বোয়ালমারী

রুপাপাত বামন চন্দ্র স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অবস্থিত রুপাপাত বামন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান শেখ এর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান কাইয়ুম মোল্যা বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জানা গেছে, স্কুলের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজাহন শেখ পূর্বের ম্যানেজিং কমিটির সময়ে অর্থ আত্মাসাতের ঘটনায় সাময়িক বহিস্কার হয়েছিলেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাথে তিনি অত্যান্ত খারাপ আচরণ করে থাকেন। কয়েক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করায় উক্ত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে ভর্তি করার পর ক্ষুব্দ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা আন্দোলন করেন এবং তার ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি পুড়িয়ে দেন। পরবর্তীতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সেই ঘটনার মিমাংশা হয়। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারী বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান পালনে অনিহা করেন এবং নামেমাত্র তা করে থাকেন। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ কামর্জুামান কাইয়ুম মোল্যা বলেন, আমি সভাপতি নির্বাচিত হবার পর প্রধান শিক্ষকের নিটক আমার সময়ের ৫ মাসের আয় ব্যয়ের হিসাব মৌখিকভাবে বারবার চেয়েও পাইনি। এ বিষয়ে আইন থাকা সত্বেও তিনি তা না দিয়ে উল্টো আমার বিরুদ্ধে ডহরনগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে আমাকে হয়রানী করেন। আমি গত ১২ সেপ্টেম্বর ৫ কর্মদিবসের মধ্যে ছয় মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব অডিট কমিটির আহবায়কের কাছে জমা দেবার কথা জানালেও তিনি তা দেননি। ফলে প্রধান শিক্ষককে গত ২০ সেপ্টেম্বর লিখিত ভাবে কারন দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আর এ নোটিশ দেবার পর প্রধান শিক্ষক আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে। জানতে পেরেছি, আমাকে হেনস্তা করতে স্থানীয় কিছু সরকার বিরোধী লোককে দিয়ে যে কোন সময় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং আমার উপর আক্রমন করার পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে আমি থানায় একটি লিখিত অভিযোদ দিয়েছি। কামরুজ্জামান কাইয়ুম মোল্যা অভিযোগ করে আরো বলেন, প্রধান শিক্ষক মাঝে মধ্যেই স্কুলে অনুপস্থিত থাকেন। পরে স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় সাক্ষর করেন। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিগত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা আয়-ব্যয়ের হিসাবে গরমিল পাওয়ায় তাকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করেছিলেন। বিগত ২০১৮ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ম্যানেজিং কমিটির এক সভায় জানানো হয়, প্রধান শিক্ষক বিধি মোতাবেক স্কুলের আয়ের টাকা ব্যাংকে না দিয়ে নিজেই খরচ করেন। এটি বিধি বহিভূত হওয়ায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মোল্যাসহ সকল সদস্য প্রধান শিক্ষকের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সর্বস্মতিক্রমে প্রধান শিক্ষক শাহজাহান শেখকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। পরবর্তী ম্যানেজিং কমিটির সভায় প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতি নিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি তদন্ত করে দেখতে পান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহাজান শেখ বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই খরচ করেছেন। তাছাড়া তিনি জুলাই-(২০০৭) মাসে দুইলাখ পঞ্চাশ হাজার দুইশত টাকা হাতে থাকা সত্বেও এক লাখ সাতচল্লিশ হাজার আটশত বত্রিশ টাকা ঋন করেছেন। যা বিধি বহির্ভূত। এছাড়া কিছু কিছু ভাউচার শুধু প্রধান শিক্ষক অনুমোদন করেছেন। উল্লেখিত অনিয়মের জন্য তাকে চুড়ান্ত বরখাস্তের সুপারিশ করা হয় এবং কারন দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। প্রধান শিক্ষকের নানা অনিয়ম এবং দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারীতার কারনে স্কুলের সুনাম আজ হুমকির সম্মুখীন হয়েছে বলে স্থানীয় অনেকেই অভিযোগ করেন।
রুপাপাত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সব প্রতিষ্ঠানেই কম বেশী দুর্নীতি হয়। রুপাপাত বামন চন্দ্র স্কুলও এর বাইরে নয়। এখানকার প্রধান শিক্ষকও নানা অনিময় ও দুর্নীতিতে জড়িত আছে। এটা সবাই কম বেশী জানে।
স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার মানোয়ার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান শেখের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি এতটাই বাজে লোক যে, তার স্কুলের ছাত্ররা পর্যন্ত তাকে গালমন্দ করে। কারো সাথেই সে ভালো আচরন করেন না। ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছিল। কিন্তু কি কারনে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছেনা তা বোধগম্য নয়।
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ শাহজাহান শেখ বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করতেই তারা আমার বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমি যদি খারাপই হই তাহলে আমি কিভাবে পরপর তিনবার বোয়ালমারী উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছি। যিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন, তিনি স্কুলের বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়য়ের অভিযোগে কমিটির সদস্যরা শিক্ষাবোর্ডে দরখাস্ত করে বরখাস্তের দাবী জানান। আর স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি কামরুজ্জামান কাইয়ুম মোল্যার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রটি জাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *