১২ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ রবিবার ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
Home » এক্সক্লুসিভ » নগরকান্দায় ‘প্রার্থী বাছাইয়ের নামে নাটকের অভিযোগ’

নগরকান্দায় ‘প্রার্থী বাছাইয়ের নামে নাটকের অভিযোগ’

সোহেল জামান
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই নিয়ে ‘নাটকের অভিযোগ’ উঠেছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা না মেনে এবং একজন প্রার্থী বাদে অন্য প্রার্থীদের না জানিয়ে তরিঘরি করে ভোটের আয়োজন করায় চরমভাবে ক্ষুব্দ হয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাবশালী এক প্রার্থী আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা এবং সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর রাজনৈতিক প্রতিনিধি ও তার ছেলে সাদাব আকবর লাবু চৌধুরীকে ম্যানেজ করে ‘ভোটের নাটক’ সাজিয়েছেন। ভোটের মাধ্যমে একক প্রার্থী ঘোষনা মানেন না বলে ৩ প্রার্থী সাফ জানিয়ে দিয়ে বলেছেন, তারা এ বিষয়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের বিষয়টি অবহিত করবেন। এদিকে, প্রার্থী বাছাইয়ের নামে ভোট আয়োজনে চরমভাবে ক্ষুব্দ হয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। তাদের দাবী, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনজনের নাম পাঠানোর কথা থাকলেও প্রভাবশালী একনেতাকে ম্যানেজ করেই এ ভোটের আয়োজন করা হয়েছে এবং ভোট নাটকের ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত রাখা হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য ৪ প্রার্থী প্রচারনা চালিয়ে আসছিলেন। এরা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আতিয়ার রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক জাকির হোসেন নিলু এবং আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক কাজী শাহ জামান বাবুল। প্রচারনা চালানো ৫ প্রার্থীর মধ্যে কেবলমাত্র শাহ জামান বাবুল কাজীই এলাকায় পরিচিত মুখ নন। স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে জেলার সালথা উপজেলার গট্রি ইউনিয়নে অবস্থিত সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর বাড়ীতে এ ভোটের আয়োজন করা হয়। দলের ৭৯ জন ভোটারের মধ্যে ৫৬ জন ভোটে অংশ নেন। বাকি ২৩ জন অনুপস্থিত ছিলেন। ভোটে শাহ জামান বাবুল পান ৩০ ভোট, মনিরুজ্জামান সরদার পান ২৩ ভোট, আতিয়ার রহমান পান ২ ভোট, জাকির হোসেন নিলু পান ১ ভোট।
ভোট প্রসঙ্গে সম্ভাব্য প্রার্থী আতিয়ার রহমান বলেন, ভোটের নামে নাটক হয়েছে। যা সঠিক হয়নি। তিনি বলেন, আমাদের ডেকে নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা কিংবা দলের নেতারা ভোটের জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। যাকে ভোটের মাধ্যমে বাছাই করা হয়েছে সেই ব্যক্তি দলের জন্য কিছু করেছে এটা আমাদের জানা নেই। অপর প্রার্থী মনিরুজ্জামান সরদার বলেন, স্থানীয়ভাবে দুই নম্বরী করে প্রহসনের একটি ভোটের আয়োজন করা হয়। যেটা আমি মানি না। আমি দলের মনোনয়ন কিনেছি এবং তা কেন্দ্রে জমা দেবার জন্য ঢাকায় যাচ্ছি।
নামপ্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের একনেতা বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কিনে যিনি প্রথম হয়েছেন সেই কাজী বাবুল এলাকায় গ্রহনযোগ্য ব্যক্তি নন। এলাকায় তাকে কেউ চিনেই না। তিনি বিপুল পরিমান টাকা দিয়ে প্রভাবশালী এক ব্যক্তিকে ম্যানেজ করেই ভোট আয়োজন করে জিতেছেন। আসল ভোটের লড়াইয়ে তার কোন অস্থিত্বই থাকবে না।
নগরকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বলেন, ভোটের বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্তেই ভোটের আয়োজন করা হয়েছে। এক প্রার্থী টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে ভোটের আয়োজনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমার জানা নেই। তবে কোন প্রার্থী এমন চেষ্টা তো করতেই পারে। তিনি আরো বলেন, যে ৫ প্রার্থী ভোটে অংশ নিয়েছেন তাদের সবারই তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন...

পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পড়ালেখা করছে কোমলমতি শিশুরা

সোহেল জামান ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি সরকারী প্রার্থমিক বিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত ভবনেই ঝুঁকি নিয়ে পড়ালেখা করছে …

পা দিয়েই স্বপ্ন জয়ের চেষ্টা জসিমের

মাহফুজুর রহমান ‘পা দিয়ে লিখে’ এবার এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে প্রতিবন্ধী জসিম। পা দিয়েই স্বপ্ন জয় …