7 Kartrik 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
Home » এক্সক্লুসিভ » ডিসিকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে এমপির বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়

ডিসিকে ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে এমপির বক্তব্য নিয়ে তোলপাড়

কামরুজ্জামান সোহেল ।
প্রকাশ্য সভায় জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন চৌধুরী দেখে নেবার হুমকি দেওয়াসহ নানা অশালিন ভাষায় আক্রমন করে বক্তৃতা করার ঘটনা নিয়ে গোটা জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গা উপজেলার এসিল্যান্ডকে খারাপ ভাষায় মোবাইল ফোনে কথা বলার বিষয়টি নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েচে। একজন এমপি’র এমন আচরন নিয়ে প্রশাসনের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এমপি নিক্সন চৌধুরীর ভিডিও এবং অডিও এখন হাজারো মানুষের হাতে হাতে ঘুরছে। ডিডিও এবং অডিওটি ভাইরাল হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও এসিল্যান্ডকে হুমকি দিয়ে কথা বলার ঘটনাটি নজীরবিহিন বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। এজন্য সাংসদকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইবার কথা বলেছেন অনেকেই।
গত শনিবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে নিক্সন চৌধুরীর সমর্থিত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী হাফেজ মোঃ কাউসার বিজয়ী হন। নির্বাচন শেষে চরভদ্রাসন উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে সমাবেশ করেন ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এ সমাবেশ থেকে তিনি হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে বলেন, জেলা প্রশাসক অতুল সরকার ১২জন ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে। অনেককেই অ্যারেষ্ট করিয়েছে। তিনি জেলা প্রশাসক অতুল সরকারকে ‘রাজাকার’ আখ্যায়িত করে বলেন, তিনি রাজাকার না হলে মাত্র ৪টি ইউনিয়নে ১২ জন ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছেন কেন? সেই ম্যাজিষ্ট্রেটরা যেখানে আমার নেতা-কর্মীদের পেয়েছে সেখানেই হামলা করেছে। আমার কর্মীরা ভেঙ্গে পড়েছিল, কিন্তু আমি বলেছি, আপনারা ভয় পাবেন না। আমি বলেছি, ওনি তো কেবল জেলা প্রশাসক, ওনার চেয়ে বড় বড় প্লেয়ার আমি দেখে এসেছি। ওইসব সরকারী গুন্ডাদের থেকে আমাদের নেতা-কর্মীরা জানবাজী রাইখ্যা তাদের প্রতিহত কইর‌্যা জনগনের ভোট জনগনকে দিয়া নৌকাকে ১১ হাজার ভোটে বিজয়ী করছে। এমপি নিক্সন বলেন, অনেকেই বলে নৌকা প্রতিক পাইলেই নাকি বিজয়ী হয়, এইবার নৌকা পাইয়া আমি ঠেলাডা বুঝছি। নিক্সন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, জেলা প্রশাসক ১২ জন ম্যাজিষ্ট্রেট দিয়া নৌকাকে হারাইয়া বিএনপির প্রার্থীকে জিতানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। নিক্সন চৌধুরী হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, আমি জেলা প্রশাসককে সাবধান করে বলবো, আপনি ফরিদপুরেই দেখছেন অনেক বড় নেতার পতন হয়ে গেছে। ফরিদপুরের অনেক নেতা দুর্নীতির সাথে জড়িত, সেই নেতাদের বিচার হলে জেলা প্রশাসকেরও বিচার হবে। কারন বালুর ব্যবসার ভাগ জেলা প্রশাসকও পাইছে। আমি জেলা প্রশাসককে বলবো, আপনি যত বড় উপদেষ্টার নাতি হইয়া থাকেন না কেন আপনি নিক্সন চৌধুরীর সাথে চোখ রাঙাইয়া কথা বলবেন না। আমি যদি আমার জনগন নিয়া আপনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামি তাইলে কিন্তু আপনি এক মিনিটের জন্যও দম নিবার জায়গা পাবেন না। এ সময় উপস্থিত হাজারো জনতা জেলা প্রশাসকের নাম ধরে নানা অশ্লীল ভাষায় স্লোগান দিতে থাকেন। নিক্সন চৌধুরী বলেন, নৌকার এজেন্টদের সাথে ডিসি যে আচরন করেছে তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে এবং আগামী দিনে এই ডিসির বিচার না করা হয় তাইলে নৌকার নেতা-কর্মীরা রাস্তায় শুইয়া বিশ^রোড অবরোধ করে সবকিছু অচল করে দিবো। জেলা প্রশাসককে উদ্দেশ্য করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ওনি এক উপদেষ্টার ভয় দেখান, উনি মনে করেন ওই উপদেষ্টাই ওনার ক্ষমতা, আরে এমন উপদেষ্টা কত দেখলাম মিয়া। এছাড়া এমপি নিক্সন চৌধুরী ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে মোবাইল ফোনে মা-বাবা তুলে গালমন্দ করেন সেই অডিওটি এখন হাজারো মানুষের মোবাইল ফোনে ঘুরছে। এমপি নিক্সন চৌধুরীর এমন আচরন নিয়ে গোটা এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে এখন জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে এমপি নিক্সন চৌধুরীর সেই বক্তব্যের আলোচনা। নিক্সন চৌধুরীর কথা ভিডিও এবং অডিওটি ফেসবুক-এ ভাইরাল হবার পর হাজার হাজার মন্তব্য করছে সাধারন মানুষ। প্রকাশ্যে জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে অশালিন ভাষায় কথা বলায় অনেকেই এমপি বিচার দাবী করেছেন। এদিকে, স্বতন্ত্র এমপি মুজিুবর রহমান চৌধুরী নিক্সনের মন্তব্যের বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের কমকর্তাদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই বলেছেন, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে প্রকাশ্যে প্রশাসনের বিরুদ্ধে যে নোংরা ভাষায় কথা বলা হয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজীরবিহন। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জনগনকে খেপিয়ে তোলার সামিল। তাতে করে যে কোন সময় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপর হামলা হতে পারে।
ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, সাংসদ প্রকাশ্যে যেসব কথা বলেছেন তা সঠিক হয়নি। বিষয়টি শিষ্টাচারবর্হিভুত। ঘটনাটি উর্ধ¦তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
গত শনিবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্ল্যাহ’র সমর্থক হিসাে নৌকা প্রতিক পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক হাফেজ মোঃ কাউসার। পরবর্তীতে হাফেজ কাউসার কাজী জাফরউল্ল্যাহ’র পক্ষ ত্যাগ করে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর হাতে সোনার নৌকা তুলে দিয়ে তারপক্ষে চলে যান। এ নিয়ে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা কমিটি হাফেজ কাউসারকে দল থেকে বহিস্কারের কথা বলে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠায়। পরবর্তীতে নির্বাচনের দুইদনি আগে কেন্দ্র থেকে সেই বহিস্কারাদেশ নাকচ করে দেয়। এ নির্বাচনে মোট ৭ জন প্রার্থী অংশ নিলেও বিএনপির প্রার্থী এজিএম বাদল আমিন এবং স্বতন্ত্র সাংসদ মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সমর্থক আনোয়ার মোল্লা নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ান।

আরও পড়ুন...

ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে খেলাঘর

কন্ঠ রিপোর্ট ফরিদপুরে শিশু ও নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খেলা …

শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

কন্ঠ রিপোর্ট # ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তাম্বুল খানায় অবস্থিত শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় …