29 Chaitro 1427 বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১
Home » এক্সক্লুসিভ » ‘রাজনীতিতে পুনরায় সক্রীয় হওয়ার ইচ্ছে নেই’ – মোশাররফ হোসেন

‘রাজনীতিতে পুনরায় সক্রীয় হওয়ার ইচ্ছে নেই’ – মোশাররফ হোসেন

বিশেষ প্রতিবেদক ।
দীর্ঘ সাত মাস পর ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার নিজ সংসদীয় এলাকায় এসেছিলেন। তাঁর চাচীর জানাজায় যোগ দিতে তাঁর ফরিদপুর আসা।
ফরিদপুরে অবস্থানকালে এ প্রতিবেদকের সাথে আলাপচারিতায় খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘ফরিদপুরের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রীয় হওয়ার ইচ্ছে নেই তার। তবে প্রয়োজন পড়লে তিনি বিভিন্ন পরামর্শ দেবেন।’
শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে শনিবার দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ১৭ ঘন্টা অবস্থান করার পর তিনি পুণরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।ওই সময়কালে তাঁর সাথে জেলা আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য কোন নেতা দেখা করেননি।
আওয়ামী লীগ সুত্রে জানা গেছে, গত বছর ৭ জুন ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানের পর পাল্টে যায় ফরিদপুরের আওয়ামী রাজনীতির দৃশ্যপট। এ প্রেক্ষাপটে ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ সাবেক মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা অবস্থান করছিলেন। পুলিশের ওই বিশেষ অভিযানে সংসদের বাড়ির এলাকা থেকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন এবং ফরিদপুর প্রেসক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলকে।
পরবর্তিতে দুই হাজার কোটি টাকার মানি লন্ডারিংসহ মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে হত্যা, অস্ত্র ও মাদক আইনে মামলা রয়েছে।
এছাড়াও পুলিশ খুঁজছে সাংসদের পিএস জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এ এইচ এম ফোয়াদকে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল হাসান খন্দকার ও জেলা শ্রমিক লীগের কোষাধ্যক্ষ বেল্লাল হোসেন।
৭ জুন পুলিশের বিশেষ অভিযানের একদিন পর গত ৯ জুন খন্দকার মোশাররফ ঢাকা চলে যান। পরবর্তিতে তিনি গত ১৪ জুলাই এক রাতের জন্য ফরিদপুর এসেছিলেন। এ সময় তাঁর সফর সঙ্গী ছিলেন তার মেয়ে। এরপরে তিন আর ফরিদপুরে আসেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরে এসে খন্দকার মোশররফ সরাসরি শহরতলীর বদরপুরস্থ আফসানা মঞ্জিলে চলে যান। ওই সময় তার বাড়িতে দুই শতাধিক ব্যাক্তিকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। যারা সমবেত হয়েছিল তাদের বেশির ভাগই খন্দকার মোশাররফের গ্রামের বাড়ি কৈজুরি ইউনিয়নের হাড়োকান্দিস্থ গ্রামের বাসিন্দা।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে খন্দকার মোশাররফ তার চাচীর জানাজায় অংশ নিতে হাড়োকান্দিস্থ পুরাতন বাড়িতে আসেন। এ সময় তার গাড়িকে ঘিরে পুলিশের কোন প্রটোকল ছিল না।
জানাজায় অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাইদুদ্দিন আহমেদ মানু ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী অন্য কোন নেতাকে দেখা যায় নি।
উপস্থিত সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা ছাড়া সরকারি কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি।
উপস্থিত ছিল না পুলিশ বিভাগের পদধারী কোন কর্মকর্তা কিংবা পোশাকধারী কোন সদস্য।
বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের মধ্যে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ মোশার্রফ আলী, ফরিদপুর মুসলিম মিশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ সামাদ, ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুস সামাদ উপস্থিত ছিলেন।
জানাজার পর খন্দকার মোশাররফ বলেন, ফরিদপুরের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রীয় হওয়ার ইচ্ছে তার নেই। তবে সমস্যার সমাধানে তার ভূমিকা পালন করতে হলে তিনি ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, ফরিদপুরে বর্তমানে আওয়ামী রাজনীতিতে যে দুটি ধারা রয়েছে তার কোন ধারার প্রতি তার কোন সমর্থন নেই। তবে এক নেতা অন্য নেতাদের যে ভাবে গালি দিয়ে বেড়াচ্ছে তা তার মোটেও পছন্দ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, তিনি তার সময়কালে ফরিদপুরের যে উন্নয়ন করেছেন গত একশ বছরে তা হয়নি। তার ধারনা মতে আগামী একশ বছরেও একশ বছরেও এ ধরনের উন্নয়ন হবে না।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, তিনি ফরিদপুর গড়ে দিয়েছেন এখন ফরিদপুরকে সামনের দিকে চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নতুন প্রজন্মের। তবে বর্তমানে বিভিন্ন টেন্ডারবাজির খবর শুনে তিনি খুবই বিব্রত অনুভব করেন।
আওয়ামী লীগ নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধরাণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন বলেন, আমাদের কেউ জানায় নি এ বিষয়ে। জানাজার খবর জানতে পারলে যেতাম, উনি আসছেন তা আমরা জানতাম না।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, এটি দলীয় কোন কর্মসূচি ছিল না না (জানাজার বিষয়)। ওনার চাচী আমাদের দলের সাথে কখনও প্রত্যক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িতও ছিলেন না। দলীয় কর্মসূচি হলে আমরা যেতাম। উনি সম্পূর্ন ব্যাক্তিগত কাজে এসেছিলেন। এজন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যাননি।

আরও পড়ুন...

ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী সাতজন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী সাতজন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ঢাকা থেকে চূড়ান্ত …

ফরিদপুরে উপজেলায় আ.লীগ, ইউপিতে বিএনপি প্রার্থী জয়ী

সোহাগ জামান। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা পরিষদের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী …