24 Joishtho 1427 বঙ্গাব্দ রবিবার ৭ জুন ২০২০
Home » এক্সক্লুসিভ » কোথায় যাচ্ছি আমরা

কোথায় যাচ্ছি আমরা

করোনা ভাইরাস একে একে জীবন কেড়ে নিচ্ছে। তবুও হুশ নেই আমাদের। আমরা যেমন ছিলাম, তেমনই আছি। সৃষ্টিকর্তার বিশাল সৃষ্টিশীল নানা অংশকে আমরা নিজেরাই ধ্বংস করেছি। নানা অন্যায় কাজে জড়িত থেকেছি। সত্যকে মিথ্যা দিয়ে আর মিথ্যাকে সত্য দিয়ে গায়ের জোরে, ক্ষমতার জোরে চালিয়ে দিয়েছি। এহেন কোন অপকর্ম নেই যা আমরা করিনি। সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করতে গিয়ে নামাজ-রোজা যেমন করছি, তেমনি নিজে অন্যায়-অসত্যের মধ্য দিয়ে জাগতিক সুখের আশায় অসৎ কর্ম করতেও পিছপা হইনি। জেনে শুনে এবং বুঝেই অন্যায়-অবিচার করেছি। বর্তমান সময়ে আমরা এক মহাক্রান্তিকাল অতিক্রম করছি। ‘করোনা’ নামক অদৃশ্য ভাইরাসের কারনে মানুষ মরছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু আমাদের মনে কোন হুশই নেই। আমরা আমাদের মতো করেই চলছি। এই মহা দূর্যোগের সময় মানুষ যখন বাঁচার পথ খুঁজছে, তখনও চোরের দল গরীবের হক ‘চাল’ চুরি করেই যাচ্ছে। মনে তাদের যেমন নেই মরনের ডর, নেই তেমন জেলে থাকার ভয়। মহামারী আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে ‘ অমানুষ’ কখনো ‘মানুষ’ হয়না। মানুষ হিসাবে জন্ম নিলেই মানুষ হয়না, তাকে মানুষ হতে হয়। আমরা কেউ কেউ অমানুষই থেকে যাচ্ছি। করোনার ভয়ে নিজ সন্তান তার মাকে ফেলে আসছে বনে-জঙ্গলে। এই মহামারীর মধ্যেও পিতা তার নিজ কন্যাকে ধর্ষন করছে। ফেসবুক লাইভে এসে স্বামী তার স্ত্রীকে নৃসংশভাবে হত্যা করছে। স্বামীকে হত্যা করে স্ত্রী পালিয়ে গেছে আরেকজনের সাথে। শুধু কি তাই, এই দুর্যোগেও আমরা রাজনীতি করছি। যে যেভাবে পারছে গালমন্দ করছে প্রতিপক্ষকে। অথচ এমনটি হবার কথা নয়। মহামারী থেকে মানুষকে বাঁচাতে দল-মত নির্বিশেষে দাঁড়ানোর কথা রাজনীতিবিদদের। সাহায্যের ত্রাণও নাকি যাচ্ছে মুখ চিনে চিনে। অনেকেই দু’এক মুঠো চাল দিয়ে ‘ফেসবুক’-এ মানবতাবাদী দরদী সাজার প্রতিযোগীতা করছেন। হাসপাতালে মুর্মুর্ষ রোগীদের চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ মরছে। করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল কতৃপক্ষও ঠেলাঠেলিতে ব্যস্ত। অমুক হাসপাতাল কতৃপক্ষ বলছে আমাদের জনবল, যন্ত্রপাতি নেই, অমুক হাসপাতালটিকে বেছে নিন। দিনে-দুপুরে কুপিয়ে পা বিচ্ছিন্ন করে সেই কাটা পা নিয়ে কি উল্লাস না করছি আমরা। করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু না হলেও সেই লাশের কাছে নিজ পুত্র-কন্যা, স্ত্রী ও স্বজনেরাও যাচ্ছেন না। আমাদের মরনের ভয় খুব বেশী। কিন্তু হাট-বাজারে গেলে তা মানতেই কষ্ট হয়। হাজারো মানুষের ভীড়ে যে ‘করোনা’ একাকার হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসন-পুলিশ কি আপ্রান চেষ্টা করছে আমাদের ঘরে রাখতে, কিন্তু আমরা পাত্তাই দিচ্ছি না।
আমরা কতটা নিলজ্জ আর বেহায়া ও মনুষ্যবোধ হারিয়েছি তার একটি উদাহরন দিতে চাই- জেলার একটি উপজেলায় সরকারী ‘ধান’ কেনা নিয়ে বিস্তর ‘চালাকি’ হলো। তারপর সেই ধান থেকে চাল করতে একটি রাইস মিলের মালিককে দেয়া হলো ধান। সেই মিল মালিক বেশীদাম পেয়ে সেই সরকারী চাল বেচে দিলো। তিনি এখন ব্যস্ত প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে। কি বিধঘুটে, অদ্ভুত কিসিমের মানুষ আমরা। দুনিয়ার একটুকরো সুখের আশায় কি না করছি আমরা। হায়রে মানুষ, মানুষ হিসাবে জন্ম নিলেও মানুষ হলাম না। মরনের পর সৃষ্টিকর্তার কাছে কি জবাব দেবো আমরা।

পাদটিকা- সবশেষে স্যালুট জানাই সেই মহানায়ককে যিনি এই ভীতিকর পরিস্থিতিতেও নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে রোগীদের সেবা করতে করতে চলে গেলেন না ফেরার দেশে সেই ডা. মইনকে। মহান রাব্বুল আলামিন ডা. মইনকে জান্নাত দান করুক। যারা মহামারীতে মানুষের জন্য ভালো কিছু করছেন তারা ‘পরকালে’ ভালো কিছু পাবেন এবং যারা এই দূর্যোগেও ‘চাল চুরি’ ও ‘অপকর্ম’ করছে তারা সাজা পাবেন এই প্রত্যাশা করছি।

-কামরুজ্জামান সোহেল, গণমাধ্যমকর্মী।

আরও পড়ুন...

কে মরি, কে বাঁচি জানি না

মতিউর রহমান চৌধুরী কে মরি, কে বাঁচি জানি না। জানে শুধু উপরওয়ালা। তার হাতেই সবকিছু। …

সদরপুরে দুঃস্থ্য মহিলাদের চাল নিয়ে ‘চালবাজি’

কামরুজ্জামান সোহেল # ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে ভিজিডি উপকারভোগীদের অর্ধশতাধিক ভুয়া কার্ড বানিয়ে তা …