14 Falgun 1427 বঙ্গাব্দ শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Home » এক্সক্লুসিভ » গেরদা ইউপি’র চেয়ারম্যান পদে ‘উপ নির্বাচনে’ নৌকা চান এমার হক

গেরদা ইউপি’র চেয়ারম্যান পদে ‘উপ নির্বাচনে’ নৌকা চান এমার হক

বিশেষ প্রতিবেদক ।

ফরিদপুরের সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহিদুর রহমান জাহিদের মৃত্যুতে চেয়ারম্যানের পদটি শূণ্য ঘোষনা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের পদটি শূণ্য হওয়ায় যে কোন সময় চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন কোতয়ালী থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক শাহ মো. এমার হক। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। উঠোন বৈঠকসহ এলাকার প্রবীন ব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাত করছেন। সকলেই তাকে সাদরে গ্রহন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকা শাহ মো. এমার হক এবারের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসাবে তিনি সকলের কাছে বেশ পরিচিত। তাছাড়া রাজনীতি করতে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে তিনি সব সময় পাশে থেকেছেন। চেষ্টা করেছেন সাধ্যমতো সকলকে সাহায্য-সহযোগীতা করার। শুধু এলাকার মানুষের পাশেই থাকেননি তিনি, যুবলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হবার কারনে সদর উপজেলার নানা মানুষের পাশে থেকেছেন সবসময়। একজন সজ্জন ও সদালাপি মানুষ হিসাবে এলাকার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ব্যক্তি হচ্ছেন শাহ মো. এমার হক। ছোটবেলা থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশের রাজনীতি তাকে মোহিত করে। ছাত্র থাকাবস্থায় তিনি আবুজর গিফারী বিশ^বিদ্যালয় কলেজ শাখার ছাত্রলীগের সহ সভাপতি ছিলেন। ৯৪ সাল থেকে ৯৯ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছাত্র রাজনীতি করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় তাকে হয়রানীর শিকার হতে হয়। তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে রাজপথে মিছিল-মিটিং করতে গিয়ে তাকে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়। সব বাঁধা উপেক্ষা করে মিছিলের অগ্রভাবে থাকতেন তিনি। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে আসার পর গেরদা ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০০ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি ঐ পদে ছিলেন। রাজনীতির মাঠে সরব উপস্থিতির কারনে তাকে বারবার নির্যাতন ও মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করা হয়। সে সময়ের সরকারী দলের দমন-নিপিড়ন তাকে সইতে হয়েছে। তারপরও তিনি বঙ্গবন্ধুর আর্দশের রাজনীতি থেকে সরে যাননি। দলকে সংগঠিত করার পাশাপাশি আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রভাবে থাকার পুরস্কার হিসাবে তাকে ২০০৪ সালে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। বর্তমানে তিনি এ পদেই সুনামের সাথে তার দায়িত্ব পালন করছেন।

যুবলীগ নেতা শাহ মো. এমার হক বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে বারবার অত্যাচার-নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রলোভন দেখানো হলেও কখনোই দলের বিরুদ্ধে কোন কাজ করিনি। আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে সব সময় কাজ করেছি। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে সব সময় পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসাবে সকলের সাথে সু সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করেছি। নিজে যা আয় করেছি তার কিছুটা দলের পেছনে এবং কিছুটা মানুষের সেবায় খরচ করেছি। সব সময়ই চেষ্টা করেছি মানুষের কল্যানে কিছু একটা করার।

