এক্সক্লুসিভ ফরিদপুর সদর

আওয়ামী লীগ নেতা, সাংবাদিকসহ আটক ৯, বিপুল পরিমান চাল অস্ত্র টাকা উদ্ধার

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়ীতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় আটককৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান সরকারী চাল, অবৈধ অস্ত্র, দেশী-বিদেশী টাকা, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান জানান, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়ীতে গত ১৬ই মে দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা সুবল সাহার বাড়ীতে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও মারপিটের ঘটনা ঘটায়। এসব ঘটনায় ২০০/২৫০ জনের নামে থানায় একটি মামলা হয়। মামলার পর তদন্ত এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের সনাক্ত করা হয়। সেই মামলায় ফরিদপুর শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন বরকত, বরকতের ভাই প্রেসক্লাবের সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বার্তা টুয়েন্টিফোর ডট কমের জেলা প্রতিনিধি রেজাউল করিম বিপুল, আওয়ামী লীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমান মামুন, নারীনেত্রী ইয়াসমিন সুলতানা বন্যা, ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক জনি, অমিয় সরকার, জাহিদ খান, নারায়ন চক্রবর্তীকে আটক করা হয়। রবিবার রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়। আটককৃতদের মধ্যে সাজ্জাদ হোসেন বরকত, ইমতিয়াজ হাসান রুবেল ও রেজাউল করিম বিপুলের কাছ থেকে ৫টি পিস্তল, ৯১ রাউন্ড গুলি, ২টি শর্টগান, ১৮০টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তাদের হেফাজতে থাকা ৩ হাজার ইউএস ডলার, ২৯ লাখ নগদ টাকা, ৯৮ হাজার ভারতীয় রুপি, ১২শ বস্তায় ৬০ হাজার কেজি সরকারী ত্রাণের চাল, ৬ বোতল বিদেশী মদ, ৬৫টি পিস ইয়াবা, ৫টি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়।
মামলার অপর আসামীদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। আটককৃতদের মধ্যে বরকত, রুবেল ও বিপুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়। অন্য আসামীদের ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। পুলিশ সুপার আলিমুজ্জামান আরো জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জমি দখল, হামলা, ভাংচুর, টেন্ডারবাজী, চাঁদাবাজিসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া চাল, অস্ত্র, ডলার, টাকা, মাদক ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছে।
গত কয়েকমাস আগে বরকত-রুবেল এ দু ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুদক সম্পদ বিবরনী চেয়ে তাদের নোটিশ করে। পরে দুদক তাদের অনুসন্ধানে ৬৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায়।
আটক বরকত ও রুবেল সর্ম্পকে আপন দুই ভাই। তাদের গ্রেফতারের খবরে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। সাজ্জাদ হোসেন বরকত শহর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের পাশাপাশি জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি। আর তার ভাই ইমিতিয়াজ হাসান রুবেল ফরিদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক ভোরের প্রত্যাশার সম্পাদক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি।
এদিকে, সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলসহ ৯ জনের গ্রেফতারের খবরে এবং তাদের বিচার ও শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল বের করে আওয়ামী লীগের একাংশ। ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সোমবার বেলা ১১টার দিকে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ বোস। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মনিরুল হাসান মিঠু, কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি খলিফা কামাল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সামচুল আলম চৌধুরী সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মিছিলটি প্রেসক্লাব থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে থানারোডস্থ আওয়ামী লীগ অফিসে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মিষ্টি বিতরন করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *