26 Agrohayon 1426 বঙ্গাব্দ বুধবার ১১ ডিসেম্বর ২০১৯
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » আলফাডাঙ্গা » মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা গোপালপুর-টগরবন্ধবাসী

মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা গোপালপুর-টগরবন্ধবাসী

কামরুজ্জামান সোহেল #
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্ধ ও গোপালপুর ইউনিয়নবাসী মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা অবস্থায় দিন কাটছে। গত কয়েক মাসের অব্যাহত ভাঙ্গনের কারনে কয়েকশ পরিবার এখন মানবেতরভাবে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। টগরবন্ধ ইউনিয়নের সবচে বেশী ক্ষতির মুখে পড়েছে আশ্রয়ন প্রকল্পের ১২০টি পরিবার। চাপুলিয়া গ্রামে অবস্থিত মধুমতি নদীর তীরে গড়ে উঠা এ আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর-বাড়ী একখ ভাঙ্গনের হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নের বাজরা খেয়াঘাট থেকে শুরু করে টগরবন্ধ ইউনিয়নের চাপুলিয়া এলাকার প্রায় দুই কিলোমটিার এবং শিকারপুর এলাকার ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙ্গন চলছে। দুটি ইউনিয়নের মধ্যে টগরবন্ধ ইউনিয়নে ভাঙ্গনের তীব্রতা সবচে বেশী। গত দুই মাস ধরে মধুমতি নদী ভাঙ্গনের কারনে কয়েকশ বাড়ী-ঘর বিলিন হয়েছে নদী গর্ভে। এছাড়া ফসলী জমিসহ নানা স্থাপনাও চলে গেছে নদী গর্ভে। সবচে বড় ক্ষতির শিকার হয়েছেন আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা। নদী ভাঙ্গনের কবলে পড়ে অর্ধশতাধিক ঘর বিলিন হয়েছে। বাকি ঘর গুলোও রয়েছে ভাঙ্গনের ঝুঁকির মধ্যে। মধুমতি নদীর ভাঙ্গন থেকে রক্ষা পেতে স্থানীয় এলাকাবাসী জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় এমপিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারস্থ হলেও কেউই ভাঙ্গন রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। অল্পকিছু বালির বস্তা ফেলা হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে গোপালপুর ও টগরবন্ধ ইউনিয়নবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। গত কয়েকদিন আগে টগরবন্ধ ইউনিয়নবাসী মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে। এসব কর্মসূচি থেকে ভাঙ্গনরোধে দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। মানববন্ধন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙ্গন শুরু হলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে ভাঙ্গন এখন মারাত্বক আকার ধারন করেছে। নদী ভাঙ্গনের আতংকে দিন কাটাচ্ছে গোপালপুর-টগরবন্ধ ইউনিয়নের কয়েক হাজার পরিবার। আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা দরিদ্র ব্যক্তিরা জানান, দ্রুত ভাঙ্গনরোধ করা না গেলে পুরো আশ্রয়ন প্রকল্পটি চলে যাবে নদী গর্ভে। ফলে এ আশ্রয়ন প্রকল্পে থাকা মানুষ গুলো আশ্রয়হীন হয়ে পড়বে। টরগবন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমাম হাসান জানান, মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে টগরবন্ধ ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। ভাঙ্গনে কয়েকশ পরিবার অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হলেও তারা কার্যকর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক জানান, গত কয়েক দিনের ভাঙ্গনে বেশকিছু ঘর-বাড়ী, বসত-ভিটা, মসজিদ-মাদ্রাসা নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে গোপালপুর-চরডাঙ্গা সড়কটি। দ্রুতই ভাঙ্গন ঠেকাতে না পারলে বিলিন হয়ে যাবে বাজরা জামে মসজিদ, বাজরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশকিছু স্থাপনা।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, নদী ভাঙ্গনরোধে মধুমতির উৎসমুখ কুষ্টিয়ায়। আর শেষ হলো খুলনায়। ভাঙ্গনরোধে স্থায়ী সমাধানের জন্য একটি কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

আরও পড়ুন...

আলফাডাঙ্গায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর মাইক্রোবাসে আগুন

সুমন খান, বোয়ালমারী (ফরিদপুর) # ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় রাস্তার উপর রোদে শুকাতে দেওয়া মাষকলাই (রবিশস্য) এর …

আলফাডাঙ্গায় নিয়োগের পরও বেতন পাচ্ছেন না ১৬ শিক্ষক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিয়োগের পাঁচ মাস পরও বেতন পচ্ছেন না ১৬ জন সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক। ফলে …