৯ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ মঙ্গলবার ২২ জানুয়ারী ২০১৯
Home » ফরিদপুরের সংবাদ » বোয়ালমারী » বোয়ালমারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পেলো বসতভিটা

বোয়ালমারীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার পেলো বসতভিটা

সুমন খান, বোয়ালমারী #

অবশেষে বসতভিটা পেলো ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা কামারগ্রামের ভূমিহীন মৃত মুক্তিযোদ্ধা মোকাদ্দেস হোসেনের অসহায় পরিবার। ভূমিহীন পরিবারটি দীর্ঘদিন যাবৎ বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা কামারগ্রামের ফুলতলা নামক স্থানে চন্দনা-বারাশিয়া নদীর পাড়ে বসবাস করে আসছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জমি ভেবে বসবাস করে আসলেও প্রকৃত পক্ষে জমিটি ছিলো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি।
সম্প্রতি, দুঃস্থ অসহায় পরিবারটির নামে শেখ হাসিনা সরকারের ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর বরাদ্দ হলে ঘর নির্মাণে বাধ সাধে জমির মালিক। টানাপড়েন শুরু হয় জমির মালিকানা নিয়ে। ফরিদপুর জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া বিষয়টি জানতে পেরে বোয়ালমারী উপজেলা প্রশাসনকে দেখার দায়িত্ব দেন। বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি ) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ ওয়াসিকুল ইসলাম গত শুক্রবার সকালে সরজমিনে মৃত মুক্তিযোদ্ধা মোকাদ্দেস হোসেনের ভিটেমাটি পরিদর্শন করেন । অধিকতর তদন্তের জন্য সোমবার জমির মালিকানা দাবি করা দুটি পক্ষ ও মৃত ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে নিজ কার্যালয়ে আলোচনায় বসেন বোয়ালমারী উপজেলা সহকারী কমিশনার ( ভূমি)। কাগজপত্র পর্যালোচনায় বেরিয়ে আসে জমিটির প্রকৃত মালিক গুনবহা ইউনিয়েনের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আজিম মুঞ্জু ও আলহাজ্ব ছত্তার মোল্লা। আব্দুস ছত্তার মোল্লার ছেলে সাভার থানা পুলিশের এএসআই আনোয়ার হোসেন জানান ভূমিহীন পরিবারটিকে আমার পিতা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সম্মান করে কিছু দিনের জন্য বসবাস করার অনুমতি দিয়েছিলেন। শর্তছিল অন্যত্র জমি ক্রয় করে তারা জায়গাটি ছেড়ে দিবে । জায়গাটি ছেড়ে দিয়ে অন্যত্র জমি ক্রয় করার মত সামর্থ বর্তমান পরিবারটির নেই, তাই সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে আলহাজ্ব আব্দুস ছত্তার মোল্লার পরিবার সিদ্ধান্ত দেন- অসহায়, দুঃস্থ এই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারটিকে অন্যত্রে বিনা শর্তে আড়াই শতাংশ জমি দান করার । সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আগামী দেড় মাসের মধ্যে বিনাখরচে জমি রেজিস্ট্রি ও ঘর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান ওই কর্মকর্তা। এ ছাড়াও পরিবারের লাগানো গাছপালা কেটে নিতে ও অন্যত্র পুনর্বাসনের ব্যবস্থাপনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করারও অনুরোধ জানান তিনি। বোয়ালমারী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার অধ্যাপক আব্দুর রশিদ , সহকারী কমান্ডার জহিরুল হকসহ একাধিক মুক্তিযোদ্ধা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মুক্তিযোদ্ধামোকাদ্দেস হোসেনের স্ত্রী ঝরনা বেগম বলেন, সন্তানদের নিয়ে কোনরকম দিনযাপন করছিলাম। ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ভয়ে আতংকিত ছিলাম। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের সহায়তায় বসতভিটার ব্যবস্থা হওয়া আনন্দিত হয়েছি। জেলা প্রশাসক উম্মে সালমা তানজিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ওয়াসিকুল ইসলাম, বাংলা টিভির প্রতিনিধি সুমন খান, সাপ্তাহিক চন্দনার নির্বাহি সম্পাদক আমীর চারু বাবলু, জমিদাতা এএসআই আনোয়ার হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঝর্না বেগম বলেন আল্লাহ উনাদের মঙ্গল করুন।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ওয়াসিকুল ইসলাম বলেন, কাজটি সফলভাবে সমাপ্ত করতে পেরে অনেক ভাল লাগছে। জমি ওয়ালারা জমি না দিলে কিছু করার ছিলনা কিন্তু তারা অনেক সভাল মানুষ। অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পাশে দাড়ানোর জন্য আনোয়ার হোসেনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

আরও পড়ুন...

বোয়ালমারীতে বিএনপি নেতাসহ ৮ সমর্থক আটক

বোয়ালমারী অফিস # ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বুধবার রাতে ও বৃহষ্পতিবার সকালে বিএনপি …

ফরিদপুর-১ আসনে বাদ পড়া নারী প্রার্থীর সংবাদ সম্মেলন

বোয়ালমারী অফিস # ফরিদপুর-১ (বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী) আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা …