৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ শুক্রবার ১৪ জুন ২০১৯
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » ভাঙ্গা » সাড়ে তিন লাখ মানুষের সেবায় চিকিৎসক মাত্র চারজন

সাড়ে তিন লাখ মানুষের সেবায় চিকিৎসক মাত্র চারজন

সোহেল জামান
বৃহস্পতিবার। ঘড়ির কাটায় বেলা দশটা বেজে সতের মিনিট। প্রচুর সংখ্যক রোগী ও তাদের স্বজনদের ভীড় হাসপাতাল চত্বরে। সময় যত বাড়ছে ক্রমেই ভীড় বাড়ছে রোগীদের। হাসপাতালে ডাক্তারের চাইতে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতি কয়েক গুন বেশী। ডাক্তার দেখাতে না পেরে রোগীদের স্বজনদের ক্ষোভ চরমে। হাসপাতাল চত্বরে দালালদের আনাগোনা প্রচুর। দালালদের মধ্যে নারীরাই বেশী। বিভিন্ন ক্লিনিকে চুক্তিভিক্তিক কাজ করা দালালের নানা ছুতোয় খাতির জমানোর চেষ্টা করছে রোগীদের স্বজনদের সাথে। তারা নানা কৌশলে রোগীদের নিয়ে যাচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতালে। এমন চিত্র প্রতিনিয়ত দেখা যাচ্ছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এ হাসপাতালটিতে সেবা নেই বললেই চলে। বছরের পর বছর এমন অবস্থা চললেও দেখার কেউ নেই। বিভিন্ন সময় জেলা সিভিল সার্জনের কাছে অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাননি স্থানীয়রা। এ নিয়ে সাধারন জনগনের মাঝে ক্ষোভ চরমে। ৫০ শর্য্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালটি বর্তমানে চলছে খুড়িয়ে খুড়িয়ে। হাসপাতালটিতে এক্সরে-প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে পাঁচ বছর ধরে। হাসপাতালটিতে চর্ম ও যৌন, মেডিসিন, ইএনটি, অর্থোপেডিক্স, চক্ষু, কার্ডিও, এনেসথেসিয়া, ইর্মাজেন্সী, ইনডোর, এএমসিসহ বিভিন্ন পদ থাকলেও সেটি বাস্তবে নেই। এ হাসপাতালটিতে ২৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৪ জন চিকিৎসক রয়েছেন। কয়েকজন খাতা-কলমে থাকলেও নানা উপায়ে অন্যত্র ডেপুটেশনে রয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, জেলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ন উপজেলা হচ্ছে ভাঙ্গা। এ উপজেলার সাড়ে তিন লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা দেবার জন্য এ হাসপাতালটিতে নেই কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি। এমনকি হাসপাতালটিতে ২৯ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র কয়েকজন। দালালদের দৌরাত্বের কারনে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা প্রতারিত হয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে বাধ্য হচ্ছে। নামপ্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতাল গেট সংলগ্ন একটি দোকানের মালিক জানান, হাসপাতালের ঔষধ রোগীদের দেয়া হয়না। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের ঔষধ দেয়া হয়। এসব ঔষধ অনেক সময় বিভিন্ন জনের কাছে বিক্রিও করা হয়।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসেম শেখ বলেন, হাসপাতালটিতে চিকিৎসক সংকট প্রকট। এ এলাকার মহাসড়কে মাঝে মধ্যেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এতে করে প্রচুর রোগীর আগমন ঘটে। প্রতিদিন দু-তিনশ রোগীর চিকিৎসা সেবা দিতে গিয়ে আমাদের অবস্থা নাজুক। চারজন চিকিৎসকের মধ্যে দিনে দুইজন আর রাতে দুইজন ডিউটি করতে গিয়ে নিজেরাই অসুস্থ্য হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি একাধিকবার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কাছে জানিয়েও কোন প্রতিকার পাইনি।

আরও পড়ুন...

ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চলছে, সেবা পাবে ১৮ লাখ মানুষ

ফয়সাল আহমেদ # স্বাস্থ্য সেবাই সারা দেশের মডেল ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট এ …

সদরপুরে কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠা দিবস পালিত

প্রভাত কুমার সাহা, সদরপুর # ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রতিষ্ঠা দিবস ২০১৯ পালন করা …