নগরকান্দা

নগরকান্দায় প্রতিপক্ষের হামলায় ৪০ বাড়ী ভাংচুর-লুটপাট

বিশেষ প্রতিদেবক।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে আওয়ামী লীগের একাংশের হামলায় ৩০টি বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫ জন। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে। শুক্রবার রাতে এবং শনিবার ভোরে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, তালমা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুটি গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। তালমা ইউনিয়নের মানিকদি গ্রামের একাংশের নেতৃত্ব দেন ইশারত মুন্সী এবং অপর অংশের নেতৃত্ব দেন আবু মাতুব্বর। দুটি গ্রুপই আওয়ামী লীগের হলেও মূল নেতৃত্ব দেন একদিকে লাবু চৌধুরী ও অপরদিকে জামাল মিয়া। শুক্রবার বিকেলে লাবু চৌধুরী গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক বিএনপি নেতা ফিরোজ খা বিলনালিয়া এলাকায় তার সমর্থকদের নিয়ে একটি মিটিং করে। সেই মিটিং শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় মানিকদি গ্রামের ইশারত মুন্সীর সমর্থকদের তিনটি বাড়ী ভাংচুর করা হয়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের মাঝে উত্তেজনা চলছিল। শনিবার ভোরে ইশারত মুন্সীর এক সমর্থকের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ। অন্যদিকে ফজরের নামাজ পড়তে গেলে আবু মাতুব্বর এক সমর্থককে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ নিয়ে উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সকালে আবু মাতুব্বর, ফিরোজ খা, রনজিত মন্ডল, সামসুর নেতৃত্বে প্রায় ৩ শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের উপর। এসময় তারা মানিকদি, তালেশ^র ও পিপরুল গ্রামের প্রতিপক্ষের ৪০টি বাড়ীতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। প্রতিপক্ষের হামলায় আহত হন, বশার মুন্সী, সালেমা বেগম, রাশেদ মাতুব্বর, আলী মাতুব্বর, বাবুল মাতুব্বর, সাইফুল মাতুব্বরসহ কমপক্ষে ১০ জন। হামলা চালিয়ে ভাংচুর করা হয় শুকুর মুন্সী, শাহজাহান মুন্সী, ইশারত মুন্সী, হাবি মুন্সী, সামসুল হক, বশার মুন্সী, সালাম, হোসাইন মুন্সী, শহীদ মল্লিক, ইদ্রিস মল্লিক, সামাদ মাতুব্বরের বাড়ীসহ কমপক্ষে ৪০টি বাড়ী। হামলাকারীরা বাড়ী ভাংচুরের পাশাপাশি মালামাল লুট করে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এদিকে, পরবর্তীতে পাল্টা হামলায় আবু মাতুব্বরের কয়েকটি বাড়ী ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ হামলায় আবু মাতুব্বরের জাফর বিশ^াস, শরীফ বিশ^াস, ফারুক বিশ^াস, গফফার মুন্সী, বিল্লাল, সামসু মাতুব্বরসহ কয়েকজন আহত হয়। হামলা ও বাড়ী ভাংচুরের ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেননি।
ফরিপুরের এসপি (সার্কেল) মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেনি। হামলাকারীরা বেশ কিছু বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ এ বিষয়ে মামলা করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *