মধুখালী

মধুখালী পৌর নির্বাচন- আওয়ামী লীগ-বিএনপি প্রার্থীর লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি

কামরুজ্জামান সোহেল।
ফরিদপুরের মধুখালী পৌর নির্বাচনের প্রচার-প্রচারনা এখন তুঙ্গে। মেয়র, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলরদের বিরামহীন প্রচার-প্রচারনায় গোটা এলাকাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর মধুখালী পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পৌর বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ এবং আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন বর্তমান মেয়র ও মধুখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলের মেয়র প্রার্থীরা নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। বিগত দিনের উন্নয়ন কর্মকান্ডের ফিরিস্তি নিয়ে নৌকার সমর্থকেরা এবং উন্নয়নের নামে লুটপাট হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকেরা ভোট চাইছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারনায় সরগরম গোটা পৌর এলাকাজুড়ে। এবারের নির্বাচনে নারী ভোটারদের যিনি মন জয় করতে পারবেন তিনিই হবেন পৌর পিতা এমন মন্তব্য সচেতন মহলের। নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই মেয়র প্রার্থী ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। বিএনপির প্রার্থী শাহাবুদ্দিন আহমেদ সতেজ সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে তার আশংকার কথা তুলে ধরে বলেন, গত নির্বাচনে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভোট কেন্দ্র দখল করে জাল ভোটের মহোৎসব করে জিতেছিলেন। সকল কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের পর নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর পাশাপাশি গ্রেফতার করা হয়। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী পুরনো কায়দায় কেন্দ্র দখল করে ভোট চুরি করে নির্বাচিত হবার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তবে, এবছর যেহেতু ইভিএম-এ ভোট হবে সেহেতু আমরা কেন্দ্র পাহারা দিয়ে যার যার ভোট তাকে দেবার ব্যবস্থা করবো। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।
নির্বাচনে ভোট কারচুপির বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খন্দকার মোরশেদ রহমান লিমন বলেন, জনগনের রায় নিয়েই আমি ফের নির্বাচিত হবো এমনটাই প্রত্যাশা করি। ভোট কারচুপি করে জেতার কোন ইচ্ছে আমার নেই। জনগন যাকে ইচ্ছে তাকেই নির্বাচিত করবে। জনগন যে রায় দেবে তা আমি মেনে নেবো।
১২ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে মধুখালী পৌরসভাটি গঠন হয় ২০১২ সালে। ৯টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার রয়েছে ১৯ হাজার ৯৯০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৯ হাজার ৯শ ২ জন এবং মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ৮৮ জন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *