মুক্তমত

হঠাৎ কান্নার শব্দ…

হঠাৎ কান্নার শব্দ… তখন দুপুর গড়িয়ে প্রায় বিকেল… দিবানিদ্রার অভ্যেস না থাকায় অপ্রত্যাশিত অবসর কাটানোর মানসে গড়াগড়ি করছিলাম… কান্নার শব্দ ক্রমেই বাড়ছে… ঠাহর করতে পারছিনা, আমাদের বাড়িতে সদস্য সর্বসমেত ৪ জন… আমি, আমার কর্তা, ঢাকা থেকে আগত গত ৯ দিন ধরে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা আমার কনিষ্ঠ পুত্র সৌম্য আর মাইকি, শেষোক্ত জন আমাদের কুকুর ছানা, ওর বয়স ৪ বছর ৩ মাস…

উপরোক্ত চারজনের মধ্যে শব্দ করে কাঁদবার মতো মাইকি ছাড়া কেউ নেই… বারান্দায় গিয়ে দেখলাম তিনি কলাপসিবল গেটের সামনে সটান হয়ে শুয়ে আছেন…ঘরে ফিরে খুব ভালোভাবে খেয়াল করে বুঝলাম সৌম্য’র ঘর থেকেই আসছে শব্দ…. দরজায় কান রাখতেই অনুভব করলাম সে ফোনে কথা বলছে আর বিলাপ করে কাঁদছে….

অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর দরজা খুলল, তখনও কেঁদেই চলেছে, জিজ্ঞেস করে জানলাম তার হল ( জগন্নাথ হল) ক্যাম্পাসে যে কুকুরগুলি ( ১০/১২টা) ছিল সেগুলো নাকি না খেয়ে মারা যাচ্ছে…করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা বাড়ি চলে গেছে বলে হল প্রায় ফাঁকা থাকায় ওদেরকে খেতে দেবার কেউ নেই… সৌম্য নাকি প্রতিদিন নিজের খাবারের টাকা থেকে বাঁচিয়ে ওদের খাওয়ায়….অনেক বুঝিয়ে এবং ওদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য সামান্য কিছু অর্থ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছেলের কান্না থামালাম…রাস্তার অবোধ প্রাণীর প্রতি ওর মায়া দেখে মনটা ভিজে গেল….মনে মনে বললাম, তোর আর বড় হতে হবে হবেনা, এমনই থাকিস…. ওই যত্নের ছিটেফোঁটা বাপ মাকেও দিস সোনা….পাশাপাশি এ যাবৎ করা ওর যে সকল অন্যায় সাময়িক ক্ষমা করেছিলাম তা স্থায়ীকরণ করে দিলাম……

(শিপ্রা গোস্বামীর ফেসবুক থেকে নেয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *