নগরকান্দা

প্রধান শিক্ষককে জিম্মি করে জোরপূবর্ক বহিস্কারের অভিযোগ

নগরকান্দা প্রতিনিধি # ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বাউষখালী উচ্চবিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি এমদাদ ফকিরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রধান শিক্ষককে বহিস্কার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সালথা থানায় শনিবার সাধারণ ডায়েরী করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদ।
লিখিত অভিযোগে প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এমদাদ ফকির শতাধিক বহিরাগত লোক নিয়ে গত বৃহষ্পতিবার প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় বহিরাগত লোকজন ও বিদ্যালয়ের সভাপতি মিলে প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তাৎক্ষণিক মিটিং এর কথা বলে বিদ্যালয়ের রেজুলেশন খাতা ছিনিয়ে নেয় এবং অন্য কক্ষে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করেন। এরপর বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় আলমারি ও ড্রয়ারের একাধিক চাবি, জরুরী খাতা ও কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে তারা চলে যায়।
এ ব্যপারে প্রধান শিক্ষক সাহিদুজ্জামান সাহিদ বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। সেই অভিযোগের কোন প্রমাণ ছাড়াই, শুধুমাত্র মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে এবং বিধি-বহির্ভূত ভাবে আমাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমাকে কোন প্রকার লিখিত না দিয়েই, বিদ্যালয়ের সকল আলমারির চাবি, প্রয়োজনীয় খাতা ও কাগজপত্র তারা আমার থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। বিদ্যালয়ের আলমারিতে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দলিল, রেকর্ড ও দাপ্তরিক কাগজপত্রসহ আমার ব্যক্তিগত অতিজরুরী রেকর্ডপত্র ও বেশ কিছু টাকা রক্ষিত আছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি এমদাদ ফকির বলেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনিত বিভিন্ন অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে সত্য বলে মনে হওয়ায় কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে এবং বিধিমোতাবেক তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় খাতা ও কাগজপত্রসহ কোন কিছুই আমাদের কাছে হস্তান্তর না করায়, তাকে কোনো প্রকার লিখিত দিতে পারি নাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের কমিটি বা প্রধান শিক্ষক কেউই এ বিষয়ে আমাকে কিছুই জানায়নি। তবে এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ পেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককের সাথে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির সমস্যা থাকায় প্রধান শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *