জাতীয়

গোয়ালন্দ ঘাটে গাড়ীর দীর্ঘলাইন, বৃষ্টির মধ্যে ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সোহেল জামান,গোয়ালন্দ ঘাট থেকে ফিরে #
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ৫ শতাধিক যানবাহন আটকে রয়েছে। গত দু দিন ধরে বৃষ্টির কারনে ফেরিঘাট গুলোর পল্টুন থেকে পণ্যবাহী ট্রাক গুলোর লোড-আনলোডে বেশী সময় লাগার কারনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ওরস ফেরত কয়েক হাজার যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় থাকায় লম্বা জটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির মধ্যে হাজার হাজার মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক কবে হবে তা ঘাট সংশ্লিষ্ট কেউই বলতে পারছেন না।
যশোর থেকে ঢাকাগামী ঈগল পরিবহনের যাত্রী আনোয়ার পারভেজ, সিহাব চৌধুরী জানান, তারা মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে ঘাটে বসে রয়েছেন। বেলা ১২টা পর্যন্তও তারা ঘাট পার হতে পারেননি। গাড়ীর দীর্ঘ যে লাইন রয়েছে তাতে করে আরো দুই/তিন ঘন্টা বসে থাকার পরও ঘাট পার হতে পারবেন কিনা তারা জানেন না। ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী গোল্ডেন লাইনের সুপার ভাইজার রমিজউদ্দিন জানান, ঘাটে দুই ঘন্টা ধরে যাত্রী নিয়ে বসে রয়েছেন। ফেরি পার হতে পারছেন না। এতে যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনার মধ্যে পড়েছেন। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তা কেউই বলতে পারছেন না। বৃষ্টির কারনে ঘাটের পল্টুনের রাস্তা পিচ্ছিল থাকায় গাড়ী গুলো ধীরে ধীরে উঠানামা করছে। ফলে সময় বেশী লাগার কারনে যানবাহনের লম্বা লাইন পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের ওরস ফেরত কয়েক হাজার বাস ঘাট এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় থাকার কারনে জট আরো প্রকট আকার ধারন করেছে। তবে, বিভিন্ন ঢাকাগামী কয়েকটি বাসের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, গাড়ীর দীর্ঘ লাইন থাকলেও বিশেষ সুবিধা নিয়ে কিছু সংখ্যক গাড়ী ফেরি পার হচ্ছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে এসব গাড়ী গুলোতে ফেরি পারাপার করা হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকাগামী বেশকিছু পরিবহনের সাথে ফেরি ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অলিখিত চুক্তি রয়েছে। বেশ কিছু পরিবহন লাইন না মেনে শুধুমাত্র টাকা দিয়ে ফেরি পার হচ্ছে। একেকটি গাড়ী প্রতি দিতে হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। নামপ্রকাশ না করার শর্তে খুলনা অঞ্চলের একটি পরিবহনের সুপারভাইজার জানান, ঘাটে অনেক সময় ইচ্ছেকৃত ভাবে গাড়ীর লাইন দীর্ঘ করে রাখা হয়। যারা টাকা দিতে পারে তাদের কোন প্রকার সিরিয়াল লাগেনা। ঘাট সংশ্লিষ্ট একটি পক্ষকে ম্যানেজ করেই বাস গুলো ফেরিতে তোলা হয়। একেক গাড়ী প্রতি দিতে হয় আটশো থেকে এক হাজার টাকা। অনেক সময় পরিস্থিতি বুঝে টাকা বেশীও নেয়া হয়। আর এসব টাকা নেয়া হয় যাত্রীদের কাছ থেকে। যাত্রীপ্রতি ২০/৩০ টাকা করে উঠানো হয়। জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৮টি ফেরি চলাচল করছে। এসব ফেরি দিয়েই যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।
গোয়ালন্দ ফেরিঘাটের বিআইডব্লিউটিসি’র বাণিজ্য বিভাগের ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জবিভিন্ন পরিবহনের সাথে ফেরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে অলিখিত চুক্তি রয়েছে। মাস শেষে পরিবহন মালিকেরা তা পরিশোধ করে থাকেন। জানান, গত দু দিনের টানা বৃষ্টির কারনে ফেরিঘাটের পল্টুন সরে যাওয়া ও রাস্তা পিচ্ছিল হবার কারনে যানবাহন গুলো ফেরিতে উঠতে সময় লাগছে। তাছাড়া লোড-আনলোডে সময় বেশী লাগায় পারাপারের অপেক্ষমান যানবাহনের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার ভোর থেকে ঘাটে ছোট-বড় প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। যানবাহন গুলোর মধ্যে ট্রাকের সংখ্যাই বেশী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *