11 Magh 1426 বঙ্গাব্দ শুক্রবার ২৪ জানুয়ারী ২০২০
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ফরিদপুরে কেরামত হাওলাদারকে হত্যার মামলায় সাতজনের মৃত্যুদন্ড

ফরিদপুরে কেরামত হাওলাদারকে হত্যার মামলায় সাতজনের মৃত্যুদন্ড

ফরিদপুরে কেরামত হাওলাদারেকে হত্যা মামলায় দোষী সাবস্ত করে সাত জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সাথে প্রত্যেক আসামিকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে এ আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাকিম মো. সেলিম মিয়া।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে হাজির ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে এবং পলাতক দুই আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করা হয়।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ভাঙ্গার চান্দ্রা ইউনিয়নের সিংগারডাক গ্রামের তোফা মোল্লা (২৬), পলাশ ফকির (৩২) ও সিদ্দিক খালাসী (৩৬), চান্দ্রা ইউনিয়নের চান্দ্রা গ্রামের এরশাদ মাতুব্বর (৩২), নাইম মাতুব্বর (৩৫) ও আনোয়ার মোল্লা (২৮) এবং সদরপুর উপজেলার চর মানাই ইউনিয়নের আমির খার কান্দি গ্রামের সিরাজুল খা (২৭)। এর মধ্যে সিরাজুল খা ও নাইম মাতুব্বর পলাতক রয়েছে।
আদালতের নথি থেকে জানা যায়, কেরামত হাওলাদার ভাঙ্গার চান্দ্রা ইউনিয়নের উত্তর লোহারদিয়া গ্রামর মৃত সামছু হাওলাদারের ছেলে। তিনি পিকআপ চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে অনুমানিক এক কিলোমিটার দূরে চান্দ্রা ইউনিয়নের ছলিলদিয়া গ্রামের দীঘলকান্দা বিলের মধ্যে জনৈক আক্কাস মল্লিকের পুকুরে তার মৃতদেহ গলা কাটা ও পেট ফাঁড়া অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। মৃতের শরীরে কোন পোশাক ছিলনা। তার হাত তারই পরনের ফুলহাতা গেঞ্জিদ্বারা বাধা ছিল। ওইদিনই মৃতের ভাই ইকরাম হাওলাদার বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় অজ্ঞাত আসামিদের নামে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ভাঙ্গার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিরাজ হোসেন।
পরে তদন্ত করেন পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক এস এম মনিরুল হোসেন। তিনি সাতজন আসামির নামে ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
অভিযোগপত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা এস এম মনিরুল হোসেন মামলার মোটিভ পর্যবেক্ষণ করে অভিমত ব্যক্ত করেন, আসামিরা এলাকায় চুরি ডাকাতি ও ছিনতায়ের বিভিন্ন ঘটনার সাথে জড়িত। এ কাজে কেরামতের পিকআপটি ব্যবহার করতে চাইলে তিনি (কেরামত) রাজী হননি। এছাড়া বাজারে বিভিন্ন চুরির ঘটনা ঘটলে আসামিদের নাম প্রকাশ করার হুমকি দিত কেরামত। ফলে আসামিরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন। এরই অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর ঘটনার রাতে কেরামতকে তোফা মোল্লা মুঠোফোনে ফোন করে তাসের মাধ্যমে জুয়া খেলার প্রস্তাব দিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে আনেন। পরে তোফা তার বাকি ছয় সহযোগীর মাধ্যমে গলা কেটে ও পেট ফেড়ে কেরামতকে হত্যা করে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) দুলাল চন্দ্র সরকার বলেন, এ হত্যা মামলার সাতজন আসামির মধ্যে সাতজনকেই সর্বোচ্চ দন্ড হিসেবে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুরে যুবদল নেতা মাহাবুবুল হাসান পিংকুর কম্বল বিতরন

ফরিদপুরের ১২টি ইউনিয়নের অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরন করছেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির গনশিক্ষা …

চরভদ্রাসনে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে মাদ্রাসা ছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৮টার দিকে আব্দুর রহমান (৮) নামের …