5 Kartrik 1427 বঙ্গাব্দ বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ফরিদপুর সদর » কতৃপক্ষকে না জানিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হলো স্কুল, স্থানীয়দের বিস্ময়

কতৃপক্ষকে না জানিয়ে ভেঙ্গে ফেলা হলো স্কুল, স্থানীয়দের বিস্ময়

বিশেষ প্রতিবেদক।
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রঙ্গরায়ের কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক তাদের ইচ্ছেমতো কর্মকান্ড চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল স্কুলটি নিজেদের কুক্ষিগত নেবার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের একমাত্র সেমিপাকা ভবনটি গত মাসে হঠাৎ করে ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। যা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ জানেন না বলে জানা গেছে। শুধু স্কুলের ভবন ভাঙ্গাই নয়, স্কুলটিতে ভুয়া সনদ নিয়ে চাকুরী করছে কয়েকজন শিক্ষক এমন অভিযোগও রয়েছে। তাছাড়া ভুয়া আইডি ব্যবহার করে ব্যাংকের হিসাব খুলে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। দুর্নীতির এসব নানা বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগে জানা গেছে, সালথার রঙ্গরায়ের কান্দি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন ছিল যা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হাসান কয়েক শিক্ষকের সাথে যোগসাজস করে তা বিক্রি করে দিয়েছেন। স্কুলে নতুন ভবন হবে এমন কথা বলে তা ভেঙ্গে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ফলে বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারী থাকলেও ভেতরে কোন ভবন নেই। যার কারনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল খুললে বিপাকে পড়বে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্কুলটিতে নতুন ভবন পাশ হলেও স্কুলের জায়গা নিয়ে জটিলতা থাকায় সেই ভবন নির্মান স্থগিত রাখে কতৃপক্ষ। স্কুল বাউন্ডারীর মধ্যে ১০টি মেহগনি গাছ থাকলেও তা কেটে ফেলা হয়েছে। যার কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি জানার পর জেলা বন কর্মকর্তা গাছ গুলো উদ্ধার করে তার হেফাজতে রাখেন। হঠাৎ করে কোন অনুমতি না নিয়ে ভবন বিক্রির বিষয়টি জানেন না বলে জানান, সালথা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ নিয়ামত হোসেন বলেন, আমি সালথায় নতুন যোগদান করেছি। এ বিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই। অনুমতি ছাড়া স্কুল ভবন কেন ভাঙ্গা হলো তার তদন্ত করা হবে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হঠাৎ করে স্কুল ভবন কেন ভাঙ্গা হলো তা তারা জানেন না। এমনকি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাও কিছুই জানেন না। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে না জানিয়ে কিভাবে একটি স্কুল ভবন ভেঙ্গে ফেলা হলো তার সঠিক তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলের কয়েকজন সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। যারা স্কুলে চাকুরী পেয়েছেন তাদের নাম ব্যবহার করে চাকুরী করছেন অন্যরা। এ নিয়ে অভিযোগ করা হলে বিষয়টি সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত বেতন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। পরবর্তীতে তিনমাস শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রাখা হয়। তদন্ত শেষ না হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে ফের বেতন চালু হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, স্কুলটিতে বর্তমানে কোন ভবন বা ঘর না থাকলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মাহমুদুল হাসান বিদ্যালয়ের ভবন মেরামত বাবদ স্লিপ কার্যক্রমের ৭০ হাজার টাকা, রুটিন মেরামতের ৪০ হাজার টাকা, প্রাক প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছে। যা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া শিক্ষক সৈয়দ মাহমুদুল হাসান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০৮ সালে যোগদান করলেও আরেকটি সরকারী চাকুরী করছেন। একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পে তিনি ২০১২ সাল পর্যন্ত চাকুরী করছেন। যা সরকারী নীতিমালা পরিপন্থি।
স্কুলের ভবন ভাঙ্গাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মাহমুদুল হাসানের সাথে কথা বলার জন্য ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন...

ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে খেলাঘর

কন্ঠ রিপোর্ট ফরিদপুরে শিশু ও নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খেলা …

শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

কন্ঠ রিপোর্ট # ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তাম্বুল খানায় অবস্থিত শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় …