৭ অগ্রহায়ন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯
Home » সারাদেশ » যুবলীগ নেতা কাউছার আহাম্মেদের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারিসহ প্রতারণার অভিযোগ

যুবলীগ নেতা কাউছার আহাম্মেদের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারিসহ প্রতারণার অভিযোগ

মোঃ সোহেল রানা # মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার  একসময়ের ছাত্রদলের  কর্মী  বর্তমান মহাদেবপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ- সম্পাদক  কাউছার আহাম্মেদের বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারিসহ হাজারো প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ নেতা গতকাল বুধবার পাটুরিয়া ঘাটের পদ্মা রিভারভিউ হোটেলের তৃতীয় তলার ৩০৯ নাম্বার   কক্ষে এক তরুনীকে নিয়ে একান্তে সময় কাটানোর মুহুর্তে শিবালয় থানা  পুলিশের হাতে আটক হন ।  আটক এ নেতা উপজেলার সারাসিন গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে।

অনুসন্ধানে জানাযায়, ছোট বেলা থেকেই ধুরবাজ প্রকৃতির কাউছার। সময় সুযোগ বুঝে নানা সময়ে নানান জায়গাতে পদচারণা তার। নারী কেলেংকারি, ভুমি দখল, জাল দলিল,  জমি খারিজ,   সরকারী চাকুরী পাইয়ে দেওয়া, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া, সাংবাদিকতার কার্ড বানিয়ে দেওয়ার নামে  অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, কোথাও নিজেকে ডিবি অফিসার পরিচয় দেওয়া,  কোথাও নিজেকে দুদুক কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া, কোথাও নিজেকে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, কোথাও নিজেকে এমপির মেয়ের জামাই বলে পরিচয় দেওয়া, আবার কোথাও নিজেকে সাপ্তাহিক অপরাধ তথ্য পত্রিকার অডিট অফিসার পরিচয় দেওয়া সহ এমন কোন অপকর্ম নেই যার সাথে জড়িত নন এই যুবলীগ নেতা। আর এই সব পরিচয় দিয়েই প্রতারণার জাল বিস্তার করে চলেছেন কাউছার। ২০১৫ সালের দিকে স্ত্রী ও  দুই পুত্র সন্তান সহ উপজেলার  টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাসা ভাড়া নেন কাউছার।  নিজেকে এমপির মেয়ের জামাই ও সাপ্তাহিক  অপরাধ  তথ্যের অডিট অফিসার পরিচয় দেন স্থানীয় লোকজন ও টেপড়া বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে। এছাড়া সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে প্রশাসনিক সকল পর্যায়ে তার হাত আছে দাবি করতে থাকেন তিনি।  এমপির জামাতা এবং পত্রিকার বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও লোকজনের বিশ্বাস ধরিয়ে বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বকেয়াতে প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রী ক্রয় আর উপজেলায় নানা সমস্যা নিয়ে আসা গ্রামের সহজ সরল লোকদের কাছে একেক সময় একেক পরিচয় দিয়ে দ্রুত সময়ে সমস্যা সমাধানের নামে হাতিয়ে নিয়ে থাকেন টাকা। ২০১৫ ইং সালের শেষের দিকে এক নারী জমির খাজির   আসেন উপজেলা ভুমি অফিসে। সেখান থেকেই ঔই নারী সাথে কাউছারের পরিচয় হলে। সে ঔই নারীর কাছে নিজেকে উপজেলা প্রশাসনের বড় কর্মকর্তা দাবি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় । এভাবে মাসখানিক যাওয়ার পরে কোন কাজ করে না দেওয়ায় ঔই নারী কাওছারের প্রতারণার বিষয়টি টের পেয়ে ইউএনও বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন।   এছাড়া বাজারের ব্যবসায়ীদের দেনা পরিশোধ না করায়।  ব্যবসায়ী পাওনা আদায়ে বিষয়টি ইউনওকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। প্রতারণা ও পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগে তৎকালীন ইএনও গালিব খান কাওছারকে তার রুমে ডেকে নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করতে চাইলে স্থানীয় কিছু লোকের সুপারিশে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ এবং প্রতারণা না করার শর্তে মুচলেকা দিয়ে সে যাত্রায় শাস্তির হাত থেকে রক্ষা পান যুবলীগের এ নেতা। পরের বছরের জুনের দিকে টেপড়া বাজারের এলাকার মোবাইল ব্যবসায়ী মিঠু, ওই এলাকার যুবক জনিসহ  চার যুবকের কাছ থেকে সাংবাদিক বানিয়ে দেওয়া নাম করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেন এই নেতা। ১৬ সালের শেষের দিকে ওই বাজার এলাকার এক মার্কেটের মালিককে নারী দিয়ে ফাসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অংকের চাদা দাবি করলে। ওই মালিক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের বিষয়টি অবহিত করলে। স্থানীয় লোকজন  মিলে কাওছারসহ সঙ্গীয় লোকদের আটক  করে সেখান থেকেও মুচলেকা দিয়ে কোনমতে পার পেয়ে যান। একদিকে দেনা অন্যদিকে কাওছারের প্রতারণা সবাই বুঝে যাওয়ায় কাওছার কিছুদিন পরেই স্ত্রী সন্তান নিয়ে আত্নগোপন করেন। কয়েক মাস পরে ফিরে এসে উপজেলার বরংগাইল এলাকায় আবার শুরু করে প্রতারণা অর্পিত সম্পত্তি পাইয়ে দেওয়া, ভুমি ক্রয় বিক্রয়ের নামেও কয়েক ব্যক্তির সাথে প্রতারণা করে অর্থ আত্নসাতের চেষ্টার অভিযোগ আছে কাওছারের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে যুবলীগের   উপজেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায়। যুবলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি কাউন্সিল না করেই কমিটি দিতে থাকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড গুলোতে। কাউন্সিল না করে কমিটি দেওয়ার কারনে  যুবলীগের অন্য একটি গ্রুপ কেন্দ্র থেকে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটি নিয়ে আসলে। উপজেলা যুবলীগের মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সাথে কেন্দ্র ঘোষিত আহবায়ক কমিটির সাথে দ্বন্দের সুত্রপাত হয়। সেসময়ে দুই গ্রুপই পাল্টাপাল্টি কমিটি দিতে থাকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড গুলোতে। গ্রুপিংয়ের সুযোগ বুঝে এক সময়ের ছাত্রদলের কর্মী কাওছার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ- সম্পাদকের পদটি বাগিয়ে নেন।  অনুসন্ধানে স্থানীয়দের সুত্রে আরো জানাগেছে, কাওছার প্রথম বউকে দুই পুত্র সন্তানসহ তালাক দিয়ে। কলেজ পড়ুয়া এক মেয়েকে  বিয়ে করেছেন বছর দেড়েক পুর্বে। তার সে স্ত্রী এখন সন্তান সম্ভাবা। এছাড়া মাস পাচ – ছয়েক  আগে ফেসবুকে এক তরুনী সাথে পরিচয় হয় কাওছারের। পরিচয় থেকেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে  তরুণীর সাথে এ নেতার। নিজের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়টি গোপন রেখে তরুনীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলেন কাওছার। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার সকালের দিকে পাটুরিয়া ঘাটের পদ্মা রিভারভিউয়ের একটি কক্ষ   ভাড়া নিয়ে ঔই তরুনীর সাথে একান্তে সময় কাটানোর মুহুর্তে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোটেল কক্ষে অভিযান চালিয়ে যুবলীগ নেতা কাওছারকে আটক করে পুলিশ।  এছাড়া স্থানীয়রা আরো জানান, কাওছার নানান সময়ে নানা রকমের পরিচয় বহন করে যত রকমের অপকর্ম রয়েছে তা চালিয়ে যান। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে  হামলা মামলার ভয় দেখানোর কারনে কাওছারের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননা।  উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাধারণ  – সম্পাদক  আবুল কালাম আজাদ জানান,  কাওছারের বিরুদ্ধে এলাকায় হাজারো  প্রতারণার  অভিযোগ রয়েছে। একাধিক বিয়েও করেছেন সে। যুবলীগের পদ পাওয়ার আগে সে ছাত্রদল করতো। এসব নেতার কারনে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।  শিবালয় উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক  ও ভাইস চেয়ারম্যান মিরাজ হোসেন লালন জানান, কাওছারের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ের মধ্যেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, হোটেল কক্ষ থেকে আটক হওয়া যুবলীগ নেতা কাউছারের বিরুদ্ধে ওই তরুনী   বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষনের অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আটক কাওছারকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।

 

আরও পড়ুন...

কুমিল্লায় পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে তিন ডাকাত নিহত

কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার বুড়িচংয়ে পুলিশের সাথে গোলাগুলিতে ডাকাত দলের তিন সদস্য নিহত হয়েছে। রাত পৌনে …

আত্মসমর্পণের পর ১৩ মামলার আসামি বন্দুকযুদ্ধে নিহত

নিজ ইচ্ছায় থানায় আত্মসমর্পণের পর রাতে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন ১৩ মামলার আসামি মোহাম্মদ …