23 Joishtho 1427 বঙ্গাব্দ শনিবার ৬ জুন ২০২০
Home » এক্সক্লুসিভ » সদরপুরে দুঃস্থ্য মহিলাদের চাল নিয়ে ‘চালবাজি’

সদরপুরে দুঃস্থ্য মহিলাদের চাল নিয়ে ‘চালবাজি’

কামরুজ্জামান সোহেল #
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে ভিজিডি উপকারভোগীদের অর্ধশতাধিক ভুয়া কার্ড বানিয়ে তা জালিয়াতি করে দীর্ঘদিন ধরে চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ ১ বছর পর বিষয়টি ধরা পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। এ বিষয়টি জানার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এছাড়া সঠিক কার্ডধারীদের চাল দিতে ট্যাগ অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিযোগে জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নে ২০১৯-২০ অর্থ বছরে দুঃস্থ্য ও অসহায় মহিলাদের জন্য ৯টি ওয়ার্ডে দুই বছর মেয়াদী ২শ ৮৪টি কার্ড বিতরন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব কার্ডধারীদের মধ্যে বেশীর ভাগই ভুয়া কার্ড বানানো হয় সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারের বিরুদ্ধে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্ডের চাল উঠিয়ে তা আত্মসাত করা হচ্ছিল। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবগত হলে তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং সঠিক কার্ডধারীদের চাল দেবার নির্দেশ প্রদান করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ পাবার পর যাদের নামে কার্ড করা হয়েছে কিন্তু কখনো চাল পাননি তাদের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চাল নেবার কথা জানানো হলে তারা হতবাক হয়ে পড়েন। ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ১১৮নং কার্ডধারী শিউলী বেগম জানান, তার নামে কার্ড হলেও তিনি কখনো চাল পাননি। ৩ মার্চ ইউনিয়নের সচিব তামান্না পারভীন চাল দেবার কথা বলে তার কাছ থেকে বেশকিছু টিপসই নেন বলে জানান। পরে ৩০ কেজি চাল দিলে আমি তা গ্রহন করিনি। কেননা আমার নামে ২০১৯ সাল থেকে কার্ড করা হয়েছে। ১৭৯ নং কার্ডধারী চায়না বিশ্বাস, ১৮৬ নং কার্ডধারী শিখার পিতা দেখানো হয়েছে খগেন বিশ্বাসকে। এ বিষয়ে খগেন বিশ্বাস বলেন, চায়না ও শিখা নামের আমার কোন মেয়ে নেই। তাছাড়া আমার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ে মালতি ভারতে বসবাস করে। আর অপর মেয়ে অঞ্জলীর বিয়ে হয়েছে চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ২০০ নং কার্ডধারী রিফা, ২০১ নং কার্ডধারী নারগিস, ২০৫ নং কার্ডধারী রিনা, ২০৮ নং কার্ডধারী নাজমা উপজেলার আকোটের চর, ঢেউখালী ও চরভদ্রাসনে বসবাস করে। এদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা কখনোই চাল পাননি বলে জানান। ১৯৫ নং কার্ডধারী শিউলী বেগমের তিনপুত্র দীর্ঘদিন যাবত প্রবাসে রয়েছেন। অথচ তাকে দুঃস্থ্য দেখিয়ে চাল আত্মসাত করা হচ্ছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর অনেক কার্ডধারীদের চাল দেয়া হয়েছে। অনেকেই চাল নিচ্ছেন না। কারন তাদের দীর্ঘ ১ বছরের চাল না দিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ২শ ৮৪টি কার্ডের মধ্যে বেশীর ভাগই ভুয়া বানানো কার্ড। এসব কার্ড দেখিয়ে প্রতিমাসে চাল উঠিয়ে নিচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারেরা।
বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন মহিলা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে চাল আত্মসাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূরবী গোলদার ট্যাগ অফিসারকে সঠিক কার্ডধারীদের চাল দেবার নির্দেশ প্রদান করেন। গত ২৪ ফেব্রয়ারি চাল বিতরনের দিন অধিকাংশ কার্ডধারী চাল নিতে না আসায় ২য় দফায় ৩ মার্চ চাল বিতরন করা হয়। এসময় ২শ ৮৪টি কার্ডের বিপরীতে ২শ ২৪টি কার্ডের চাল বিতরন করা হয়। বাকি ৬০টি কার্ডের চাল এখনো ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা ট্যাগ অফিসার মনিরুজ্জামান খলিফা জানান, অভিযোগের ভিক্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখনো তদন্ত শুরু হয়নি।
ভাষানচর ইউপি চেয়ারম্যান ছমির বেপারী জানান, যারা অভিযোগ করেছেন তারা কার্ডধারী। কার্ড নিয়ে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে সেটির দায় আমার একার নয়। আমি স্থানীয় মুরব্বী-মেম্বারদের মতামত নিয়ে কার্ড দিতে বলেছি। যদি কেউ এ কার্ড নিয়ে নয়ছয় করে তাহলে সেটি তার বিষয়।
সদরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুরবী গোলদার জানান, অভিযোগ পাবার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির রিপোর্টের পর বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন...

সদরপুরে খাদ্য সামগ্রী বিতরন নিক্সন চৌধুরীর

প্রভাত কুমার সাহা, সদরপুর। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকারের উদ্ভাবনী মানবিক সহায়তা প্রদানে সদরপুর উপজেলায় …

ত্রাণের কার্ড না পেয়ে ইউপি সদস্যের মাথা ফাঁটানো হলো

করোনা ভাইরাস দুর্যোগের সময় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কার্ড না পেয়ে এক ইউপি সদস্যের মাথা ফাটিয়েছেন …