৩০ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » চরভদ্রাশন » নিষেধাজ্ঞা অমাম্য করে আওয়ামী লীগ নেত্রীর ঘর নির্মান

নিষেধাজ্ঞা অমাম্য করে আওয়ামী লীগ নেত্রীর ঘর নির্মান

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে প্রধান সড়ক ঘেষে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় মহিলা আ’লীগের সভাপতি রওশনারা পারভীন দোকান ঘর নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ করে চলেছেন প্রতিপক্ষ ইউসুপ হাওলাদার। উক্ত মহিলা নেত্রী গত ৯ সেপ্টম্বর বিরোধীয় ৫ শতাংশ জমির উপর দোকান ঘর নির্মান করতে গেলে ফরিদপুর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট বিবাদমান জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারী করে উভয় পক্ষকে স্থিতিবস্থা বজায় রেখে আগামী ২৮ অক্টোবর তারিখে কোর্টে উভয় পক্ষের বক্তব্য পেশ করার নির্দেশ দেন। চরভদ্রাসন পিটিশন নং-৩৫৫/১৯। কিন্ত উপজেলা মহিলা আ’লীগ নেত্রী ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত শুক্রবার থেকে দোকান ঘর নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন বলে অভিযোগ।
এ ব্যপারে উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভাপতি রওশানারাকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, আমার পিতা মরহুম রতন মোল্যার নামে সরকার বাহাদুর অনেক আগে উক্ত জমি বন্দবস্তো দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বহুবার আমাদের কাগজপত্র যাচাই করেছেন। পিতার নামে বন্দবস্তোকৃত জমিতে এতোদিন বিভিন্ন কারনে ঘর তোলা হয় নাই। বর্তমানে উক্ত জমি পতিত রাখা ঠিক হবে না বিধায় দোকান ঘর নির্মান করছি”।
আর ১৪৪ ধারা মামলার বাদী ও প্রতিপক্ষ উপজেলা সদরের বি.এস. ডাঙ্গী গ্রামের মৃত খোরশেদ হাওলাদারের ছেলে ইউসুপ হাওলাদার জানায়, “কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উক্ত মহিলা নেত্রী ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বন্ধের দিন শুক্র ও শনিবার দোকান ঘর নির্মান করে চলেছেন। বিরোধীয় জমিতে দোকানঘর নির্মান কাজ বন্ধের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে বার বার অবগত করানোর পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেন নাই”।
জানা যায়, উক্ত জমির এস.এ জরীপ ও দিয়ারা জরীপে রেকর্ডীয় মালিক উপজেলার বি.এস ডাঙ্গী গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের নিকট থেকে ১৯৯৪ সালের ১৬ জুন তারিখে চরভদ্রাসন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৬৯২ নং খোষকবলা দলিলমূলে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করেন প্রতিপক্ষ ইউসুপ হাওলাদার। এসএ ১৬৪ নং মৌজা যাহা দিয়ারা ১১ নং চরভদ্রাসন মৌজার ৭৯১ নং খতিয়ানের ১০১৪৯ নং দাগ হইতে ৫ শতাংশ জমি ক্রয় করে প্রতিপক্ষ ইউসুপ হাওলাদার একটি টিনের ছাপড়া উঠিয়ে মটর পার্টসের ব্যবসা ও বাকী উন্মুক্ত জমির ওপর ইট বালুর ব্যবসা করে আসছিলেন। সম্প্রতী ওই উন্মুক্ত জায়গাটুকু জবর দখল করে উপজেলা মহিলা নেত্রী দোকানঘর নির্মান করে চলেছেন বলে অভিযোগ।
কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকান নির্মানের ব্যাপারে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশীদকে জিজ্ঞেসা করলে তিনি বলেন, “ আদালতের নির্দেশ পেয়ে আমরা উভয় পক্ষকে বিবাদমান জমিতে স্থিতিবস্থা বাজয় রাখার জন্য নোটিশ জারি করেছি। কিন্ত কেউ ঘর তুললে বাঁধা দেয়া পুলিশের কাজ নয়। শান্তি শৃঙ্খলা বিঘœ ঘটলে সেটি দেখার দায়িত্ব পুলিশের”।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ফারজানা নাসরীন বলেন,“ কোর্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর তোলার বিষয়টি আমি অবগত ছিলাম না। বিষয়টি নিয়ে আমি ইউএনও স্যারের সাথে দ্রুত আলপ করবো”।
আর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন সুলতানা বলেন, আমি আদালতের নোটিশ পাই নাই। আমি ষ্টেশনে না থাকায় বিষয়টি দেখতে ও বুঝতে পারছিনা। তবে শুনেছি রওশনারা ঘর তুলছেন। খবর শুনে আমি আপাতত কাজ বন্ধ রাখতে বলছি”।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, “ মহিলা নেত্রী ২৫/৩০ জন লেবার ও মিস্ত্রি লাগিয়ে দ্রুত গতিতে দোকান ঘর নির্মান কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিরোধীয় জমিতে কয়েকটি ভারী গাছ কেটে ফেলে দিয়ে জায়গা খালি করে ঘর নির্মান করছেন। সাংবাদিকদের দেখে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে বলেন, “ আমার পৈত্রিক সম্পত্তির ওপর ঘর ওঠাচ্ছি তাতে কার কি ”।