নগরকান্দা

নগরকান্দা পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী-ভোটারদের নানা শংকা

কামরুজ্জামান সোহেল।
ভোট আগামী ১৪ ফেব্রয়ারি। তবে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনা চলছিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার অনেক আগে থেকেই। পুরো পৌর এলাকাজুড়ে মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের ডাউস সাইজের বিলবোর্ড, ব্যানার নজর কারছিল সকলের কাছে। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত না হলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের উঠোন বৈঠক, মতবিনিময় সভা নিয়ে বিস্তর আলোচনা চলে ভোটার থেকে শুরু করে সকলের মাঝে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির এক ডজন প্রার্থী প্রচার-প্রচারনায় থাকায় পৌরবাসীর মনে প্রশ্ন ছিল, নৌকা কিংবা ধানের শীষের দলীয় প্রতিক পাবেন কে। সেই জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটেছে। নানা নাটকীয়তার মধ্যদিয়ে বড় দুটি দলের দুই প্রার্থীর নাম ঘোষনা করা হয়েছে। এখন চলছে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচার-প্রচারনা। এ চিত্রটি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর পরই মাঠে নেমে জয়ের নেশায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন প্রার্থীরা। রাত-দিন চালাচ্ছেন প্রচারনা। মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র, পৌর আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ও পৌর যুবলীগের সভাপতি নিমাই সরকার। আর ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে মাঠে আছেন উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি আলিমুজ্জামান সেলু। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে তা না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান মিঠু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলু, সাবেক যুবলীগ নেতা আরিফ আহমেদ বিপ্লব। এছাড়া স্বতন্ত্র হিসাবে রয়েছেন লন্ডন প্রবাসী মাসুদুর রহমান মাসুদ ও মনিরুজ্জামান তুহিন। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মধ্যে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও বিএনপির কোন বিদ্রোহী নেই। তবে দলের মধ্যে তীব্র গ্রপিং থাকায় বিএনপির ভোট কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে উত্তাপ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিমাই সরকার বলেছেন, নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে। নির্বাচনকে নিয়ে অনেকেই নানা প্রশ্ন তুললেও সেটি সঠিক নয়। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবেই কাজ করবে। এদিকে, বিএনপির প্রার্থী আলিমুজ্জামান সেলু নির্বাচন সুষ্ঠ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন পৌরসভা নির্বাচন গুলোতে যেভাবে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা ভোট কারচুপি করছে তাতে করে এখানে সুষ্ঠ নির্বাচন হবে কিনা তা দেখার বিষয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো থাকলেও ভোটের দিন কি হবে তা বলা মুশকিল। আমরা চাই নিরপেক্ষ ভোট হোক। সেই ভোটে যে নির্বাচিত হবে তাকেই আমরা মেনে নেবো। স্বতন্ত্র অপর প্রার্থী কামরুজ্জামান মিঠু বলেন, নগরকান্দা পৌর নির্বাচনে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভোট যাতে অনুষ্ঠিত হয় সেদিকে প্রশাসন দৃষ্টি দেবেন এটাই কামনা করি। জনগন ভোট দিতে পারলে তিনি নির্বাচিত হবেন বলে জানান। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুনি নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ও তাদের কর্মীরা প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারনায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নগরকান্দায় পৌর এলাকায়।
এবারের নির্বাচনে শুধু মেয়র প্রার্থীরাই নয়, কাউন্সিলর প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারনা চলছে। প্রচারনায় পিছিয়ে নেই সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীরাও। নগরকান্দা পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু ভোটারের সাথে কথা হলে তারা জানান, নগরকান্দা পৌরসভাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার মধ্য রয়েছে। এখানে উন্নয়ন বলতে তেমন কিছুই হয়নি। পৌর এলাকার উন্নয়ন যিনি করতে পারবেন তাকেই তারা নির্বাচিত করবেন। তাছাড়া সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠনে যারা ভুমিকা নেবেন তাদের পাশেই রয়েছেন সাধারন ভোটারেরা। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার হচ্ছে ৮ হাজার ৬শ ৩৭ জন। মেয়র পদে ৭ জন, কাউন্সিলর পদে ৩৮ জন এবং সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন অংশ নিচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *