1 Srabon 1427 বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২০
Home » এক্সক্লুসিভ » ফরিদপুর জেলা বিএনপির সেক্রেটারী পদে সরব আলোচনায় চারনেতা

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সেক্রেটারী পদে সরব আলোচনায় চারনেতা

কামরুজ্জামান সোহেল #
যে কোন সময় ঘোষনা হতে পারে ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি। সাম্প্রতিক সময়ে ফরিদপুর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষন চলছে বলে জানা গেছে। সব কিছু ঠিক থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই ঘোষনা হতে পারে বিএনপির আহবায়ক কমিটি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রভাবশালী একনেতা জানান, আহবায়ক কমিটির নাম চুড়ান্ত হয়ে আছে। কেবলমাত্র তারেক জিয়ার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ পাওয়া গেলেই ঘোষনা হবে আহবায়ক কমিটির। বিশ্বস্থ একটি সূত্র মতে, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির আহবায়ক হিসাবে দেখা যেতে পারে ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক এমপি, বর্ষিয়ান নেতা শাহ মোহাম্মদ আবু জাফরকে। সদস্য সচিব হিসাবে আলোচনায় আছেন জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন। এছাড়া আলোচনায় আছেন জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক একে এম কিবরিয়া স্বপন। ফরিদপুর জেলা বিএনপির নতুন কমিটি নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মাঝে। দীর্ঘদিন ধরে নিরব থাকার পর হঠাৎ করেই জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। মূলত নতুন কমিটি গঠন নিয়েই চলছে সরব আলোচনা। দলের সভাপতি নিয়ে যতটা না আলোচনা চলছে তারচেয়ে বেশী আলোচনা হচ্ছে সাধারন সম্পাদক পদ নিয়ে। সাধারন সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থীর নাম শোনা গেলেও আলোচনায় রয়েছেন চারজন। এরা হলেন, বিএনপির বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রশিদুল ইসলাম লিটন, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী আশরাফ নাননু, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক একে এম কিবরিয়া স্বপন ও স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন। এছাড়া সাধারন সম্পাদক হিসাবে আরো কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও তারা তেমন একটা আলোচনায় নেই। বিএনপির কমিটিতে নাম লেখাতে দলের একাধিক নেতা কেন্দ্রীয় নেতাদের মাধ্যমে লবিং অব্যাহত রেখেছেন। ফরিদপুর জেলা বিএনপির সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন নেতার সাথে আলাপ হলে তারা জানান, ত্যাগী ও রাজপথে থাকা নেতাদের মূল্যায়ন করতে হবে। যারা বিগত দিনে এবং বর্তমানে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে হামলা-মামলার শিকার হয়েছেনএবং শরীরের রক্ত ঝরিয়েছেন সেইসব নেতাকে গুরুত্বপূর্ন পদে রাখতে হবে। যারা দলের দুঃসময়ে নিজেকে বিপদ থেকে রক্ষা করতে গা বাঁচিয়ে চলেছেন কিংবা ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করে চলেছেন তাদের দুরে রাখতে হবে। দলের একাধিক ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জানান, দলকে যারা ভালোবাসেন এবং যারা তৃনমূলের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন তাদেরই গুরুত্বপূর্ন পদ দিতে হবে। নইলে বিএনপির অবস্থা শোচনীয় পর্যায়ে চলে যাবে। সম্মেলন এবং ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবী জানান তৃনমূল নেতা-কর্মীরা। তাদের মতে, সম্মেলন এবং ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন না হলে সেটি হবে ‘পকেট কমিটি’। সেই ‘পকেট কমিটি’ দিয়ে আর যাই হোক বিএনপি শক্তিশালী হবেনা। বিএনপির প্রবীণ এক নেতা আক্ষেপের সুরে জানান, বর্তমানে ফরিদপুর জেলা বিএনপির অবস্থা যে কোন সময়ের চেয়ে নাজুক। কয়েক নেতা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের বি-টিম বানিয়ে রেখেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে কিংবা পদে থাকা এসব নেতারা ফের পদে আসলে ফরিদপুর জেলা বিএনপি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মধ্যে বিলিন হয়ে যাবে।
জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটির সিনিয়র এক নেতা জানান, অনেকেই টাকা দিয়ে ‘পদ’ কিনতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। যারা বিগত ১০ বছরে একটি মামলার আসামী হয়নি, যারা আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকেনি, সেইসব নেতারা পদ বাগিয়ে নিতে চেষ্টা চালাচ্ছেন। যদি এমনটি হয় তাহলে ফরিদপুর জেলা বিএনপির ত্যাগী নেতা-কর্মীরা প্রয়োজনে বুকের রক্ত দিয়ে তা প্রতিহত করবে। রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করা কয়েক ত্যাগী নেতা জানান, ক্ষমতাসীন দলের সাথে আঁতাত করে কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করে বেশ আরাম আয়েশে দিন কাটাচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে সেই ‘সুবিধাবাদী নেতারা’ বিএনপির কমিটি আসতে জোর চেষ্টা তদবির চালাচ্ছেন, কেউ আবার ক্ষমতাসীন দলের জেলা পর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের দিয়েও গোপনে সুপারিশ করার তদবিরে নেমেছেন।
ফরিদপুর জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু সেই সম্মেলনটি পন্ড হয়ে যায়। পরে কেন্দ্র থেকে কমিটি করে দেয়া হয়। আর সেই কমিটি দিয়েই চলছে বিএনপি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি থাকায় অন্যান্য জেলার মতো ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি ঘোষনা হতে পারে যে কোন সময়।

আরও পড়ুন...

আওয়ামী লীগ নেতা, সাংবাদিকসহ আটক ৯, বিপুল পরিমান চাল অস্ত্র টাকা উদ্ধার

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার বাড়ীতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাসহ ৯ …

একটি মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ‘খারদিয়া গ্রামে’ চলছে ষড়যন্ত্র

বিশেষ প্রতিবেদক # ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দি ইউনিয়নের বড় খারদিয়া পশ্চিম ঠাকুরপাড়া গ্রামের দীর্ঘদিন ধরে …