23 Joishtho 1427 বঙ্গাব্দ শনিবার ৬ জুন ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » নগরকান্দা » ফরিদপুরে পিয়াজ নিয়ে বিপাকে হাজারো চাষী

ফরিদপুরে পিয়াজ নিয়ে বিপাকে হাজারো চাষী

কামরুজ্জামান সোহেল #
পিয়াজের রাজধানী হিসাবে খ্যাত ফরিদপুরের পিয়াজ চাষীরা ভালো নেই। এ বছর পিয়াজের দাম আশাতিত ভালো পাওয়ায় রেকর্ড পরিমান জমিতে আবাদ করা হয় পিয়াজের। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে দিনমজুর সংকটের কারনে পিয়াজ নিয়ে মহা ঝামেলায় পড়েছেন চাষীরা। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন এলাকার বেশীর ভাগ খেত থেকে পিয়াজ তুলতে পারছেন না আবাদকারীরা। ফলে অনেক পিয়াজ খেতে থেকে নষ্ট হবার উপক্রম হয়েছে। অন্যদিকে, পরিবহন বন্ধ থাকায় খেত থেকে উঠানো পিয়াজ বাজারজাত না করতে পেরে হতাশার মধ্যে রয়েছে চাষীরা। ফরিদপুর জেলার মধ্যে সবচে বেশী পিয়াজ আবাদ হয়ে থাকে ফরিদপুর সদর, নগরকান্দা, সালথা, ভাঙ্গা, আলফাডাঙ্গা উপজেলায়। গত বছরের শেষের দিক থেকে পিয়াজের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেলে কৃষকেরা নতুন করে স্বপ্ন বুনতে থাকে। পিয়াজ বিক্রি করে বেশ লাভবান হয় কৃষক। ফলে এ বছর শুরুতেই অধিক সংখ্যক জমিতে পিয়াজ আবাদ করে চাষীরা। বিগত দিনের তুলনায় এ বছর ফরিদপুর জেলায় রেকর্ড পরিমান জমিতে আবাদ হয় পিয়াজের। গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বেশী আবাদ হয় পিয়াজ। এ বছর পিয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। কিন্তু দাম ভালো পাওয়ায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে বেশী আবাদ করে কৃষকেরা। আবাদের দিক দিয়ে জেলার মধ্যে অর্ধেকের বেশী পিয়াজ আবাদ হয়েছে নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায়। এ মাসের প্রথম দিকে কিছু খেতের পিয়াজ উঠানো শুরু হয়। কিন্তু গত এক ১০/১২ দিন ধরে পিয়াজ উঠাতে পারছেনা কৃষকেরা। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেত থেকে পিয়াজ উঠানোর কাজ করলেও বেশীর ভাগ খেতেই রয়ে গেছে পিয়াজ। ফলে দিনের পর দিন খেতে পিয়াজ থাকায় তা নষ্ট হতে বসেছে। নগরকান্দার কাইচাইল গ্রামের কৃষক আবু সাইদ জানান, তিনি এ বছর কয়েক বিঘা জমিতে পিয়াজ লাগিয়েছেন। কিন্তু দিনমজুরের অভাবে পিয়াজ তুলতে পারছেন না। বেশী দাম দিয়ে দিনমজুরও পাওয়া যাচ্ছেনা। ফলে খেতেই রয়ে গেছে পিয়াজ। এভাবে মাঠে পিয়াজ পড়ে থাকলে তার বড় ধরনের লোকসান হবে বলে জানান। একই কথা জানান, কৃষক মোমরেজ মাতুব্বর, আলিম শেখ, সফিউদ্দিন কাজী। তারা বলেন, লাভের আশায় বিভিন্ন এনজিও ও সমিতি থেকে ঋন নিয়ে তারা পিয়াজ আবাদ করেছেন। খেতে পিয়াজ পড়ে থাকায় তারা চরম দুঃচিন্তার মধ্যে পড়েছেন। নগরকান্দা এলাকার বড় কয়েকজন পিয়াজ চাষী অভিযোগ করে বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনে অনেকেই পিয়াজ আবাদ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। তারা সময়মতো কৃষকদের পরামর্শ এবং মাঠ পরিদর্শন করতে না পারায় অনেক কৃষক ঠিকসময় মতো পিয়াজ আবাদ করতে পারেনি। কৃষকেরা জানান, গত বছর প্রতিদিন হিসাবে একেকজন দিনমজুর ৩শ থেকে ৫শ টাকায় পাওয়া গিয়েছিল। এবার পিয়াজ উঠানোর শুরুতে দিনমজুরের পারিশ্রমিক ঠিক থাকলেও পরবর্তীতে দিনমজুরের পারিশ্রমিক ৭শ টাকা দিয়েও পাওয়া যায়নি। করোনা ভাইরাসের কারনে এখন দিনমজুর এলাকাতে নেই বললেই চলে। ফরিদপুর জেলায় ফসলের মৌসুমে উত্তরাঞ্চল থেকে হাজার হাজার দিনমজুর আসলেও তারা এখন নেই। ফলে বিপাকে পড়েছেন পিয়াজ আবাদকারী কৃষকেরা। তাছাড়া যেসব কৃষক পিয়াজ তুলতে পেরেছেন তারা পরিবহন বন্ধ থাকার কারনে বাজারে নিতে পারছেন না।

আরও পড়ুন...

নগরকান্দায় ইউপি সদস্যের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দার কাইচাইল ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জাহাঙ্গির হোসেন মাতুব্বর (৫৫) এর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে …

নগরকান্দায় ১১ বছরের শিশু করোনায় আক্রান্ত

নগরকান্দা প্রতিনিধি # ফরিদপুরের নগরকান্দায় আরো একজন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে নগরকান্দায় করোনাভাইরাস …