গেরদা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপ নির্বাচনে অংশ নিতে শাহ মো. এমার হক ছুটে যাচ্ছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। শুধু তিনিই নন, তার আত্বীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং তার কর্মীরা দিনরাত প্রচারনা চালাচ্ছেন। গেরদা ইউনিয়নকে একটি আর্দশ ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তোলার ব্রত নিয়েই চালিয়ে যাচ্ছেন তার প্রচারনা। শাহ মো. এমার হক বলেন, গেরদা ইউনিয়টি জেলার মধ্যে সুনামধন্য একটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ছেলে হিসাবে নিজের্কে গর্বিত মনে করি। তিনি বলেন, আমি যদি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি তাহলে সর্ব প্রথম কাজ হবে সকলকে সাথে নিয়ে ইউনিয়নের অতি গুরুত্বপূর্ন কাজ গুলো সমাধান করার। মাদকমুক্ত, বাল্যবিয়ে বন্ধ, শিক্ষার প্রসার বাড়ানো, এলাকার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কাজ গুলোই অগ্রাধিকার ভিক্তিতে করা হবে। এলাকার রাস্তা, ব্রিজ, কালভার্ট, গোরস্তান, হাট-বাজার গুলোর উন্নয়ন করা হবে। প্রতিটি জনগনের মতামত নিয়ে এসব কাজ করা হবে। প্রতি মাসে জনগনের সাথে উম্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলা হবে। সুশাষন প্রতিষ্ঠায় যে কোন কঠোর উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। এলাকার অতিদরিদ্রদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে করে তারা সমাজে মাথা উচু করে বাঁচতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কারখানা স্থাপনে সহায়তা করা হবে। কৃষকেরা যাতে তাদের ফসলের ন্যার্য্যমূল পায় সেজন্য স্থানীয় হাট-বাজারে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হবে। এছাড়া আদর্শ ইউনিয়ন হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে।

শাহ মো. এমার হকের জন্ম ১৯৭৮ সালে। গেরদা ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত এক পরিবারে তার জন্ম। তার পিতা মরহুম শাহ মহিউদ্দিন আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসাবেই শাহ মো. এমার হকের পরিচিত রয়েছে। তার বড় ভাই শাহ আজমল উদ্দিন (মিঠু) ছিলেন ফরিদপুর কোতয়ালী থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, গেরদা ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও গেরদা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি।

বর্তমানে গেরদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে সরব আলোচনায় রয়েছেন শাহ মো. এমার হক। এলাকার সব বয়সী মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে যাচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে তিনি তার প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গেরদা ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার অভিপ্রায় নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বলে জানালেন রাজনীতির মাঠে পরীক্ষিত নেতা শাহ মো. এমার হক। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসংঙ্গে শাহ মো. এমার হক বলেন, সব সময় মানুষের কল্যানে কাজ করি। এলাকার মানুষের বিপদে-আপদে এগিয়ে যাই। অসহায় মানুষকে যতটুকু পারি সাহায্য সহযোগীতা করি। যেহেতু মানুষের সেবায় কাজ করছি, তাই মনে করেছি চেয়ারম্যান হলে আরো কাজ করতে পারবো। সেই ইচ্ছে অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছি। এজন্য পরিবারের সকলের সাথে কথা বলেছি। এলাকার নবীন-প্রবীনদের সাথেও কথা বলেছি। তারা আমাকে উৎসাহ দিয়েছে। নির্বাচনে আমার পাশে থাকার কথা বলেছে। এলাকার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা দেখিয়েছে এজন্য আমি আমার গেরদাবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আমি আশা করি দল যদি আমাকে নৌকা প্রতিক দেয় তাহলে এলাকার মানুষ আমাকে বিপুল ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে আশা করছি। এক প্রশ্নের জবাবে শাহ মো. এমার হক বলেন, ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছি। রাজনীতি করতে গিয়ে জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই নানা অত্যাচার নির্যাতন সইতে হয়েছে। তারপরও আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে একচুল পরিমানও সরে যাইনি। আমি আশা করছি দল আমাকে মনোনয়ন দেবে। দল থেকে যদি আমাকে মনোনয়ন না দেয় তাহলে যাকে মনোনয়ন দেবে তার জন্যই আমি কাজ করবো। আমি মনে প্রানে আওয়ামী লীগ করি, তাই আওয়ামী লীগের যে কোন সিদ্ধান্তই আমি মেনে নেবো।

আরও পড়ুন...

সদরপুরে গাছে বেঁধে নির্যাতনের আসামীরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুরের সদরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি পরিবারের সকলকে গাছের সাথে বেঁধে …

স্কুল শিক্ষকের বাড়ী দখলের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট খোদাবক্স সড়কের খৃষ্টার্ন মিশন (বয়েজ হোম) এর পাশে এক মাদ্রাসার …