30 Srabon 1429 বঙ্গাব্দ সোমবার ১৫ অগাস্ট ২০২২
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » আলফাডাঙ্গা » আলফাডাঙ্গায় রাজাকার পুত্র পেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ

আলফাডাঙ্গায় রাজাকার পুত্র পেলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের দলীয় পদ দেওয়া হয়েছে পাক বাহিনীর সহযোগি (শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান) এর পুত্রকে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্বাধীনতা বিরোধীর পুত্রকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদ দেওয়ায় বিষয়টি তুলে ধরে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এই অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন। এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগও করেছেন মুক্তিযোদ্ধারা। রাজাকারপুত্রকে পদ থেকে বহিস্কার করা না হলে আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ্য করা হয়, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সুতিকাগার আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করতো কামারগ্রামের আবদুর রহমান মোল্যা। সরকারের গেজেটে রাজাকার হিসেবে আবদুর রহমান মোল্যার নাম রয়েছে বেশ উপরের দিকে। আবার পুলিশের বিশেষ শাখার গোপন প্রতিবেদনেও মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর সহযোগী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আবদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি।
আলফাডাঙ্গার আলোচিত (শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান) আবদুর রহমান মোল্যার ছেলে হারিচুর রহমান সোহানকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সম্পাদকের পদ দিয়েছেন সংগঠনের উপজেলা শাখা। পদ পাওয়া সোহানের বড় ভাই নুরুল ইসলাম লিটন স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং এক সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতিও ছিলেন।
অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে পদ পাওয়া হারিচুর রহমান সোহান ছাত্রজীবনে কোনোদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো সভা-সমাবেশেও অতীতে দেখা যায়নি তাকে। বরং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এখন হঠাৎ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে দায়িত্ব পাওয়ায় অবাক হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরাও।
এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ বলেন, ‘উপজেলা কমিটি আগে থেকে আমাদের কিছু জানায়নি। আমরাও হারিচুর রহমান সোহানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন যে, তার বাবা একাত্তরে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।’

শওকত আলী জাহিদ বলেন, ‘জেলা কমিটির অনুমোদন ছাড়া উপজেলায় কাউকে পদ-পদবী দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ আমরা কোনো অনুমোদন দিইনি। বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগে কোনো রাজাকারপুত্রের ঠাঁই নেই, এটা দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি।’
গত ৫ ডিসেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখা দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে, হারিচুর রহমান সোহানকে সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগে সভাপতি এনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলোনা, তবে যেহেতু কথা উঠেছে,সেক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্ত করে জেলা ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে হারিচুর রহমান সোহানের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন...

আলফাডাঙ্গায় অসহায় দরিদ্রদের মাঝে কম্বল বিতরন করেছে ইম্পেরিয়াল গ্রুপ

সোহাগ জামান। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার অসহায় দরিদ্র তিন হাজার মানুষের …

মধুমতির ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধের দাবীতে নদীপাড়ে মানববন্ধন

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় মধুমতি নদীর ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে। গত একমাস ধরে …