খেলাধুলা

সাহসী আম্পায়ারিংয়ে প্রশংসায় ভাসছেন মুকুল

 
স্পোর্টস ডেস্ক

ভারত-পাকিস্তানের লড়াইয়ে খেলোয়াড়দের মতো চাপে থাকেন অন-ফিল্ড আম্পায়ারও।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটির উত্তেজনা সামলে দিতে হয় সঠিক সিদ্ধান্ত। এমন হাই-ভোল্টেজ ম্যাচ দারুণভাবে পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশি আম্পায়ার মাসুদুর রহমান মুকুল।

গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দিয়েছেন নিখুঁত সিদ্ধান্ত। যা পরিবর্তন হয়নি ভারত-পাকিস্তানের নেয়া রিভিউয়েও। সাহসী আম্পায়ারিংয়ে প্রশংসায় ভাসছেন মুকুল।এশিয়া কাপের গ্রুপপর্বেই পাকিস্তান-ভারতের ম্যাচে আম্পায়ার ছিলেন মাসুদুর রহমান মুকুল। সফলভাবে ম্যাচ পরিচালনা করার সুবাদে সুপার ফোরেও দায়িত্ব পান তিনি।

জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ তিন ওভারে জয়ের জন্য পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৩৪ রান। ইনিংসের ১৮তম ওভারে বল করতে আসেন রবি বিষ্ণই। ওভারের চতুর্থ বলটি ওয়াইডের ইশারা দেন আম্পায়ার মাসুদুর রহমান। ব্যাটারের ব্যাটে বল লাগার সন্দেহে রিভিউ নেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

অনেকক্ষণ বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে রিভিউ যাচাই করে ওয়াইডের সিদ্ধান্তই বহাল রাখেন থার্ড আম্পায়ার।

পাকিস্তান ইনিংসের শেষ ওভারের চতুর্থ বলে আসিফ আলীকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন আর্শদ্বীপ সিং। ভারতীয় বোলারের আবেদনে আউটের সিদ্ধান্ত দেন মাসুদুর রহমান মুকুল। রিভিউ নেন আসিফ আলী। লাভ হয়নি, অন-ফিল্ড আম্পায়ার মুকুলের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে।

হাইভোল্টেজ ম্যাচ পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে মাসুদুর রহমান বলেন, ‘সত্যি কথা বলতে প্রথম ম্যাচে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। তবে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটা ভালোভাবে শেষ করার পর আত্মবিশ্বাস পেয়ে যাই। এছাড়া আমার বন্ধুবান্ধব, শুভাকাক্সক্ষী, কলিগদের থেকে অনেক ইতিবাচক মন্তব্য পেয়েছি। এর বাইরে যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, সবাই প্রশংসা করেছেন। সবাই ফিডব্যাকটা এত ভালো দিয়েছেন যে, আমি আত্মবিশ্বাস পেয়েছি। এই কারণে দ্বিতীয় ম্যাচে বিন্দুমাত্র চাপ অনুভব করিনি।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসছেন মাসুদুর রহমান। ফেসবুকে মুকুল মুর্শেদ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টানটান উত্তেজনা মাসুদুর রহমানের আম্পায়ারিংয়ের কাছে হার মেনেছে।’ আবির হাসান নামের একজন লিখেছেন, ‘ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে অসাধারণ ও নিখুঁত আম্পায়ারিং করেছেন আমাদের দেশের মাসুদুর রহমান মুকুল। দারুণ আম্পায়ারিং করেছেন তিনি। আমাদের গর্বিত করেছেন।’ খাইরুল ইসলাম নামের একজন লিখেছেন,‘মাঠে আগুন ঝরাচ্ছেন মাসুদুর রহমান মুকুল।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘দেখতে ভালো লাগছে যে, আমাদের দেশেরই একজন (ভারত-পাকিস্তান) ম্যাচ পরিচালনা করছেন।’

টানা দুই হারে এশিয়া কাপের প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে সাকিব আল হাসানরা। মাসুদুর রহমান মুকুলের আম্পায়ারিংয়েই এখনো এশিয়া কাপে বেঁচে আছে বাংলাদেশের নাম।
এশিয়া কাপেই প্রথম ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা হয়েছে মাসুদুর রহমান মুকুলের। এর আগে পাকিস্তানের হোমসিরিজের ম্যাচে আম্পায়ারিং করলেও ভারতের ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেননি তিনি। এশিয়া কাপের আগে আইসিসির প্রতিযোগিতাগুলোর মধ্যে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করার অভিজ্ঞতা হয় মুকুলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *