30 Ashar 1427 বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ফরিদপুর সদর » ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা-ক্ষোভ ও আতংকে শহরবাসী

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা-ক্ষোভ ও আতংকে শহরবাসী

ফরিদপুরে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহরে অবস্থিত জেনারেল হাসপাতালকে বেছে নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জনবহুল এলাকায় করোনার রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ায় আশ পাশের ঘনবসতিপূর্ন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকছে। পাশাপাশি এ হাসপাতালটিতে নেই কোন যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা। ফলে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা এখান থেকে তেমন কোন চিকিৎসা সেবা পাবেন না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শহরবাসীর মনে প্রশ্ন উঠেছে, আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে গড়া উঠা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিকে কেন বেছে নেওয়া হলোনা। যেখানে যন্ত্রপাতিসহ লোকবল সবাই রয়েছে।
জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ( ক্লিনিক ও হাসপাতাল ) আমিনুল হাসান ও ঢাকা বিভাগীয় পরিচালক শেখ হাসান ইমামের মৌখিক নির্দেশে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে শুধুমাত্র বেড ছাড়া অন্য কোন সুবিধা নেই। রোগীদের পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজকে বেছে নেওয়া হয়েছে। আর ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জন আইসিইউ প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনা রোগীদের জন্য তিনটি স্থানে পৃথক ভাবে পরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা হয়েছে। ফলে রোগীদের চিকিৎসার বদলে ভোগান্তি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি সাড়ে ৭শ বেডে রুপান্তরিত। সেখানে আধুনিক সব সুযোগ সুবিধা এবং লোকবল রয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের থাকার জন্য পর্যাপ্ত রুম রয়েছে। কিন্তু জেনারেল হাসপাতালে এর কোনটিই নেই। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জেনারেল হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, জেনারেল হাসপাতালে তেমন কোন সুযোগ সুবিধা নেই। নেই প্রয়োজনীয় লোকবল। করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬০ জনের একটি টিম প্রস্তুত করার কথা বলা হয়েছে। যারা হাসপাতালে থেকেই রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেবেন। এই হাসপাতালে এত জনবল নেই। তাছাড়া চিকিৎসক ও তাদের সহযোগীদের থাকার জন্য রুম নেই। নেই আধুনিক কোন যন্ত্রপাতি। ফলে রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিয়ে আমরা চিন্তিত রয়েছি।
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালটিকে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহরবাসী। তারা বলছেন, শহরের গুরুত্বপূর্ন ও জনবহুল এলাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবার ফলে রোগটি ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। শহরের অনেকেই বলছেন, এ হাসপাতালটি সংলগ্ন জেলখানা, পৌরসভা, সরকারী বালিকা বিদ্যালয়, মার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ন অফিস রয়েছে। তাছাড়া হাসপাতালটির পাশে বড় একটি বস্তি রয়েছে। যেখানে কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করে। এছাড়া হাসপাতালটির আশ পাশে আবাসিক এলাকা। এ হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা এবং তাদের যাতায়াতের ফলে রোগটি শহরবাসীর মাঝে ব্যাপক ছড়িয়ে পড়তে পারে। জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেবার ঘোষনায় আমরা আতংকের মধ্যে রয়েছি। ফরিদপুরের সচেতন মহল মনে করে, আধুনিক সুবিধা ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকার পরও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিকে বাদ দিয়ে কেন জনবহুল এলাকায় অবস্থিত জেনারেল হাসপাতালকে বেছে নেওয়া হলো। তারা একটি একটি ষড়যন্ত্র হিসাবে তা দেখছেন।
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. সিদ্দিকুর রহমান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মৌখিক নির্দেশে আমরা করোনা রোগীদের জন্য হাসপাতালটিকে প্রস্তুত করেছি। তবে এ হাসপাতালে জনবল ও আধুনিক যন্ত্রপাতি না থাকায় চিকিৎসা সেবা কতটা দিতে পারবো তা বলতে পারছিনা।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুরে ‘সাদ পরিবহন’ চলাচলে বাঁধা প্রদানের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সিদ্দিকী কামরুলের মালিকানাধীন সাদ …

ফরিদপুরে একদিনে নতুন করে আরো ৮৯ জনের করোনা সনাক্ত

সোহাগ জামান। ফরিদপুরে নতুন করো আজও ৮৯জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় …