ফরিদপুর সদর

কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনকে ঘিরে উত্তেজনা


কামরুজ্জামান সোহেল।
ফরিদপুরের কানাইপুর বাজার বণিক সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাজারে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অবৈধ ভোটার তালিকা প্রনয়ন, মৃত ব্যক্তিে ভাটার করা এবং বাজারের বৈধ ব্যবসায়ীদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করার অভিযোগ এনে বাজারের ব্যবসায়ীদের একাংশ এ নির্বাচন বন্ধের আহবান জানিয়েছেন। যদিও নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়নি নির্বাচন কমিশনার। ফলে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছেন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দুইপক্ষের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।এদিকে, করোনাকালীন সময়ে নির্বাচন স্থগিত রাখতে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দিলেও সেই নির্দেশও মানা হচ্ছেনা। আগামীকাল রবিবার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার কথা রয়েছে।
জানাগেছে, ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী কানাইপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈধ কমিটি থাকা সত্বেও একটি পক্ষ বণিক সমিতির নাম দিয়ে নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করা হয়। ফলে বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। বিগত দিনে বাজারের মোট ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ৭শ। কিন্তু বর্তমান নির্বাচন কমিশনার ভোটার তালিকা টানিয়েছেন ১ হাজার ১শ ৭২ জনের। যাদের মধ্যে মৃত ভোটারও রয়েছেন। আছেন বাজারের ব্যবসায়ী নন এমন অসংখ্য ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনারের পক্ষের লোকজনকে বেছে বেছে ভোটার করা হয়েছে। যারা নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধের ভোটার তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। যারা প্রকৃত ভোটার ছিল তাদের নাম বর্তমান ভোটার তালিকায় না দেখে অনেক ব্যবসায়ী বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। বাজারের একাধিক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, তারা বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের হাল নাগাদ ট্রেড লাইসেন্সও নবায়ন রয়েছে। তাছাড়া তাদের মাসিক চাঁদাও পরিশোধ। অথচ তাদের ভোটার তালিকায় নাম নেই। অভিযোগ রয়েছে, কানাইপুর বাজারের ব্রীজের পশ্চিম পাশের কয়েকশ ভোটারকে একেবারেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এর কারন হিসাবে ব্যবসায়ীরা জানান, বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি যিনি রয়েছেন তার এলাকায় তারা থাকেন। এ কারনেই হয়তো তাদের ভোটার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ী ও রাধা জুয়েলার্সের মালিক গৌতম সাহা অভিযোগ করে বলেন, তিনি বাজারে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসলেও তাকে ভোটার করা হয়নি। কিন্তু শুক্রবার পর্যন্ত অনেককে ভোটার করা হয়েছে যা নির্বাচনের আইনের পরিপন্থি। নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের তরফ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি অভিযোদ দাখিল করা হয়। কানাইপুর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন ফকির তার অভিযোগে জানান, বাজারের ব্যবসায়ীদের কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই একটি গোষ্ঠী তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করতে অবৈধভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে ব্যবসায়ীদের মাঝে ক্ষোভসহ উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি এ নির্বাচন বন্ধের দাবী জানান। এদিকে, নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ৩ ফেব্রয়ারি এক চিঠির মাধ্যমে নিবৃাচন স্থগিত করতে নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি দেন। কিন্তু সেই নির্দেশ অমান্য করেই নির্বাচনের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের বিষয়ে নির্বাচন কমিশানরা জুলফিকার আলী মোল্যা বলেন, ইউএন নির্বাচন বন্ধের যে চিঠি দিয়েছে সেই চিঠির বিষয় নিয়ে প্রার্থীদের সাথে বসেছিলাম। প্রার্থীরা নির্বাচন বন্ধের পক্ষে নয় তাই নির্বাচন যথা সময়েই হবে। বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে তিনি বলেন, কোন অনিয়ম হয়নি।
ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদুল আলম বলেন, করোনাকালীন সময়ের কারনে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক আমি বাজার বণিক সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিকে চিঠি দিয়ে নির্বাচন স্থগিত করার কথা বলেছি। যতি তারা সেই নির্দেশ না মানেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *