ফরিদপুর সদর

ফরিদপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে

সোহাগ জামান #
ফরিদপুর জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির প্রতিদিনই উন্নতি হচ্ছে। বিগত দুইদিন বন্যার পানি না বাড়লেও শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ফরিদপুরে পদ্মা নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার কমেছে। যদিও ফরিদপুরের গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মার পানি এখনো বিপদ সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যার পানিতে এখনো প্লাবিত রয়েছে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর, নর্থ চ্যানেল, চরমাধবদিয়া ও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রাম। এছাড়া চরভদ্রাসন, সদরপুর ও ভাঙ্গা উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত থাকায় এসব গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। পানি কমলেও প্লাবিত এলাকার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে থাকায় লোকজনের চলাচলে বেশ অসুবিধা হচ্ছে। গরু-ছাগল নিয়ে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ পড়েছে বিপাকে। গো-খাদ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। বন্যার পানি কমতে থাকায় মানুষের মধ্যে দূর্ভোগ বেড়েছে। এসব এলাকায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। প্লাবিত এলাকা সমূহের মধ্যে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে অল্পকিছু ত্রাণ সামগ্রী বিতরন করা হলেও বেশীর ভাগ মানুষই ত্রাণের আওতায় আসেনি। তবে, ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানিয়েছেন, বন্যা কবলিত এলাকার অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী রয়েছে। কেউ না খেয়ে থাকবে না। বন্যা কবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া আছে, যারা অসহায় দরিদ্র রয়েছে তাদের মাঝে ত্রাণ বিতরন করার জন্য।
জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন নিন্মাঞ্চল এলাকা সমূহ প্লাবিত হওয়ায় আমন ধান, বাদাম ও বিভিন্ন প্রকার সবজির খেত তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার দেড় হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে।
এদিকে, পদ্মা, আড়িয়াল খাঁ, মধুমতি ও গড়াই নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। পদ্মার ভাঙ্গনের কারনে ডিক্রিরচর ও নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের সাতটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন নতুন এলাকা। ভাঙ্গনের কারনে বেশকিছু ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এছাড়া আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙ্গনে সদরপুর, মধুমতি ও গড়াই নদীর ভাঙ্গনে আলফাডাঙ্গা এবং মধুখালী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের বসত বাড়ী ফসলী জমি ও বেশকিছু স্থাপনা বিলিন হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের কারনে আতংকিত হয়ে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী ভাঙ্গন কবলিত এলাকার মানুষেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *