5 Magh 1428 বঙ্গাব্দ বুধবার ১৯ জানুয়ারী ২০২২
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ফরিদপুর সদর » ফরিদপুরে নতুন মেরুকরনের পথে জেলা আওয়ামী লীগ

ফরিদপুরে নতুন মেরুকরনের পথে জেলা আওয়ামী লীগ

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরে এক যুগের দুঃশাসনের পতন ঘটেছে। অত্যাচারী শাসকের প্রথমসারির পাইক-পেয়াদা পুলিশের খাঁচায় এখন বন্দি। দেওয়া হয়েছে চার্জশিট। কেউ গ্রেফতার এড়াতে আছে আত্মগোপনে। তবে এসব খবরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও খুবই উৎপুল্ল এবং উজ্জীবিত। এমন একটি অবিশ্বাস্য, অথচ সবার প্রত্যাশিত পরিবেশ নিশ্চিত করায় তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।  সহোদর বরকত ও রুবেল গ্রেফতার হওয়ায় নতুন এক সকালের দেখা পান ফরিদপুরবাসী। এরপর এলাকা ধরে ধরে গ্রেফতার হতে থাকে অত্যাচারী রাজার চ্যালা-চামুণ্ডারা। সবশেষে দুই হাজার কোটি টাকা পাচারের মামলায় অন্যতম ক্রীড়নক ফোয়াদ সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার পর অত্যাচারী রাজার মসনদ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সাধারণ মানুষের মতে, দেশ স্বাধীনের পর ফরিদপুরবাসী দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তির স্বাদ পেয়েছেন। ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, আমার নাতি-নাতনি এবং পরিবারের সদস্যরা না চাইলে আমি কিভাবে ফরিদপুরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হবো। জানা যায়, গত বছরের জুনে বরকত-রুবেল গ্রেফতার হন। তাদের এ গ্রেফতারটি ছিল ফরিদপুর সদরের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনের জন্য কঠিন এক বার্তা। কারণ, মোশাররফ হোসেনের ডান হাত বলে পরিচিত এই দুই সহোদরকে পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। এটিই ছিল সবার কাছে অবিশ্বাস্য এক সংবাদ। কিন্তু বাস্তবে যখন খবরটি সবার কাছে সত্য সংবাদ হিসাবে ধরা দেয়, তখন মোশাররফ হোসেনও বুঝে যান তার দিন শেষ। ওই ঘটনার পর তিনি প্রশাসনের কোনো সহায়তা না পেয়ে অনেকটা ক্ষোভে-দুঃখে ফরিদপুর ত্যাগ করেন। এরপর জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আর ফরিদপুরমুখো হননি। গত ১৬ মাসে স্বল্প সময়ের জন্য ৩ দিন তিনি ফরিদপুরে পা রাখেন। তাবৎ ফরিদপুর তার অসীম শক্তির উত্তাপ যারা ছড়াতেন তাদের মধ্যে অন্তত ২৫ জন এ পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন মামলায়। তবে এরমধ্যে সবচেয়ে বড় আঘাত আসে ১২ অক্টোবর। ওইদিন রাতে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ঢাকার বসুন্ধরা এলাকা থেকে গ্রেফতার হন সাবেক এই মন্ত্রীর এপিএসখ্যাত এএইচএম ফোয়াদ। যার বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর ছোটন হত্যাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। ৭টি মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিও তিনি। এ ফোয়াদ গ্রেফতারের খবর ছিল তার কাছে বিনা মেঘে বজ পাতের মতো। এরপর তিনি দেশ ত্যাগ করেন। এদিকে প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ক্ষমতার মসনদ ভেঙে খান খান হয়ে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কেউ ঘরমুখো এবং কেউ ঘর থেকে বেরিয়ে রাজপথে আসতে শুরু করেন। এছাড়া যারা শত জুলুম-নির্যাতনের মুখে আগে থেকে অকুতোভয় সৈনিকের মতো রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তারা আরও সোচ্চার হন। নানাভাবে বিভক্ত আওয়ামী লীগকে পুনরুদ্ধার করতে সিনিয়র নেতাদের অনেকে এগিয়ে আসেন। যদিও শুরুর দিকটা এগোতে থাকে ত্রিধারায়। এরমধ্যে একটি ধারার নেতৃত্বে আসেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন। আরেকটি ধারার নেতৃত্বে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম হক।
তৃতীয় ধারাটি ধরে রাখেন খন্দকার মোশাররফপন্থি হিসাবে পরিচিত নেতা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা। এ প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে নিক্সন চৌধুরী ফরিদপুর সদরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দেন। তৎপরতার অংশ হিসাবে আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘোষণা করা হয়। নিক্সন চৌধুরী ফরিদপুরে শামছুল হক ভোলা মাস্টারের ফরিদপুরের বাড়িতে এক অনুষ্ঠানে এসে ত্যাগী নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে সাহসী বক্তৃতায় সবাইকে উজ্জীবিত করেন। এদিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামছুল হক ভোলা মাস্টার ও আওয়ামী লীগ নেতা খলিফা কামালউদ্দিন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি একে আজাদকে নিয়ে এক বক্তৃতায় কটূক্তি করে বসেন। এরফলে রাজনীতির জল কিছুটা ঘোলা হয়। তবে তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। পরে এক সভায় কোলাকুলি করে বিভেদের ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলেন। এছাড়া এসব বিভেদের অবসান ঘটাতে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী ফরিদপুরের অম্বিকা হলে ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির হিসাবে বিশেষ বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়ে কড়া সমালোচনা করা ছাড়াও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে দেন। তিনি সভায় সাফ জানিয়ে দেন, ফরিদপুর সদরে রাজনীতি করতে আসবেন না। এর ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ নেতাদের এক ধারায় আসতে সম্প্রতি ফরিদপুর শহরের লাবলু সড়কে জেলা আওয়ামী লীগের ডাকা এক সমাবেশে সবার কণ্ঠে ঐক্যের সুর প্রতিধ্বনিত হয়। সবাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ঘোষণা দেন। সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য বিপুল ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শামীম হক, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি একে আজাদ, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, পৌর মেয়র অমিতাভ বোস, যুবলীগ নেতা ফারুক হোসেন, মনিরুল হাসান মিঠু, ঝর্ণা হাসান, আইভি মাসুদ, শামছুল আলম চৌধুরী প্রমুখ। ওই সভার মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতাকর্মীরা সবাই এক কাতারে শামিল হয়ে যান। তবে এখনো ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের দুটি ধারা বিরাজমান রয়েছে বলে কেউ মনে করেন। তাদের মতে, ফরিদপুর সদরের রাজনীতিতে একটি ধারায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ এবং অপর ধারাটির নেতৃত্বে রয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। সেটিও সহসা এক মেলবন্ধনে মিলে যেতে পারে। এমন আভাসের সুবাতাস পর্দার আড়ালে বইতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুরে বীরঙ্গনা, মুক্তিযোদ্ধা ও দুঃস্থদের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা

কন্ঠ রিপোর্ট # ফরিদপুরে বীরঙ্গনা, মুক্তিযোদ্ধা ও দুঃস্থ-অসহায়দের বিনামুল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছে ‘১৯৭১ আমরা …

ফরিদপুরে ফোরাম-৮৬ বুয়েট এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন

কন্ঠ রিপোর্ট। ফরিদপুরে ফোরাম-৮৬ বুয়েট এর উদ্যোগে শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করা হয়েছে। সারাদেশব্যাপী শীতার্তদের …