এক্সক্লুসিভ ফরিদপুর সদর রাজনীতি

হামলা করে মামলা দিয়ে বিএনপিকে ঘরে রাখা যাবেনা- কিবরিয়া স্বপন

কামরুজ্জামান সোহেল। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত কমিটির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব একে এম কিবরিয়া স্বপন বলেছেন, পেশি শক্তি ও পুলিশকে ব্যবহার করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবেনা। হামলা আর মামলা যতই দেওয়া হোক আমরা রাজপথে থেকে আন্দোলনের মাধ্যমে এ সরকারকে বিদায় করবো। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলা বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটি। আমরা গত দুই মাস আগে আহবায়ক কমিটির দায়িত্ব পেয়েছি। এ দায়িত্ব পাবার পর থেকে দলকে আরো সু সংগঠিত ও শক্তিশালী করতে জেলা পর্যায় ছাড়াও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। সকলের মতামত গুরুত্ব সহকারে নিয়ে আমরা দলকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। যে কোন সময়ের তুলনায় বিএনপি ফরিদপুর জেলায় সু সংগঠিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলন সংগ্রাম গুলোতে নেতা-কর্মীদের বিপুল উপস্থিতিই প্রমান করে বিএনপি আগের তুলনায় অনেক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের চাঙা রাখতে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কর্মসূচি আমরা পালন করছি। তবে, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও পুলিশের কারনে অনেক সময় আমরা কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছি। তারপরও আমরা আমাদের কর্মসূচি সফল করতে পিচপা হইনি। কিবরিয়া স্বপন বলেন, বর্তমান সরকারকে গনতান্ত্রিক আন্দোলনের মাধ্যমে বিদায় করতে এবং নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেবার যে আন্দোলন চলছে সেই আন্দোলনে আমরা সব সময় রাজপথে আছি। আপনারা দেখেছেন বিগত কয়েক দিন আগে কয়েকটি প্রোগ্রামে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাসহ স্থানীয় শতাধিক নেতা-কর্মীকে আহত করেছে। শুধু হামলা করেই তারা ক্ষান্ত থাকেনি, আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলাও দিয়েছে। আমাদের নেতা-কর্মীদের নামে হাজারো মামলা রয়েছে। অনেকেই এখন সেই মামলায় জেলে রয়েছেন। আমরা রাজপথে লড়াই সংগ্রামে রয়েছি বলেই আমাদের উপর হামলা আর মামলার ঘটনা বাড়ছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, যত হামলাই আসুক না কেন, যত মামলা দেওয়া হোকনা কেন- আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্য পূরন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবো না। ক্ষমতাসীন দল আগামীতে যে ভাষায় কথা বলবে, যে ভাবে মোকাবেল করবে প্রয়োজনে আমরা তাদের পথ অনুসরন করবো। তরুন এ রাজনীতিবিদ বলেন, দীর্ঘ দুই বছর ফরিদপুর জেলা বিএনপির কোন কমিটি ছিলনা। ফলে একটি শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছিল। আহবায়ক কমিটি গঠন হবার পর দলের নেতা-কর্মীরা এখন বেশ চাঙা। আমরা দলের সকল স্তরের নেতা-কর্মীদের সাথে বসছি। তাদের মতামত নিচ্ছি। প্রতিটি উপজেলার নেতাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করছি। যাতে করে আগামীতে সম্মেলনের মাধ্যমে যে কমিটি আসবে সেখানে দলের ত্যাগী নেতারা যাতে স্থান পায়। দলের মধ্যে গ্রুপিং প্রশ্নে কিবরিয়া স্বপন বলেন, বিএনপি একটি বড় দল। এই দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগীতা রয়েছে। দলে কোন গ্রুপিং নেই, তবে কারো মধ্যে মনোকষ্ট থাকতেই পারে। আমরা সকলকে নিয়েই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনে বিএনপির অবস্থা কি এমন প্রশ্নের জবাবে কিবরিয়া স্বপন বলেন, আমরা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছি। আমরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীকে কোন নির্বাচনে অংশ নেবোনা। তারপরও আমাদের নির্বাচনের প্রস্তুতি রয়েছে। ফরিদপুরের চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে জেলার চারটি সংসদীয় আসনই বিএনপির দখলে থাকবে। কারন হিসাবে তিনি বলেন, ফরিদপুর জেলা হচ্ছে বিএনপির অন্যতম ঘাঁটি। তাছাড়া গত ১৩ বছর ধরে আওয়ামী লীগ মানুষের উপর যে স্টীমরোলার চালাচ্ছে। যে লুটপাট চালাচ্ছে, দিনের ভোট রাতে নিয়েছে এর জবাব ব্যালটের মাধ্যমেই দেবে জনগন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *