর জেলা ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে পাঠানো তালিকাটি ফাঁস হলে তোলপাড় শুরু হয়। উপজেলা ছাত্রলীগের ‘ক্লিন ইমেজের’ ছাত্রনেতাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করা হয়। পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নতুন কমিটিতে পদ প্রত্যাশীদের জীবন বৃত্তান্ত আহবান করা হয়। সেই সূত্র ধরে অনেক নেতাই নতুন কমিটিতে পদ পেতে জীবন বৃত্তান্ত জমা দেয়। কিন্তু নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নগরকান্দার প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতা এলাকায় বিতর্কিত ও নানা মামলার আসামী মেহেদী হাসানকে সভাপতি করার সুপারিশ পাঠায় জেলা ছাত্রলীগের কাছে। আর তাতেই ক্ষোভ শুরু হয়। নামপ্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রনেতা জানান, মেহেদী হাসান ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করে এবং তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা চালায়। সেই হামলার সময় সে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করে। আওয়ামী লীগ অফিসে হামলার মামলার আসামী হয়ে সে পলাতক রয়েছে। এছাড়া ডাকাতি, মাদক, হামলা-ভাংচুর সহ ৭টি মামলা রয়েছে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানান, ছাত্রলীগের কমিটিতে এমন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হবেনা যিনি জাতির পিতার ছবি ভাংচুর করার ধৃষ্টতা দেখায় কিংবা ফেরারী আসামী হয়ে পলাতক জীবন যাপন করে। যাকে সভাপতি করার সুপারিশ করা হয়েছে এমন ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়া হলে তা হবে কলঙ্কজনক অধ্যায়।


এ বিষয়ে মেহেদী হাসান সাংবাদিকদের জানান, আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাংচুরের মামলা রয়েছে আমার বিরুদ্ধে। আর কোন মামলা নেই আমার নামে। আমি যাতে কমিটিতে না আসতে পারি সেজন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
নগরকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান জানান, মেহেদী হাসান ও রোমানকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করে জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে বিতকির্ত কাউকে যেন ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া না হয়।


ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তামজীদুল রশিদ চৌধুরী রিয়ান জানান, সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক প্রতিনিধির কাছে আমরা একটি তালিকা চেয়েচিলাম। সেই অনুযাী তিনি একটি তালিকা আমাদের কাছে পাঠিয়েছেন। আমরা যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেবো। কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দলের পদ দেওয়া হবেনা।

আরও পড়ুন...

সালথায় ইউপি সদস্য ইমরুল খানের উপর হামলা 

সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি # ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ইমরুল খান (৪০) এর …

ভিন্ন গ্রুপের রক্ত পুশ করায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে এক প্রসূতি

বিশেষ প্রতিবেদক। চিকিৎসক এবং প্যাথলজি বিভাগের ভুলে ভিন্ন গ্রুপের রক্ত শরীরে পুশ করায় মৃত্যুর সাথে …