ফরিদপুর সদর

ফরিদপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার


বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুর শহর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সজিব আহমেদ (২৫) কে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিমুল রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. ফাহিম আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের এক জরুরী সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদপুর পৌর শাখার সাধারণ সম্পাদক সজিব আহমেদকে নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পৌর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মোহাম্মদ শান্তকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হইল।’
সজিব আহমেদ ফরিদপুর শহরের শোভারামপুর মহল্লার বাসিন্দা মজিবুর রহমানের ছেলে। তিনি (সজিব) সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। অবশ্য কি কারণে সজিবকে অব্যাহতি দেয়া হলো তা ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
জানতে চাইলে শহর ছাত্রলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সজিব আহমেদ বলেন, গত রবিবার সন্ধ্যায় সাবেক সাংসদ ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমানের ৬৮তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে মধুখালী উপজেলার কামালদিয়া গ্রামে তাঁর (আব্দুর রহমান) বাড়িতে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই সভায় ঘোষণার বিষয় নিয়ে তার সাথে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের এক কর্মীর বচসা হয়। এর জেরে মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ঐশিকার সাথে তার তর্ক হয়। এক পর্যায়ে ঐশিকা তাকে ওই স্থান থেকে বের হয়ে যেতে বলেন এবং তাকে বহিস্কারের দাবি জানায়। সজিব আহমেদ বলেন, সহযোগী সংগঠনের এক নেত্রীর কথায় যদি আমাকে পদ হারাতে হয় এর থেকে দুঃখ ও কষ্টের আর কিছু থাকতে পারে না।
এব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানজিমুল রশিদ বলেন, মেডিকেলের এক কর্মীর সাথে সজিবের কথা কাটাকাটি হয়েছে বলে জানি কিন্তু ঐশিকার সাথে সজিবের তর্ক হয়েছে বলে আমার জানা নেই। ‘কারো সুপারিশে বা দাবির কারণে সজিবকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি’-দাবি করে তানজিমুল রশিদ বলেন, সজিব নিজেই পারিবারিক ও ব্যাক্তিগত বিভিন্ন ঝামেলায় ছিলেন। এজন্য তিনি (সজিব) নিজেই অব্যাহতি চাইছিলেন। কেউ থাকতে না চাইলে তাকে জোর করে রাখা যায় না তাই তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ঐশিকা বলেন, সজিব আমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে, এর জন্য ‘সরি’ পর্যন্ত বলেনি। তবে আমি তাকে বহিস্কার করতে বলিনি। ‘আমি তা কেনো বলবো’-মন্তব্য করে ঐশিকা বলেন, বরং সজিবই বলেছিলেন তিনি আর ছাত্রলীগ করবেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *