27 Ashar 1427 বঙ্গাব্দ শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Home » এক্সক্লুসিভ » দখল আর আবর্জনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিনত কুমার নদ

দখল আর আবর্জনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিনত কুমার নদ

বিশেষ প্রতিবেদক #
ফরিদপুর জেলার মানচিত্র থেকে ক্রমেই ছোট হচ্ছে একসময়ের খর¯্রােতা কুমার নদ। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের দখলের কারনে জেলার মধ্যদিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদটি এখন তার ঐহিত্য হারিয়ে মরা খালে পরিনত হয়েছে। যদিও কুমার নদ খননের মাধ্যমে এ নদকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ হিসাবে খনন কাজ চলছে। তবে, দখলমুক্ত না হওয়ায় এ নদের বেশীর ভাগ অংশই এখন শীর্ন আকার ধারন করেছে।
ফরিদপুর শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া একমাত্র নদ হচ্ছে কুমার। ডিক্রিরচর ইউনিয়নের টেপুরাকান্দি থেকে পদ্মার উৎসমুখ থেকে শুরু হয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলা দিয়ে কুমার নদটি চলে গেছে গোপালগজ্ঞ জেলায়। একসময় কুমার নদে চলাচল করতো বড় বড় নৌকা-লঞ্চ। এসব নৌ-যান দিয়ে ফরিদপুর থেকে বিভিন্ন উপজেলায় মানুষ যাতায়াত করতো। কিন্তু কালের বিবর্তনে কুমার নদটি এখন মৃতপ্রায়। নদের বেশীর ভাগজুড়ে দখল হয়ে গেছে। প্রভাবশালী একটি মহল কুমার নদের পাড় দখল করে বাড়ী-ঘরসহ নানা স্থাপনা তৈরী করেছে। জেলার বেশীর ভাগ কৃষকই একসময় এ নদের পানি দিয়ে সেচ সুবিধা পেতো। কিন্তু সেই সুদিন আর নেই। ফরিদপুর অংশের ৭৬ কিলোমিটার কুমার নদের বেশীর ভাগ জুড়েই এখন চাষাবাদ হচ্ছে। কুমার নদের গতিপথ রুদ্ধ করা হয় এরশাদ আমলে। কুমার নদের অম্বিকাপুর অংশে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয় নদের গতিপথ। ফলে সেই সময় থেকেই মুলত কুমার নদটি তার ঐতিহ্য হারাতে থাকে। একদিকে দখল অন্যদিকে ময়লা আবর্জনা ফেলে এ নদের পানিকে দূষিত করা হচ্ছে। শহরের একাধিক স্থানের কুমার নদে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। শহরের ময়রাপট্রি, চকবাজার, আলিমুজ্জামান ব্রেইলী ব্রীজসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ন স্থানে ময়লা ফেলার স্থান হিসাবে বেছে নেয়া হয়েছে কুমার নদকে। শহর ও শহরতলীর অনেক স্থানেই বাসা বাড়ির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে এ নদে। সম্প্রতি ফরিদপুর পৌরসভা কতৃর্ক কুমার নদের পানি পরীক্ষায় ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। পৌরসভা সূত্র জানায়, কুমার নদের পানিতে জৈব্য দূষনের মাত্রা যেখানে প্রতি লিটারে শতকরা ৪০ ভাগ থাকার কথা সেখানে পাওয়া গেছে ৩৯৬ ভাগ। আর অজৈব্য দূষনের মাত্রা প্রতি লিটারে দুই হাজার ৮৮০ ভাগ। মলবাহিত জীবানুর মাত্রা দুই হাজার ৯৫০ ভাগ। কলেরা ও ডায়রিয়া সংক্রান্ত জীবানুর মাত্রা রয়েছে দুই হাজার ৫১০ ভাগ। এক সমিক্ষায় বলা হয়, পৌরসভার ৪৫ ভাগ বাসা বাড়ির মানববর্জ্য কখনো নিয়ম মাফিক পরিস্কার করা হয়না। এসব বাসা বাড়ির বেশীর ভাগ মানববর্জ্য বিভিন্ন ভাবে কুমার নদে ফেলা হচ্ছে। মল সংরক্ষনাগারের সাথে সরাসরি ড্রেনের সংযোগ করে অথবা ডোবা ও ভুগর্ভে এসব মানববর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন ভাবে তা কুমার নদে গিয়ে পড়ছে। এছাড়া ৫৫ ভাগের সেপটিক ট্যাংকের মানববর্জ্য কোন না কোন ভাবে কুমার নদে ফেলা হচ্ছে। কুমার নদের শহরের অংশের বড় তিনটি বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে এ নদে। ফলে কুমার নদের পানি বিষাক্ত আকার ধারন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা বিষয়টি নিয়ে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করলেও তাতে কোন কাজ হচ্ছেনা। পৌর এলাকার বাসিন্দা পূর্বখাবাসপুরের মাজেদুল হক, রথখোলা এলাকার স্বপন সাহা, মিলন শেখ জানান, আগে তারা কুমার নদে গোসল করতেন। এখন পানিতে ময়লা আর দূর্গন্ধ থাকায় এখন তারা আর নদে গোসল করেন না। ময়রাপট্রির হোটেল ব্যবসায়ী নাছির, মুরগী বাজারের ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, বাজারের অনেকেই নদে ময়লা ফেলছে। ফলে নদটি এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয়েছে। বাজারের ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলেছেন, নিদ্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার জায়গা থাকলে কেউ আর কুমার নদে ময়লা ফেলতো না। অনেকেই বলেছেন, কতৃপক্ষ যদি কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রন কিংবা জরিমানার ব্যবস্থা করতো তাহলে নদে ময়লা ফেলা কমতো।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ বলেন, কুমার নদের দখলমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা কাজ শুরু করেছি। নদ দখল করে যারা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুরে একদিনে নতুন করে আরো ৮৯ জনের করোনা সনাক্ত

সোহাগ জামান। ফরিদপুরে নতুন করো আজও ৮৯জনের করোনা সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলায় …

ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট নৌ বন্দর অপদখলের চেষ্টার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক। ফরিদপুর নৌ বন্দরের ইজারাদারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে অবৈধ প্রক্রিয়ায় নৌ বন্দরের অপদখলের চেষ্টার …