বোয়ালমারী

গৃহবধু মিতু সোমকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বিশেষ প্রতিবেদক
মিতু সোম। বাড়ী ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কমলেশ^দী গ্রামে। তার বাবার নাম অমল সোম। ৯ বছর আগে পারিবারিক ভাবে মিতুকে বিয়ে দেওয়া হয় রাজবাড়ী জেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত সন্তোষ মিত্রের ছেলে সঞ্জয় মিত্রের সাথে। মিতু-সঞ্জয় দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় সুদিপ্ত নামের এক ছেলে সন্তান। তার বয়স এখন ৮ বছর।
মিতুর পরিবার জানায়, বিয়ের পর ভালোই কাটছিল মিতু-সঞ্জয় দম্পতির সংসার। বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই সঞ্জয়ের আসল রুপ বেড়িয়ে আসে। যৌতুকের জন্য বারবার চাপ দেওয়া হতো মিতুকে। সংসার ঠিক রাখতে এবং শিশু সন্তানের কথা চিন্তা করে মিতু বেশ কয়েকবার তার বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে তুলে দেয় সঞ্জয়ের হাতে। টাকা পেয়ে কয়েকদিন ভালোই ব্যবহার করা হতো মিতুর সাথে। দিন কয়েক পর আবারো টাকা এনে দিতে বলতো স্বামী সঞ্জয়। এ নিয়ে সঞ্জয়ের সাথে মিতুর ঝগড়া বেঁধে যেতো। বাবার বাড়ী থেকে টাকা এনে দিতে না পারায় মাঝে মধ্যেই মারধোর করা হতো মিতুকে। মিতুর শাশুড়ীও ছেলের পক্ষ নিয়ে মিতুকে নানা কটাক্ষমূলক কথা বলতো। সংসারের কথা চিন্তা করে মিতু সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে আসছিল। কিন্তু সর্বশেষ গত ১৫ অক্টোবর মিতুকে প্রচন্ড মারপিট করা হয়। মারপিট ও টাকার বিষয়টি মিতু তার পরিবারকে জানায়। ১৭ অক্টোবর টাকা এনে দিতে না পারায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফের মিতুকে মারপিট করা হয়। একপর্যায়ে মিতুকে তার শিশু সন্তানসহ বাড়ী থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়া হয়। বাড়ী থেকে বের করে দেবার সময় শাশুড়ী জয়ন্তী মিত্র একটি বোতল মিতুর হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলে, এই বোতলে বিষ আছে। তুই খেয়ে মরতে পারিসনা। মিতু সেই বোতল নিয়ে বাবার বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে মিতু বোতলে থাকা বিষপান করে বলে জানা যায়। ফরিদপুরের কানাইপুর বাসস্ট্যান্ডে আসার পর মিতু মারাত্বক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেবার পর চিকিৎসকেরা মিতুকে মৃত ঘোষনা করে। এ নিয়ে মিতুর পরিবার কোতয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করে। সেই মামলায় মিতুর স্বামী সঞ্জয়কে আটক করে পুলিশ। বর্তমানে সে জেলহাজতে রয়েছে। মিতুর আকস্মিক মৃত্যুর বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না তার পরিবার ও এলাকার মানুষ। মিতুর আত্মহত্যার প্ররোচনার জন্য দায়ীদের কঠিন শাস্তির দাবী করেছেন তার বাবা,মা ও স্বজনেরা। মিতুর স্বজনদের দাবী, মিতুকে মারপিট করে তার জোরপূর্বক মুখে বিষঢেলে দিয়ে বাড়ী থেকে বের করে দেয় স্বামী সঞ্জয় ও তার শাশুড়ী।
মিতু সোম এলাকার মানুষের কাছে শান্ত ও ভদ্র মেয়ে হিসাবেই পরিচিত ছিল। তার মৃত্যুর বিষয়টি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তারা। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী তাদের।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার এসআই জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।
মিতু সোমের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। মামলার অন্যতম আসামী সঞ্জয় মিত্র জেলে থাকায় এবং মিতুর শাশুড়ী বাড়ীতে না থাকায় তাদের কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *