৬ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ শুক্রবার ১৯ এপ্রিল ২০১৯
Home » এক্সক্লুসিভ » ফরিদপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপির আলোচনায় ৪ প্রার্থী

ফরিদপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপির আলোচনায় ৪ প্রার্থী

কামরুজ্জামান সোহেল #
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি প্রার্থীদের নিয়ে সরব আলোচনা শুরু হয়েছে ফরিদপুরে। কে হবেন মহিলা এমপি-এমন আলোচনা এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সব আড্ডায়। ফরিদপুর থেকে এ পর্যন্ত যে কয়জন দলের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে তাদের মধ্যে আলোচনায় এগিয়ে আছেন ‘চারপ্রার্থী’। এরা হলেন, ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব মমতাজ আক্তারী (আইভি মাসুদ), সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্না হাসান, নগরকান্দা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক আনজুমান আরা বেগম এবং রতœগর্ভা মোসাঃ আমেনা বেগম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ পোষ্টার, ফেস্টুন লাগিয়ে প্রার্থীরা শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। আইভি মাসুদ, ঝর্না হাসান ও আমেনা বেগম নিজেরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও তাদের স্বামীরা দলের গুরুত্বপূর্ন পদে ছিলেন বা আছেন। আইভি মাসুদ নিজে ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত রয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে। বর্তমানে তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সচিব ও জেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা। তার স্বামী সৈয়দ মাসুদ হোসেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সৈয়দ মাসুদ হোসেন বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় আইভি মাসুদ বেশ আলোচনায় রয়েছেন। রাজপথে সব সময় সরব ছিলেন তিনি। আইভি মাসুদ বলেন, আমার জন্ম রাজনৈতিক পরিবারে। আমার বাবা ও চাচা বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনীতি করেছেন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকেই রাজপথে ছিলাম এবং এখনও আছি। আমি মনে করি দল আমাকে মূল্যায়ন করবে।
আরেকপ্রার্থী ঝর্না হাসানও বেশ আলোচনায় রয়েছেন। ঝর্না হাসান বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক। তার স্বামী প্রয়াত হাসিবুল হাসান লাভলু ছিলেন দক্ষিনাঞ্চলের জনপ্রিয় একজন শ্রমিক নেতা। এছাড়া তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ছিলেন ফরিদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান। স্বামীর রাজনীতির সূত্র ধরে ঝর্না হাসানও দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন। ঝর্না হাসান জানান, আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে তার পরিবারটি বিভিন্ন সময় নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার প্রয়াত স্বামী হাসিবুল হাসান লাভলু ও সন্তানেরা রাজনৈতিক মামলায় হয়রানী হয়েছে বারবার। দলের জন্য কাজ করতে গিয়ে বাঁধা পেয়েছেন কিন্তু তাতে পিছপা হননি তিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বুকে ধারন করে রাজনীতি করে যাবো ততদিন, যতদিন বেঁচে থাকবো। দলের নেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি লড়াইয়ে প্রস্তুত আছি।
দলের মনোনয়ন কিনেছেন নগরকান্দা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক, জেলা পরিষদের সদস্য আনজুমান আরা বেগম। ছাত্রজীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত এ নেত্রী বলেন, দলের জন্য অনেক কাজ করেছি। মহিলা আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে রাত-দিন পরিশ্রম করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যোগ্য নেতাদের মন্ত্রী বানিয়ে যেমনি ভাবে চমক দেখিয়েছেন আশা করছি সংরক্ষিত মহিলা আসনেও তিনি চমক দেখাবেন। যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হলে আমি মনোনয়ন পাবার বিষয়ে আশাবাদী। দলের জন্য যেমনি ভাবে কাজ করছি সংরক্ষিত আসনের এমপি হলে জনগনের জন্য আরো কাজ করতে পারবো।
এছাড়াও দলের মনোনয়ন কিনেছেন ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের কছিমউদ্দিন বেপারী ডাংগীর বাসিন্দা সমাজসেবক, রতœগর্ভা মোসাঃ আমেনা বেগম। তিনি মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য। আমেনা বেগম ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাষ্টারের সহধর্মীনি। দলের মনোনয়ন কেনা প্রসংগে আমেনা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। একসময় ফরিদপুরের চরাঞ্চল ছিল বিএনপির দখলে। আমার স্বামী অ্যাডভোকেট শামসুল হক ভোলা মাষ্টার এই চরাঞ্চলে আওয়ামী লীগের দখলে এনেছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গিয়ে নানা নির্যাতন, অত্যাচার সহ্য করতে হয়েছে। আমার স্বামীকে একাধিক বার জেল খাটতে হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন তাহলে আমি আমার এলাকার মানুষের জন্য কাজ করতে পারবো।

আরও পড়ুন...

ফরিদপুরের ৮টি উপজেলায় বেসরকারী ভাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন

সোহাগ জামান # ফরিদপুরের ৮টি উপজেলায় বেসরকারী ভাবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা হলেন, মধুখালী উপজেলায় …

নগরকান্দায় আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে ভোটের মাঠে বিএনপি

সোহেল জামান # শেষ মুহুর্তের প্রচারনা আর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, হামলা, মামলার ঘটনায় ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় …