14 Falgun 1427 বঙ্গাব্দ শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » বোয়ালমারী » চোর আখ্যা দিয়ে স্কুল ছাত্রকে বেদম পিটুনী, হাসপাতালে ভর্তি

চোর আখ্যা দিয়ে স্কুল ছাত্রকে বেদম পিটুনী, হাসপাতালে ভর্তি

কামরুজ্জামান সোহেল।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া গ্রামে ৫ম শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রকে চোর আখ্যা দিয়ে বেদম পিটুনী দিয়ে মারাত্বক ভাবে আহত করা হয়েছে। আহত অবস্থায় স্কুল ছাত্রকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। সারা শরীরজুড়ে আঘাতের চিহৃ নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ব্যাথায় কাতরাচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীটি। এ ঘটনায় থানায় মামলার পুস্তুতি চলছে। স্কুল ছাত্রকে চোর আখ্যা দিয়ে পিটুনীর ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, দাদপুর ইউনিয়নের কোন্দারদিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক রাজা মোল্যার পুত্র, স্থানীয় রাঙামুলারকান্দি স্কুলের ৫ম শ্রেনীর ছাত্র মো. সাব্বির মোল্যা (১২) সোমবার ফজর নামাজের জন্য বাড়ী থেকে বের হয়ে বাড়ীর অদূরে মসজিদে যাচ্ছিল। মসজিদে যাবার পথে একটি গাছগাছালী ঘেরা বাগান পার হতে হয়। সাব্বির মোল্যা ভয়ের কারনে বাগানটি এড়িয়ে জনৈক মাজেদ মাস্টারের বাড়ীর উঠোনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় বাড়ীর লোকজন সাব্বিরকে ধরে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায়। মাজেদ মাস্টারের ছেলে ফারুক, জিয়াদ ও মাজেদ মাস্টারের নাতি হাসিব সাব্বিরের হাত পা বেঁেধ লাঠিদিয়ে বেদমভাবে প্রহার করে। এসময় তারা হাতের নখ প্লাস দিয়ে তুলে ফেলার চেষ্টা করলে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে সাব্বিরের বাবা-মা সেখান থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সাব্বিরের বাবা রাজা মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, আমার স্ত্রী মাজেদ মাস্টারের বাসায় দীর্ঘ ৬ বছর ধরে কাজ করে আসছিল। গত কয়েকমাস আগে অসুস্থ্যতার কারনে সে আর কাজ করতে পারবেনা বলে জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে মাজেদ মাস্টার। বিভিন্ন সময় মাজেদ মাস্টার ও তার ছেলেরা আমার ছেলে সাব্বিরকে তাদের বাড়ীর কাজ করে দিতে বলে। কিন্তু আমার ছেলে তাদের কাজ না করায় দেখে নেবার হুমকি দেয়। ভোরে আমার ছেলে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলে মাজেদ মাস্টারের ছেলে ও নাতি মিলে তাকে বেদমভাবে প্রহার করে। মারপিটের কারনে আমার ছেলের সারাদেশে মোটা কালো দাগ হয়ে গেছে। আমার ছেলের নখ ভেঙ্গে গেছে। সে এখন ঠিকমতো দাঁড়াতে এবং শুতেও পারছেনা। আশংকাজনক অবস্থায় তাকে ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের উপর নির্মম নির্যাতনের বিচার চাই।
সাব্বিরের মা মোসা. পানোয়ারা বেগম বলেন, আমার ছেলেকে যারা অমানুষিক নির্যাতন করেছে তাদের বিচার চাই। আমরা গরীব মানুষ বলে আমাদের উপর এমন অত্যাচার কেন করা হবে।
স্কুল ছাত্র সাব্বির জানায়, কয়েকজন তাকে জোর করে ধরে ঘরের ভেতর নিয়ে যায়। এসময় তারা আমার হাত-পা বেঁেধ লাঠি দিয়ে পেটাতে তাকে। আমার নখ উঠিয়ে ফেলার চেষ্টা করে। আমি চিৎকার শুরু করতে আমার মুখ বেঁধে ফেলে পেটাতে থাকে।
এ বিষয়ে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সেই মাজেদ মাস্টারের ছেলে ফারুকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সামনাসামনি কথা বলবো। আমি এখন ব্যস্ত আছি বলেই ফোনটি কেটে দেয়।
বোয়ালমারী থানার ওসি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন...

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য হবেই, পারলে ঠেকান-এমপি নিক্সন চৌধুরী

কামরুজ্জামান সোহেল। বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী স্বাধীনতা …

বোয়ালমারীতে ভাঙ্গা সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

বোয়ালমারী প্রতিনিধি # বোয়ালমারী পৌর শহরের প্রধান ও ব্যস্ততম সড়ক রেলস্টেশন রোডের স্টেশন সংলগ্ন সেতুটির …