3 Kartrik 1428 বঙ্গাব্দ সোমবার ১৮ অক্টোবর ২০২১
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ভাঙ্গা » যুবক রফিককে হাতুরীপেটা করে আঙ্গুল কেটে নেয় প্রতিপক্ষ

যুবক রফিককে হাতুরীপেটা করে আঙ্গুল কেটে নেয় প্রতিপক্ষ

কামরুজ্জামান সোহেল।
‘আমি ওদের হাত পা ধরে মাফ চাই’ তারপরও ওদের কোন দয়া হয়নি, ওরা আমাকে কুকুরের মতো পিটিয়ে অজ্ঞান করে ভ্যানে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর ওরা আমার ডান হাতের একটি আঙ্গুলের একটি অংশ কেচি দিয়ে কেটে ফেলে। এরপর ওরা আমার পকেটে কয়েকটি ইয়াবা রাখে। মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করে তা ছড়িয়ে দেয়। ভাংগা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা রফিকুল ইসলাম রফিক শনিবার রাতে কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদকের কাছে তার উপর লোমহর্ষক নির্যাতনের বর্ননা করছিলেন।
ফরিদপুরের ভাংগা উপজেলার চুমুরদী গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র রফিকুল ইসলাম রফিক। পেশায় একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। থাকেন ঢাকায়। ঈদের রাতে গ্রামের বাড়ীতে গেলে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালায় প্রতিপক্ষের লোকজন। হামলাকারীরা রফিককে হাতুরী, লোহার রড, কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করে। পিটুনীর কারনে অজ্ঞান হবার পর হাতের আঙ্গুল কেটে নেওয়া হয়। রফিক জানান, গত বছর ভিজিএফ এর চাল নিয়ে তার গ্রামের ওয়ার্ড মেম্বার গিয়াসের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। গিয়াস মেম্বার ভিজিএফ এর চাল আত্মসাৎ করে ধরা পড়ে। এর পেছনে রফিকের হাত ছিল বলে সন্দেহ করে গিয়াস মেম্বার। সম্প্রতি কুমার নদের মাটি কাটা শুরু হয়। সরকারী ভাবে কাটা এ মাটি গিয়াস মেম্বারসহ তার দলের কয়েক জন তা বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রি করতে থাকে। এতে রফিক বাধা প্রদান করে। এতেই ক্ষিপ্ত হয় গিয়াস মেম্বার, আরজু শেখ কিরনসহ কয়েকজন। মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে ১ মে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় রফিকের পক্ষের বাদল মাতুব্বরের লোকজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়। মামলার পর প্রতিপক্ষের লোকজনের হুমকিতে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয় কয়েকটি পরিবার। পাল্টা মামলা দেওয়া হয় বাদল মাতুব্বর, রফিকসহ কয়েকজনকে।
রফিকুল ইসলাম জানান, তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের সাথে ঈদ করতে গোপনে সন্ধ্যার পর গ্রামে যান। গ্রামে যাবার গিয়াস মেম্বার, কিরন, আরজু সহ ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। তাকে নির্মম ভাবে পেটানো হয়। পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দেবার পর হাতের একটি আঙ্গুল কেটে নেওয়া হয়। আমাকে হত্যা করতেই পরিকল্পিত ভাবে হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, আমি পনের দিন ধরে গ্রাম ছাড়া। আমার উপর হামলা চালিয়েই তারা ক্ষ্যান্ত থাকেনি, উল্টো আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেম্বারের নেতৃত্বে গ্রামে শালিস বসিয়ে লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। আমার পরিবারকে প্রাননাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার উপর হামলার ঘটনার বিচার চাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
ভাঙ্গা থানার এসআই জয়ন্ত চৌধুরী বলেন, রফিককে প্রতিপক্ষের লোকজন মারপিট করেছে। সে এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমরা তাকে মামলা করতে বলেছি। মামলা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন...

ভাঙ্গায় দুই ইউনিয়ন বাসীর মাঝে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত-৩০

ভাঙ্গা প্রতিনিধি # ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় শালিষে বসা নিয়ে আজিমনগর ও কালামৃধা ইউনিয়নের মাঝে সংঘর্ষে …

ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ৫৩ প্রার্থী

সোহাগ জামান। ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমাদানের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার মেয়র, সাধারন কাউন্সিলর ও …