এক্সক্লুসিভ ফরিদপুর সদর রাজনীতি

সন্ত্রাসী টেন্ডারবাজদের স্থান হবেনা নতুন কমিটিতে- শামীম হক

কামরুজ্জামান সোহেল
বিরোধী দলের কোন কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ বাঁধা দিচ্ছেনা। বিএনপি প্রায় প্রতিদিনই সভা-সমাবেশ করছে। বিএনপির কর্মসূচিতে আমাদের বাঁধা দেবার কোন প্রয়োজনই নেই। কারন ফরিদপুরের আপামর জনগন আওয়ামী লীগের সাথেই আছে। আওয়ামী লীগ আগের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিএনপির তরফ থেকে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা দাবী করে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি শামীম হক বলেন, দেশের মানুষের জন্য বিএনপির কোন অবদান নেই। তাদের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাচ্ছেন তাতে করে বাংলার মানুষ বেশ ভালোই আছে। তারা আর বিএপি-জামাতের শাষন দেখতে চায়না। ফরিদপুর জেলায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে এ প্রতিবেদকের কথা হয় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের। তিনি বিভিন্ন বিষয়ের আদ্যপান্ত তুলে ধরে বলেন, বিগত দিনে আওয়ামী লীগের মধ্যে নানা সমস্যা ছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সভাপতি এবং শাহ মোঃ ইশতিয়াক আরিফকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করেছেন। আমরা দুইজন নির্বাচিত হবার পর দলকে সু সংগঠিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। নতুন কমিটিতে আমরা এমন ব্যক্তিতে নেতৃত্বে আনতে চাই যারা দলের পরীক্ষিত ও দলের জন্য কাজ করবে। আমরা জেলা ও উপজেলা থেকে তরুন নেতৃত্ব তুলে আনতে চাই। যাতে করে আগামী দিনে আওয়ামী লীগকে তরুনেরা নেতৃত্ব দিতে পারে। আমরা অচিরেই আমাদের নতুন কমিটি গঠন করতে পারবো। দলে কোন হাইব্রিড ও অন্য দল থেকে আসা ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে শামীম হক বলেন, বিগত দিনে যারা নেতৃত্বে ছিলেন তারা অনেক হাইব্রিড নেতাকে নেতৃত্বে এনেছিলেন। নতুন কমিটিতে কোন নেতার কথায় কিংবা প্রভাবিত হয়ে কমিটি করা হবেনা। যারা দলের জন্য কাজ করছেন তাদের মূল্যায়ন করা হবে। বিগত দিনে যারা দলকে বির্তকিত করতে টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানা অপকর্ম করেছেন তাদের বিষয়ে হুশিয়ারী উচ্চারন করে তিনি বলেন, আমাদের কমিটিতে কোন টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী স্থান পাবেনা। তিনি বলেন, চারমাস আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত আমরা হয়েছি। এখন পর্যন্ত কেউ বলতে পারবেনা আমরা কোন টেন্ডারবাজী করেছি, চাঁদাবাজী করেছি কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িতদের আশ্রয় প্রশয় দিয়েছি। আমরা এসব করিনি আর করবোনা। ফলে যারা এসব করবে তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্কও থাকবেনা। আমরা ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিদের নিয়েই আওয়ামী লীগকে সাজাতে চাই। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি সংসদীয় আসনই আওয়ামী লীগের দখলে থাকবে দাবী করে শামীম হক বলেন, প্রতিটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তাছাড়া বিএনপিকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায়না। তারা এলাকার মানুষের উন্নয়নের জন্য কোন কাজ করেনি। তাদের কাজ হচ্ছে, দু একটা কর্মসূচি পালন করে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া। মানুষের সুখে-দুঃখে তারা পাশে নেই। তারা যদি জনগনের জন্য কাজ করতো তাহলে আমাদের কষ্ট করা লাগতো। ফলে আগামী নির্বাচনে চারটি আসনেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হবে। দলে গ্রুপিং রয়েছে, এ গ্রুপিং নিয়ে দলকে কতটা শক্তিশালী করা যাবে এমন প্রশ্নের জবাবে শামীম হক বলেন, আওয়ামী লীগ বড় একটি দল। এ দলে নেতৃত্বের লড়াই ছিল এবং এখনো আছে। দলে নেতৃত্বের লড়াই আছে তবে গ্রুপিং নেই। তবে যদি গ্রুপিং থেকেও থাকে আমরা সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। যারা দূরে সরে রয়েছে তাদের কাছে আমরা যাবো। তাদের পরামর্শ নেওয়া হবে। দলকে সু সংগঠিত করতে আমরা গ্রুপিং ভুলে একসাথে কাজ করতে চাই। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দলে কোন গ্রুপিং আমরা হতে দেবনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *