ফরিদপুরের সংবাদ

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে স্কুল শিক্ষিকা শাহিদা এটুআই প্রোগ্রামের ডিস্ট্রিক এম্বাসেডর

মোঃ সোহেল রানা ,মানিকগঞ্জ
সময় আর কালের বিবর্তনে দেশের নারী সমাজ আজ সবকিছুতেই এগিয়েছে অনেকদুর। পুরুষের পাশাপাশি সকল ক্ষেত্রেই সফলতার সাক্ষর রাখছেন নারীরা। কিন্তু তারপর ও ঘুনে ধরা এ পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে নারীদের বাধার সম্মুখীন হতে হয় পদে পদে। তবে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার বাশাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শাহিদা আক্তার সকল বাধা বিপত্তি কে উপেক্ষা করে এ ফেসবুকের কল্যানেই প্রধানমন্ত্রী কার্য্যালয় কতৃক পরিচালিত এটুআই প্রোগ্রামের ডিস্ট্রিক এম্বাসেডর নিযুক্ত হয়েছেন।

শাহিদা জানান, আজকের এ সফলতার পেছনের দিনগুলোতে পদে পদে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ২০০২ ইং সালে মাধ্যমিক পাশ করেন আর ২০০৯ ইং সালে স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে চাকুরীতে যোগদান করেন এবং ২০১৫ ইং সালে ফেসবুক একাউন্ট খুলে আইসিটি সেক্টরের বিভিন্ন ওয়েবসাইট ঘেটে ফোন নাম্বার সংগ্রহ করেন ও তার পরিবারকে জানান তিনি এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করতে চান । কিন্তু এ কথা শুনে তার পরিবার থেকে তাকে নানা বাধা বিপত্তি প্রদান করা হয়। তবে সব বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা করে সংগ্রহ করে রাখা ফোন নাম্বারের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ঢাকায় গিয়ে এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন। এছাড়াও তিনি জেলা, উপজেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন সময়ে সেমিনার ও প্রশিক্ষণ গ্রহন করেন এবং আইসিটিতে তার কর্মের সফলতার সাক্ষর স্বরুপ প্রথমে উপজেলা এবং পরবর্তী সময়ে এটুআই প্রোগ্রামের জেলা এম্বাসেডর নিযুক্ত করা হয়।

শাহিদা আরো জানান, ডিজিটাল বাংলার রুপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার আহবানে সাড়া দিয়ে আমি পরিবার ও সমাজের সকল বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষার করে এগিয়ে এসেছি। শুধু আমি নই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন দেখেছেন সেই স্বপ্নকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষক এবং শিক্ষিত প্রত্যেকটি নারী ও পুরুষের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। আর শাহিদার এ সফলতায় তার পরিবার ও সহকর্মীরাও গৌরবান্বিত।

একই বিদ্যালয়ের তার সহকর্মী শিক্ষিকা শিপ্রা রানী শর্মা জানিয়েছেন, আসলে আজকের দিনে নারীরা কেউ পিছিয়ে নেই। তাছাড়া সরকার নারীদের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করছেন। তাই প্রতিটি নারীরই উচিত তার নিজ নিজ জায়গা থেকে মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে যাওয়া।

আরেক সহকর্মী শিক্ষক অজিত কুমার বিশ্বাস জানান, শাহিদা যেভাবে আইসিটি বিভাগে সকল বাধা বিপত্তিকে উপেক্ষা প্রতিনিয়ত সফলতার সাক্ষর রাখছেন। তাই আমাদের প্রতিটি শিক্ষকের উচিত শাহিদার দৃষ্টান্ত অনুসরন করা। এছাড়া শাহিদার সফলতায় আমরা বিদ্যালয়ে প্রতিটি শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা গৌরবান্বিত।

শিবালয় উপজেলা শিক্ষা অফিসার সাবেরা সুলতানা জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন নারী শিক্ষক হয়ে পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে শাহিদা যে এতদুর এগিয়ে গিয়েছে এটা খুবই সম্ভাবনার। এছাড়া উপজেলায় আইসিটি বিষয় যত প্রশিক্ষন আসে সবগুলো প্রশিক্ষনে পাঠাই আমি। বিভিন্ন প্রোগ্রামে কনটেন্ট তৈরি করে সফলতার সাক্ষর রাখছেন শাহিদা। তার এ সফলতায় শুধু আমি নই শিবালয় উপজেলার প্রত্যেকটি শিক্ষিত নারী – পুরুষ গৌরবান্বিত।
আমার বিশ্বাস শাহিদার মেধা ও দৃঢ় মনোবলের কারনে অনেকদুর এগিয়ে যাবে। আর উপজেলা শিক্ষা অফিস সকল প্রকার সাহায্য সহোযোগিতায় অব্যাহত রাখবে শাহিদার জন্য। যাতে করে সে আরো বেশী নিজেকে হাইলাইট করে তুলে ধরতে পারে সকলের সামনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *