সদরপুর

সদরপুরে ব্যক্তি সম্পত্তিতে গুচ্ছগ্রাম তৈরীর অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের চরবিঞ্চুপুর গ্রামের বেলায়েত হোসেন গংদের ব্যক্তিগত পৈত্রিক জমিতে গুচ্ছগ্রাম তৈরীর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। শুধু জমি দখলই নয়, জমিতে থাকা গাছপালা কেটে নেবারও অভিযোগ করা হয়েছে। জমি ফিরে পাবার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে বেলায়েত হোসেন গং। মঙ্গলবার দুপুরে ভাষানচর ইউনিয়নের কারিরহাটে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেলায়েত হোসেন বলেন, ১৫নং গোপালপুর মৌজার এস.এ ২৫২,৬৮৩,৬৮৬ নং খতিয়ানে এস.এ ৪০৮৩,৪০৬৮,৪০৮৫ নং দাগে মোট ২ দশমিতক ১৬ একর সম্পত্তি পৈত্রিক ও দলিল মূলে ক্রয় করা সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছিলেন। ভুলক্রমে জমিটি বি.এস রেকর্ডে সরকারের খাস খতিয়ানে অন্তভুক্ত হয়ে গেলেও তা আমাদের জানা ছিলনা। সম্প্রতি সরকার জমিটিতে গুচ্ছগ্রাম তৈরীর জন্য কাজ করতে গেলে আমরা বিষয়টি জানতে পারি। বেলায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ নভেম্বর সরকার কতৃক ভুমিহীনদের নামে বন্দোবস্ত দেয়ার জন্য জমিটিতে উপস্থিত হয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন সহকারী ভুমি কর্মকর্তা জমিটিতে থাকা পাকা ধান ও গাছপালা কেটে ফেলে। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষনিক তাদের বাঁধা প্রদান করতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে এ নিয়ে ৮ নভেম্বর ফরিদপুর বিজ্ঞ ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ১৪৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করি। এছাড়া যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানী মামলা করা হয়। বেলায়েত হোসেন বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি সরকার গুচ্ছগ্রামের নামে অন্যদের বরাদ্দ দিলে আমরা ছেলে-মেয়ে ও পরিবার-পরিজন নিয়ে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে যাবো। আমরা আমাদের জমি ফিরে পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করি। এদিকে, জমি ফিরে পেতে ভুক্তভোগীরা ভাষানচরের কারিরহাট সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। মানববন্ধন কর্মসূচিতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয়রা অংশ নেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভুমি) সজল চন্দ্র শীলের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অসহায় পরিবারদের মাঝে ঘর নির্মান করে বন্দোবস্ত দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে আমরা খাস খতিয়ানে উক্ত জায়গায় ঘর তৈরির কাজ চলমান রেখেছি। গাছপালা কাটার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, উক্ত জমিতে কোন ফসল বা গাছ-পালা ছিলনা। তাদের এমন অভিযোগ ভিত্তিহীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *