৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বুধবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
Home » রাজনীতি » নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাজেদাপুত্রকে সতর্ক করলো আ.লীগ

নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় সাজেদাপুত্রকে সতর্ক করলো আ.লীগ

সোহেল জামান #
আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষ নেওয়ায় সতর্ক করা হয়েছে সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ছোট ছেলে শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরীকে। সোমবার সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় এমন সতর্ক বার্তা শোনান আওয়ামী লীগের নেতারা। সালথা উপজেলা সদরের চৌধুরী বাড়ীতে এ বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ দেলোয়ার হোসেন। সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এ সভাটি চলে রাত আটটা পর্যন্ত। সভায় ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা, সাধারন সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ঝর্না হাসান, মাসুদুল হক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহিদ বেপারী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভি মাসুদ, উপ দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ সোহেল রেজা বিপ্লবসহ জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহা বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ে সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর ভুমিকা ও অবদান অবিস্মরনীয়। দলের জন্য তার অবদানের কথা স্বর্নাক্ষরে লেখা থাকবে। দলীয় প্রধান তার অবদারের স্বীকৃতিও দিয়েছেন। আমরা সেভাবেই তাকে মান্য করি। কিন্তু দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় দলীয় সভানেত্রী যাদের নৌকা দিয়েছেন সেই নৌকা প্রতিকের বিরোধীতা করছেন সাজেদা চৌধুরীর ছেলে লাবু চৌধুরী। দুটি উপজেলায় লাবু চৌধুরী প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নিয়ে ভোট চাইছেন। লাবু চৌধুরী সংসদ উপনেতার রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের নৌকার বিপক্ষে প্রচারনায় অংশ নিতে বাধ্য করছেন। এতে দলের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। একই সাথে দলীয় সভানেত্রীর প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে লাবু চৌধুরী ধৃষ্টতা দেখাচ্ছেন। তাকে সতর্ক করে বলবো, এখনো সময় আছে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করুন। নইলে দল আপনাকে ক্ষমা করবে না। আপনার কর্মকান্ডে দলের প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্থ হলে আপনার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। সভায় আওয়ামী লীগের সকল নেতাই লাবু চৌধুরীর বিতর্কিত কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভপ্রকাশ করে বক্তৃতা করেন। অবিলম্বে লাবু চৌধুরীকে এলাকা ত্যাগে বাধ্য করতে দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ফরিদপুরের নগরকান্দা ও সালথা উপজেলায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হয় যথাক্রমে মনিরুজ্জামান সরদার ও দেলোয়ার হোসেনকে। কিন্তু লাবু চৌধুরী দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী দুই প্রার্থীকে মাঠে নামান এবং তাদের পক্ষে প্রচারনায় অংশ নিচ্ছেন। বিভিন্ন স্থানে সমাবেশে লাবু চৌধুরী বলেছেন, আনারস প্রতিকের প্রার্থীরা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর প্রার্থী। ফলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বাধ্য হয়েই স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। আগামী ১৮ মার্চ দ্বিতীয় ধাপে ফরিদপুরের ৮টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ উপনেতার পুত্র শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, আমি নৌকার বিপক্ষে নই, তবে আমার অনুষ্ঠানে কেউ যদি আনারস প্রতিকে ভোট চায় সেই দায় আমার নয়। তাছাড়া অন্য যারা প্রার্থী হয়েছেন তারাওতো আওয়ামী লীগ করে। কেউ যদি আর্শিবাদ ও সহযোগীতা চায় তাহলে তাকে তো আর না বলা যায়না।

আরও পড়ুন...

ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে অসন্তোষ আছে, কমিটি ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত হয়নি: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত …

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সভাপতি …