7 Kartrik 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ফরিদপুর সদর » আওয়ামীলীগ ছিল ‘পকেট কমিটি’- শামসুল হক

আওয়ামীলীগ ছিল ‘পকেট কমিটি’- শামসুল হক

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাষ্টার বলেছেন, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ ছিল এমপি মোশাররফ হোসেনের পকেট কমিটি। দলের প্রতিবাদী কয়েক নেতা ছাড়া সবাই ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পকেটের লোক। বিএনপি-জামাত থেকে থেকে আসা নেতাদের আওয়ামী লীগে ঠাঁই দিয়ে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। ফলে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বঞ্চিত হয়েছেন। খন্দকার মোশাররফ হোসেন তার রাজনীতিকে নিবিঘœ করতে নানাবিধ অর্থনৈতিক অপকর্মে লিপ্ত হন। তার ছাত্রছায়ায় এ জনপদে চলতে থাকে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র। তারই অনুসারীরা ফরিদপুর শহরকে নরকে পরিনত করে রেখেছিল। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, টেন্ডারবাজী, জমি দখল, চাঁদাবাজী, হামলা-মামলা এমন কোন অপকর্ম নেই যা তার প্রাইভেট বাহিনী করেনি। বর্তমানে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে মোশাররফ হোসেন ও তার অপকর্মের সহচরেরা কেউ কেউ গ্রেফতার হয়েছেন। অনেকেই এখনো গ্রেফতার হননি, তাদের আটক করা দরকার। বর্তমানে আওয়ামী লীগে অচলাবস্থা চলছে। যে কমিটির সভাপতি-সাধারন সম্পাদক জননেত্রী শেখ হাসিনা কতৃর্ক মনোনীত হয়েছিল, সেই কমিটি পরবতীকালে পূর্নগঠনের সময় ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দুর্বৃত্তায়নের মহানায়কের প্রভাবে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়। কমিটিতে অনেকেই স্থান পান যারা বিএনপিসহ অন্যান্য দল থেকে এসেছে এবং জি¦ হুজুর, জি¦ হুজুর করে সেই বিতর্কিত নেতার পা ধরতে পেরেছে। ফলে দলের সৎ ও নিষ্ঠাবান নেতারা পদবঞ্চিত যেমনি হয়েছে, তেমনি পদে পদে লাঞ্ছনার শিকার হয়ে রাজনীতি থেকে নিস্ত্রিয় হতে বাধ্য হয়েছে। করোনাকালীন সময়েও দলের মধ্যে থাকা দুর্নীতিবাজরা নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন। বর্তমানে দলে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তা ফরিদপুরবাসী ইতিবাচক হিসাবে দেখছে। দুর্নীতি বিরোধী যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তা অব্যাহত রাখতে হবে। কারন-রাজনৈতিক ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে যারা নানা উপায়ে অঢেল অর্থ সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তাদের অনেকেই রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সুনাম যিনি ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন সেই খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং তার ভাই মোহতেশাম হোসেন বাবরকে আইনের আওতায় আনা হলেই শুদ্ধি অভিযান সফল হবে। ভোলা মাষ্টার বলেন, রাজনীতি মানে ঘরের খেয়ে বনের মেষ তাড়ানো’র মতো। রাজনীতি কোন পেশা বা ব্যবসা হতে পারেনা। যারা রাজনীতিকে পেশা ও ব্যবসা হিসাবে নিতে চান সেইসব লোকদের জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেখতে চাইনা। নতুন কমিটির বিষয়ে ভোলা মাষ্টার বলেন, নেত্রী তার বিভিন্ন এজেন্সীর মাধ্যমে এলাকায় জড়িপ চালিয়ে সৎ এবং নীতিবান ও জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে যিনি নিষ্ঠাবান তাদের দিয়েই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি করবে এটাই আমার প্রত্যাশা। বিগত দিনে যারা জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠন গুলোতে কলঙ্কিত করেছে তাদের দল থেকে বহিস্কারের পাশাপাশি আইনের আওতায় এনে বিচারের সম্মুখীন করতে হবে। আর এটা করা হলে মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসবে। দলের মধ্যে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে তা নিয়ে সারাদেশে বেশ আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ অভিযানের জন্য দলীয় সভাপতি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়। নেত্রীর কারনেই আজ ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শুদ্ধি অভিযান সারাদেশের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। যারা অন্যায় করে, যারা অনৈতিক কর্মকান্ড করে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তারা দলের বড় পদে থাকলেও রেহাই পাননি। জননেত্রী শেখ হাসিনা কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না, তিনি দলের যত বড় নেতা, এমপি-মন্ত্রী হননা কেন।

আরও পড়ুন...

ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে খেলাঘর

কন্ঠ রিপোর্ট ফরিদপুরে শিশু ও নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে খেলা …

শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া মাদ্রাসায় নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

কন্ঠ রিপোর্ট # ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের তাম্বুল খানায় অবস্থিত শোলাকুন্ডু কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসায় …