24 Joishtho 1427 বঙ্গাব্দ রবিবার ৭ জুন ২০২০
Home » মিডিয়া » বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম নাকি গণমাধ্যম মুক্ত দিবস

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম নাকি গণমাধ্যম মুক্ত দিবস

কামরুজ্জামান সোহেল, গণমাধ্যমকর্মী।
আজ ৩ মে। বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস। আসলেই এটি কি মুক্ত গণমাধ্যম মুক্ত দিবস। নাকি গণমাধ্যম মুক্ত দিবস। আমরা যারা মফস্বলে সাংবাদিকতা করি তারা আজ কতটা ভালো আছি তার খবর কি রেখেছে আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলো। যারা মুক্ত সাংবাদিকতার কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেন তারা আসলে কি চায়। সত্যি কথাটা অনেক সময় বলা যায়না। কিংবা বলতে দেয়া হয়না। তারপরও আমরা সত্যটা মেনে নিয়েই কাজ করি। আপনি যখন কারো বিপক্ষে লিখবেন তিনি ক্ষুব্দ হবেন সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সত্যটা যখন আপনি লিখবেন তখন তখন কয়েকটি পক্ষ আপনার বিপক্ষে চলে যাবে। তার মধ্যে একটি পক্ষ বেশ শক্তিশালী, আর সেটা হলো ‘ তথাকথিত সাংবাদিকরা’। বিক্ষুব্দ পক্ষটিকে নানা আশ্বাস প্রলোভন দেখিয়ে ‘তথাকথিতরা’ সত্যটিকে মিথ্যা বানানোর প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হন। অনেক সময় জিতেও যান তারা। সারাদেশর চিত্র কিন্তু একই। মফস্বলে আমরা যারা সাংবাদিকতা করি তারা যেন ‘দশ হাত’ নিয়ে কাজ করতে হয়। ঘটনাস্থলে যাওয়া থেকে শুরু করে সংবাদ সংগ্রহ, চিত্রধারন, সেই ধারনকরা চিত্র বানানো, সংবাদ লেখা, অফিসে পাঠানো। সবই করতে হয় নিজেকে। অথচ একটু দেরি হলেই শুনতে হয় নানা ‘বকাঝকা’। আসলে কেউই আসল চিত্রটি বুঝতে চান না। বর্তমানে নানা চাপের মুখে কাজ করতে হয় মফস্বল সাংবাদিকদের। রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারী, বেসরকারী দপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা চান তাদের পক্ষের হয়ে সাংবাদিকেরা কাজ করেন। যদি কেউ তা না করেন তাহলে তো কথাই নেই। মামলা-হামলাসহ নানা মিথ্যা অভিযোগে হেনস্থা করার নজিরও রয়েছে। আর দালালী না করে তো উপায়ও নেই। পত্রিকার বিজ্ঞাপন দরকার, তাই দালালী তো করতেই হবে। যারা দালালী করেন না, তারা বিজ্ঞাপন পাননা। অফিস থেকে বলা হয়, ওমুক বিজ্ঞাপন দিচ্ছে তার পত্রিকায় আপনি কেন পারছেন না। আর নিজেদের প্রতিষ্ঠানের কথা আর নাই বললাম। কিভাবে একজন সাংবাদিক কাজ করেন, সংসার চালান তার খবর কি নেয় প্রতিষ্ঠান গুলো। কথায় কথায় অনেকেই বলেন, সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। আসলেই কি তাই। যদি তাই হবে, তাহলে একজন সাংবাদিককে কেন মিথ্যা অভিযোগে জেলে যেতে হবে। কেন তাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হবে। কেন তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে অনৈতিক কাজে বাধ্য করা হবে। কেন তাকে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে হাতকড়া পড়িয়ে জেলে পাঠানো হবে। আরও কত কি, এসব না বলাই ভালো। আমরা যারা মূলধারার সাথে যুক্ত রয়েছি তারা নানা সংগ্রামের মধ্যদিয়ে দিনযাপন করছি। আর যারা ‘টাকা দিয়ে কার্ড কিনে’ সাংবাদিক বনেছেন, যারা অন্যের সংবাদটি কপি টু পেষ্ট (অনেকেই কোন কাজই করেন না) করে নিজেকে জাহির করার চেষ্টায় রয়েছেন, তারা কিন্তু অনেক ভালোই আছেন। নিজের জেলা শহরেই নয়, অনেক জেলা থেকেও এমন খবর আসে আমাদের কাছে। অনেকেই তাদের দুঃখ-দুরবস্থার কথা বলে হতাশায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করেন। আসলে মফস্বলে সাংবাদিকতা করে আমরা বুঝতে পারিনা আজ ‘মুক্ত গণমাধ্যম দিবস, নাকি গণমাধ্যম মুক্ত দিবস।

আরও পড়ুন...

কে মরি, কে বাঁচি জানি না

মতিউর রহমান চৌধুরী কে মরি, কে বাঁচি জানি না। জানে শুধু উপরওয়ালা। তার হাতেই সবকিছু। …

ফরিদপুরে নানা আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

কন্ঠ রিপোর্ট # ফরিদপুরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী …