8 Ashin 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » আলফাডাঙ্গা » আলফাডাঙ্গায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম

আলফাডাঙ্গায় সরকারি খাদ্যশস্য সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়ম

বোয়ালমারী প্রতিনিধি # ‘কাজীর গরু কিতাবে আছে, গোয়ালে নেই!’ এই প্রবাদ প্রবচনের জ্বলজ্বলে প্রমাণ মিললো ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহে সরকারি চাল ক্রয় কমিটির বরাদ্দে। এ বছর উপজেলাটির মোর্সাস নুর এন্ড ব্রার্দাস নামে একটি বন্ধ চালকলকে ৩০৭ মেট্রিক টন চাল সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খাতাপত্রে ইতোমধ্যে মিলটি থেকে সংগ্রহও করা হয়েছে ১০২ মেট্রিক টন চাল! অথচ সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে বরাদ্দকৃত চালকলটি বন্ধ পরে আছে বেশ কয়েক বছর। চালকলটির চাতালটি জুড়ে ধুলো, বালি, আবর্জনার স্তুপ, আর ঘাস, আগাছা-লতাপাতার জঙ্গল। বন্ধ চালকলটির দশভাগের একভাগ জায়গা স্থানিয় এক চাল ব্যাবসায়ী বাৎসরিক লিজের বিনিময়ে ধান সিদ্ধ, শুকনো করে থাকেন। মাত্র তিনজন শ্রমিক দিনে ২০ থেকে ৩০ মন ধান প্রক্রিয়াজাত করতে পারে বলে জানান একজন শ্রমিক। মিলটির মিস্ত্রি জানান, চালকলটির মূল মালিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আকরাম হোসেন ও তার ছোট ভাই মোঃ নুরুজ্জামান। তারা চাতালের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছে দীর্ঘদিন। অনুরুপ আলফাডাঙ্গার কুসুমদি গ্রামে বিসমিল্লাহ রাইচ মিলও প্রায় বন্ধ। কোন শ্রমিক নেই। মিল মালিক ও তার পরিবারের সদস্যরা সামান্য কিছু ধান সিদ্ধ শুকনো করে থাকে। মিলটির স্বত্বাধিকারী ফজলুর রহমান জানান এ বছর তিনি মিলটিতে ২৮ মেট্রিকটন চাল সরবারহের বরাদ্দ পেয়েছেন । অথচ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রেক কার্যলয়ের আহরণ ও ব্যয়ন কর্মকর্তা মোঃ হারুনার রশিদের স্বাক্ষরিত বরাদ্দ আদেশে দেখা যায় চালকলটি বরাদ্দ পেয়েছে ৭৮ মেট্রিকটন। ফজলুর রহমান এ পর্যন্তু ১৬ টন চাল খাদ্যগুদামে সরবরাহের দাবি করলেও খাদ্যগুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশিকুর রহমান জানান, বিসমিল্লাহ রাইস মিল এ বছর কোন চালই সরবরাহ করেননি। তিনি আরো জানান,আমি নতুন এসেছি আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বরাদ্দকৃত চালের মধ্যে ১০২ মেট্রিকটন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। চালটি দিয়েছে নুর এন্ড ব্রাদার্স রাইচ মিল। এ ব্যপারে মোর্সাস নুর এন্ড ব্রার্দাস চালকলের স্বত্বাধিকারী মোঃ নুরুজ্জামান এর মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ট করা হয়। কিন্তু মোবাইলটি বন্ধ থাকায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। ফরিদপুূর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ সাহিদার রহমান জানান,”আমি সদ্য ফরিদপুরের যোগদান করেছি। ইতোপূর্বে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্যে সংগ্রহে আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কিছুটা অনিয়মের বিষয় আমি অবগত হয়েছি। এ বিষয়ে আমার উদ্ধতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। এবং ফরিদপুর জেলায় ভবিষ্যতে খাদ্যশস্য সংগ্রহে যাচাই-বাছাই করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।”
একাধিক চাল ব্যাবসায়ী জানান, প্রকৃতপক্ষে সরকারী খাদ্যশস্য সংগ্রহে প্রকৃত কৃষক বা মিল মালিকগণ খাদ্য গুদামে ধান বা চাল সরবরাহ করে না। চালকলে বরাদ্দ দেওয়া হলেও চাতাল মালিক ও খাদ্যগুদামের কর্মকর্তারা যোগসাজশ করে গোপনে বাইরে থেকে নিম্নমানের চাল সংগ্রহ করে থাকে। যার প্রমাণও মিলেছে উপজেলাটিতে। এ বছরই খাদ্য গুদামে সংরক্ষিত ভাল চালের সাথে নিম্নমানের চালের মিশ্রণ ঘটিয়ে গুদামজাত করতে গেলে উপজেলা চেয়ারম্যান একেএম আহাদুল হাসানের নিকট হাতেনাতে ধরা পড়েন সদ্য প্রত্যাহার করে নেওয়া ওসিএলএজডি ইকরামুল হক। তদন্তে দোষী সাবস্ত হওয়ায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ইকরামুল হককে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন...

আলফাডাঙ্গা উপজেলা সেজে উঠছে পরিকল্পিত উন্নয়নের ছোঁয়ায়

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদ চত্বর নান্দনিকতার ছোঁয়ায় সেজে উঠছে। আর এর কারিগর উপজেলা পরিষদের সুযোগ্য …

তালিকায় নাম আছে, কিন্তু ১৭ মাসেও চাল পাচ্ছেনা ১৩ নারী

কামরুজ্জামান সোহেল # তালিকায় নাম থাকার পরও ১৭ মাসেও ভিজিডি কার্ড ও চাল পাননি অন্তত …