অপরাধ ফরিদপুর সদর

ফরিদপুরে পিটিআই সুপারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ

ফরিদপুরে প্রাইমারী ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট (পিটিআই) এর সুপারেন্টেডেন্ট কুব্বাত আলীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহলের সাথে সখ্যতা থাকার কারনে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার আত্বীয়ের পরিচয় দিয়ে তিনি দুর্নীতির পাগলা ঘোড়ায় রুপান্তর হলেও ভয়ে কেউই তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। নানাবিধ দুর্নীতি এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নানাভাবে হয়রানীর কারনে ক্ষোভ বিরাজ করছে পিটিআইএ ট্রেনিংয়ে থাকা শিক্ষক শিক্ষিকাদের মধ্যে। দুর্নীতি কিংবা অনিয়মের বিষয়ে কেউ মুখ খোলার চেষ্টা করা হলে তাকে নানা ভাবে হয়রানী করা হয়। এছাড়া স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ভাঙ্গিয়ে সে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখেন। পিটিআইএর কর্মকর্তা হয়েও তিনি প্রায় সকলেল সাথে অত্যান্ত অভদ্র আচরন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, কুব্বাত আলী ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি চলতি দায়িত্ব নিয়ে ফরিদপুর পিটিআইএ জয়েন করেন। পরে তিনি সুপারেন্টেডেন্টের দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই সে নানাভাবে দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পিটিআইতে ভাঙ্গা স্থাপনা সরানোর জন্য বিভিন্ন খাতের থাকা টাকা এ খাতে নিয়ম বর্হিভুত ভাবে ব্যয় করেন। হোষ্টেলে থাকা শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রতি মাসে কেটে নেওয়া ৩শ টাকা হোষ্টেলের উন্নয়ন খাতে ব্যয় না করে তার ক্ষমতাবলে ইচ্ছে মতো ব্যয় করেন। পিটিআইএর ভেতরে একটি পুকুরে মাছ চাষের কথা বলে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা নিলেও তাদের কোন লভাংশ কিংবা টাকা ফেরত না দিয়ে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান গুলো কিংবা রাষ্ট্রিয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে হোষ্টেলে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে কাজ করানো হয়। কেউ কাজ করতে রাজি না হলে তাদের অপমানসূচক কথা বলে শাষানো হয়। কোন নিয়ম না থাকলেও বিভিন্ন জাতীয় দিবস গুলোতে শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। মসজিদের উন্নয়নের নামে চাঁদা তুলে তা নিজের ইচ্ছেমতো খরচ করেন। ট্রেনিং নিতে আসা শিক্ষকেরা যারা হোষ্টেলে থাকেন না তাদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করা হয়। পিটিআইএ থাকা শিক্ষক ও অন্য কর্মকর্তাদের সাথে সব সময়ই অসেজৈন্যমূলক আচরন করে থাকেন। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকার কারনে সে ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা ইচ্ছে তাই করছেন। তিনি নিজের ক্ষমতাবলে নিয়মবর্হিভুত ভাবে একজন গেটম্যান রেখেছেন, যার বেতন কৌশলে শিক্ষকদের কাছ থেকে আদায় করে থাকেন। পানির পাম্পের মিটার সংযোগ দেয়া হয়েছে হোষ্টেলের মিটার থেকে। ফলে হোষ্টেলে অবস্থান করা শিক্ষকদের কাছ থেকে বাড়তি বিল নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে পিটিআইএ কর্মরত ইনস্ট্রাকটরদের হোটেলে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে। কুব্বার আলী দুর্নীতির বিষয়ে কেউ টু শব্দ করার চেষ্টা করলে তাকে বদলীর ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ করে রাখা হয়। এছাড়া প্রশিক্ষনার্থী শিক্ষকের কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে ভাইবা পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেবার ভয় দেখানো হয়। সৌন্দর্যের কথা বলে প্রশিক্ষনার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ফুলের টব নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হোষ্টেলের কোন উন্নয়ন না করলেও বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেওয়া হয়। প্রশিক্ষনার্থী শিক্ষকদের অনেকেই নামপ্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, সুপারেন্টেডেন্ট কুব্বাত আলী নিজেকে সব সময় উচ্চ মাপের একজন মানুষ মনে করেন। তার কাছে আমরা সবাই হলো ‘গরীবের বাচ্চা’। সবার সাথে খারাপ আচরন করা যেন তার স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বিভিন্ন ভাবে হোষ্টেলের উন্নয়ন করার কথা বলে অতিরিক্ত টাকা নিলেও হোষ্টেলের কোন উন্নয়ন করেননি। হোষ্টেলের বাথরুম/গোসলখানা গুলো ব্যবহারের অনুপযোগী রয়েছে। অভিযোগ করে অনেকেই বলেছেন, প্রতিমাসে (২০১৯-২০) শিক্ষাবর্ষে সংস্থাপনে আদায় হতো ৭৮হাজার টাকা। যা শুধুমাত্র হোষ্টেলের বিদ্যুৎ বিল আর রান্না করার বুয়ার বেতন দেয়া হতো। বাকি টাকার কোন হিসাব প্রশিক্ষনার্থীদের দেওয়া হয়না। যদিও মাসিক হিসাবে সকল খরচের হিসাব দেওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে প্রতিমাসে সংস্থাপনে আদায় হয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। যা ঐ ভাবেই ব্যয় করা হয়। বাকি টাকার কোন হিসাব নেই। পিটিআই বাউন্ডারী সংলগ্ন রাস্তার পাশে দীর্ঘদিন ধরে বেশ কিছু চা দোকানী, পান দোকানী দোকান করে সংসার চালিয়ে আসছিল। তাদের কাছ থেকে টাকা চাওয়ায় তারা টাকা দিতে অপারগতা করায় তাদের সেখান থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। পিটিআইএর ভেতরে বেশ কিছু গাছ ছিল যা বনবিভাগের কোন অনুমতি না নিয়ে কেটে ফেলা হয়েছে। দুর্নীতিবাজ সুপারেন্টেডেন্ট কুব্বাত আলীর বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে পিটিআই সুপারেন্টেডেন্ট কুব্বাত আলী সাথে কথা বলতে গেলে তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি এখন কোন কথা বলতে পারবোনা। আমার এখন অনেক কাজ রয়েছে। আপনারা পরে আসেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *