ফরিদপুরের সংবাদ

শিশু ধর্ষন মামলার আসামী সিরাজ মাতুব্বর এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে

সোহাগ জামান # ফরিদপুরের নগরকান্দায় দশ দিন পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি শিশু ধর্ষন মামলার অভিযুক্ত আসামী সিরাজ মাতুব্বর। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হলে মামলাটি তুলে নিতে অসহায় পরিবারটিকে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে সিরাজ মাতুব্বর আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করতে পারছেনা পুলিশ। শিশুটির ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
অভিযোগে জানাগেছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় উপজেলার তালমা ইউনিয়নের মিয়ারগ্রামের ৯ বছরের শিশু বাড়ীর পাশে দোকানে চিনি ক্রয় করতে যায়। দোকানে যাওয়ার পথে প্রতিবেশী (সম্পর্ক দাদা) সিরাজ মাতুব্বর (৬০) শিশুটিকে ফুসলিয়ে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষন করে। শিশুটি বাড়ীতে এসে বাবা মাকে বিষয়টি জানায়। এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হলে ধর্ষক সিরাজ মাতুব্বর আত্মগোপন করে। পরে ১৬ ডিসেম্বর শিশুটির পিতা বাদী হয়ে নগরকান্দা থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করে। শিশুটি স্থানীয় ধুৎরাহাটি সরকারী প্রাথমিক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ২য় শ্রেণী বার্ষিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেছে।
শিশুটির মা বলেন, আমার বাচ্চা মেয়েটির যে ক্ষতি হয়েছে আমি এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি।
শিশুটির বাবা বলেন, সিরাজ মাতুব্বর একজন লম্পট চরিত্রের লোক। আমি গরীব মানুষ। ভ্যান গাড়ী চালিয়ে সংসার চালাই। আমার মেয়েটি এখন বাড়ীর বাইরে যেতে চায় না। মাঝে মাঝে ভয়ে আতংকে উঠে। আমি লম্পট সিরাজের বিচার দাবী করছি। এদিকে, এ ঘটনায় মামলা হবার পর মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির পিতা। তিনি বলেন, সিরাজ মাতুব্বরের লোকজন মামলা তুলে না নিলে আমার পরিবারকে দেখে নেবে বলে শাসিয়ে যাচ্ছে।
সিরাজ মাতুব্বরের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওদের সাথে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ আছে তাই আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। মিথ্যা অভিযোগ এনে আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই সাজিবুল জানান, শিশুটিকে ডাক্তারী পরীক্ষা করানো হয়েছে। রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। আসামীকে গ্রেফতার চেষ্টা চলছে।
থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ সোহেল রানা বলেন, অভিযোগ পেয়ে থানায় মামলা রুজু করেছি। বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামী আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *