২ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০১৯
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » বোয়ালমারী » বোয়ালমারীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ দলের লোককে হত্যার অভিযোগ

বোয়ালমারীতে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ দলের লোককে হত্যার অভিযোগ

বিশেষ প্রতিবেদক #
‘ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের পোয়াইল গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষের আহত দেলোয়ার মাতুব্বরকে তার চাচাতো ভাই জামাল মাতুব্বর ও তার লোকেরাই হত্যা করেছে।’ দু’জন প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে বোয়ালমারীর ময়েনদিয়া বাজারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য সিআইডি কিংবা পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের জোর দাবি জানান তারা। তবে জামাল মাতুব্বর এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত ৩ এপ্রিল পোয়াইল গ্রামে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে দেলোয়ার মাতুব্বর নিহত হন। এঘটনায় আরো কয়েকজন আহত এবং বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা গাজী সামসুজ্জামান খোকনের ফরিদা জামান বলেন, মাদক বিক্রির প্রতিবাদ করায় জামাল মাতুব্বর দলবল নিয়ে হামলা চালানোর পর দুই পেেক্ষর সংঘর্ষ হয়। ্এতে আহত দেলোয়ারকে হাসপাতালে না নিয়ে কালক্ষেপন করে হত্যা করা হয়। জামালসহ তার সহযোগী ময়েন মোল্যা, জাবের মোল্যা, ইখলাস মোল্যা ও জাসুদ ফকিরকে গ্রেফতার এবং অ্যাম্বুলেন্স চালক এনামুল ও ভ্যানচালক ইউনুসকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে অভিযোগ করা হয় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজেরা তাদের লোককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে।
ময়েনদিয়া বাজারের নৈশকালীন পাহারাদার আক্তার মীর বলেন, ঘটনার রাতে প্রথমে ভ্যানে করে আহত দেলোয়ারকে নটাখোলার নিয়ে যেতে দেখি। তখন তার মাথায় কোন আঘাতের চিহ্ন ছিলোনা। তবে কয়েকঘন্টা পরে ভোর ৫টার দিকে তাকে যখন অ্যাম্বুলেন্স করে নিয়ে আসা হয় তখন তার মাথা থেতলানো ও মুখে আঘাতের চিহ্ন। বিষয়টি তার কাছে রহস্যজনক মনে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সালথার সোনাপুর জোগাড়দিয়া গ্রামের হেমেলা বেগম বলেন, ওই রাতে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর পর দেলোয়ারকে কারা যেনো মারপিট করতে থাকে। আমি তার গোঙানোর আওয়াজ শুনেছি।
ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান অভিযোগ করেন, এই হত্যা মামলার ভয় দেখিয়ে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার মামলা বাণিজ্য হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে চতুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ কামরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক খান মোঃ নজরুল ইসলাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি তবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ ব্যাপারে জামাল মাতুব্বর বলেন, রাত ১০টা কিংবা সাড়ে ১০টার দিকে আহত হয় দেলোয়ার। তাকে হাসপাতালে নেয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকে আসতে বললে বাবুর বাজারে এসে অ্যাম্বুলেন্স চালক আটকে পরে। কারণ সেখানে তখন পুলিশের উপস্থিতিতেই প্রতিপক্ষ দলের লোকেরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দাঙ্গা ও লুটপাটে ব্যস্ত ছিলো। পরে রাত সাড়ে তিনটার দিকে নটাখোলা-নারানদিয়া হয়ে ফরিদপুর যাওয়ার পথে দেলোয়ার মারা যায়।
এ ব্যাপারে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান বলেন, পুলিশ, সিআইডি বা পিবিআই যেই বিভাগই তদন্ত করুক সেটি নিরপেক্ষ এবং সঠিকভাবেই সম্পন্ন করা হবে। এই নিশ্চয়তা আমি দিচ্ছি। অপরাধীদের ছাড় দেয়া হবে না। পাশাপাশি নিরীহ কাউকেও হয়রানী করা হবে না।

আরও পড়ুন...

তরুণীকে আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা, আটক-৩

সুমন খান, বোয়ালমারী # ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দু’দিন আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার …

বোয়ালমারীতে ডা. হ্যানিম্যানের জন্মদিন পালন

বোয়ালমারী অফিস # ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ডাঃ দিলীপ রায় হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মঙ্গলবার দুপুরে …