অপরাধ বোয়ালমারী

বোয়ালমারীতে যুবলীগ নেতার উপর মাদক ব্যবসায়ীর হামলা


বোয়ালমারী প্রতিনিধি।

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মাসুদ বাহিনীর বিরুদ্ধে পুলিশের নিকট অভিযোগ করায় চতুল ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি সঞ্জয় শীলের উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।
১৫ জুন বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার চতুল ইউনিয়নের হাসামদিয়া চৌরাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন সঞ্জয় শীলসহ আরও দু’জন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে যুবলীগ নেতা সঞ্জয় শীল জানান, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি মাসুদ মিয়া আমার নিকট গত ২৬ জানুয়ারি চাঁদা দাবি করে। আমি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার উপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করলে সে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। মাসুদ বর্তমানে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে চলছে। এমন কোন অপরাধ নেই যা সে করে না। বর্তমান চতুল ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছত্রছায়ায় থেকে একের পর এক অপকর্ম করে আসছে, তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর পুলিশ সুপার বরাবর আমিসহ স্থানীয় ১৬জন ব্যক্তি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।
ইতোপূর্বে হাসামদিয়ায় অবস্থিত ভিলেজ পার্কের মালিক মির্জা শামসুজ্জামান বেগের নিকট চাঁদা দাবি করে ও জোরপূর্বক পার্কে ঢুকে নেশা করলে পার্কের কর্মচারীরা বাঁধা দিলে তাদের উপর হামলা চালায়। ময়েনদিয়া বাজারের তেল ব্যবসায়ী পলান সাহার দোকান থেকে বাকীতে তেল নেয় মাসুদ। সেই টাকা চাওয়াতে পলান সাহাকে মারধর করে। আমিন মীর, কামরুল খান, কামরুল ইসলাম উজ্জ্বলকেও অপমান করেন তিনি।
সম্প্রতি সে মাদকসহ ফরিদপুর ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয়। গত দুইদিন আগে জামিনে বের হয়ে এসে আমাকে হত্যার পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মাসুদ মিয়া ও তার পিতা আতিয়ার মিয়ার নেতৃত্বে শাহজাহান মিয়া, কালু মিয়া, রাব্বিসহ ১০/১৫ জন একটি সন্ত্রাসী দল আমার উপর হামলা করে। আমি বাড়িতে নতুন ঘর দিচ্ছি, সেজন্য এনজিও থেকে ঋণ হিসেবে ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করি। সন্ধ্যায় পাওনাদারদের সেই টাকা দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়ে হাসামদিয়া চৌরাস্তায় পৌঁছালে পূর্বে থেকেই ওৎ পেতে থাকা মাসুদ বাহিনী রামদা, ছুরি, বাশের লাঠি দিয়ে পেছন থেকে আমার উপর অতর্কিত আক্রমণ করে। তারা রামদা দিয়ে আমাকে এলোপাতারি আঘাত করে। এ সময় আমি মাটিতে পড়ে গেলে বাশের লাঠি ও রড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক পিটাতে থাকে। আমার চিৎকারে কালাম মীনাসহ স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তাদের উপরও হামলা চালায় মাসুদ বাহিনী।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. অঙ্কন দেবনাথ জানান, সঞ্জয় শীলের মাথায় ৬ টি সেলাই লেগেছে, হাতেও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সেলাই লেগেছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক, ১৬ জুন সকালে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত মাসুদ মিয়া জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলের কারনে তার সাথে ঝামেলা হয়েছে, আমার কোন বাহিনী নেই। আমাকে রাজনৈতিক ভাবে ঘায়েল করতে সঞ্জয় শীল মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করেছে। চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার সাথে আমার কোন সম্পৃক্তা নেই, এ বিষয়ে থানায় খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।
চতুল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম এর মোবাইল নম্বরে কল দিলে তিনি, এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে কল কেটে দেন।
বোয়ালমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অভিযোগ দায়ের করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *